গরমে অতিষ্ঠ দেশবাসী, প্রখর তাপ থেকে কীভাবে নিজেকে রক্ষা করবেন, জানুন বিশেষজ্ঞদের মত

গরমের দাবদাহে মানুষের নাজেহাল অবস্থা। এসময় শরীরের দিকে সকলেরই বিশেষ যত্ন নিতে হয়। ঝাড়খন্ড, বিহার উড়িষ্যা, পশ্চিমবঙ্গে তাপ প্রবাহের জন্য লাল সর্তকতা জারি করেছে ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ।

উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলি তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা, গুজরাতেও হলুদ সর্তকতা জারি করা হয়েছে। এই সময় শরীরে দিকে বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

Summer

  • কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময়ে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি বা যারা গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছেন তাদের কিন্তু খুব সাবধানে থাকতে হবে। সেই সঙ্গে শরীরের বিশেষ যত্ন নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। কারণ উচ্চ তাপমাত্রার কারণে তাদের শরীর খারাপ হতে পারে। আর দিনের বেলা সূর্যের আলোয় একদমই বাড়ির বাইরে পা রাখবেন না। গত সপ্তাহের দিল্লিতে কিন্তু তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠেছিল তাপমাত্রা। তীব্র দাবদাহে সেখানকার বাসিন্দাদেরও নাজেহাল অবস্থা।

  • প্রতি বছর কত মানুষ অসুস্থ হন

সূর্যের তাপে প্রতি বছরই বহু মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেই হিসেবে দেখা গেছে, বিশ্বের আনুমানিক ২২. ৮৫ মিলিয়ন মানুষ পেশাগত কারণে বাইরে যাচ্ছেন এবং গরমের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। যার কারণে ১৮ হাজার ৯৭০ জন মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে।

  • কেন কিডনির রোগ বাড়ছে

বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা হলে তবুও নিজেকে সুস্থ রাখা যায়। তবে ৩৮ সেলসিয়াসের উপর যখনই তাপমাত্রা বাড়তে থাকে সে সময় শরীর অনেকেরই খারাপ হতে থাকে। তাপমাত্রা যখন ৪০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে ওঠে সেই সময় শারীরিক ক্ষতি হতে শুরু করে অনেকের। খাওয়ার ইচ্ছা কমে যায়, কিডনি ও অন্ত্রের সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। এমনকি শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হয়। সূর্যের এই প্রখর তাপে কারণে কার্ডিওভাসকুলার রোগ, কিডনিতে সমস্যাও বাড়ে। এই সময় কিডনিতে আক্রান্ত মানুষ সব থেকে বেশি হন। জানা গিয়েছে আমেরিকা, আফ্রিকার মতোন জায়গায় কৃষি শ্রমিকরা কিন্তু কিডনি ব্যর্থতার কারণে অনেকেই মারা যাচ্ছেন।

গরমে প্রভাবে আপনার শরীর যখন ভীষণ খারাপ লাগবে তখন কাজ করা এড়িয়ে চলবেন। তবে এ সময়ে উচ্চ তাপমাত্রার সময় কিন্তু ভারী কাজ করার ঝুকি এড়িয়ে চলাই দরকার। না হলে কিন্তু শরীর প্রচন্ড পরিমাণে খারাপ হতে থাকে।

  • হিটস্ট্রোক প্রতিরোধ করতে চিনে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে

২০১২ সালে চিনে কিন্তু হিটস্ট্রোক প্রতিরোধ করার জন্য নানান ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। যা আজও জারি রয়েছে। যখন তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাবে সেই সময় তারা দিনের বেলা কোনোও রকম কাজ করবেন না। ৩৫ ডিগ্রি থেকে ৪০ ডিগ্রি গরমের সময় সেখানকার কর্মীরা মোট ৬ ঘন্টার বেশি বাইরে কাজ করবেন না।

  • জার্মানিতে গরমের জন্য কী পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে

জার্মানিতে ঘরে তাপমাত্রা যদি ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয় তাহলে ঘরে যাতে বায়ু চলাচলাচল ভালো হয় তারদিকে নজর দিতে হবে। পোশাকের উপরেও তাদের নানান বিধি নিষেধ রয়েছে। এবং তারা যাতে সব সময় পাখার তলায় থাকতে পারেন সেই ব্যবস্থাও করা হয়।

  • গ্রিসে কোন সময়ে কোনও কর্মী কাজ করেন না

গ্রিসে যেখানে জাহাজ নির্মাণ মেরামতের কাজ করা হয় সেখানকার শ্রমিকদের বলা হয়েছে, তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পৌঁছাবে সে সময় দুপুর ২ টো থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত কোনও কাজ সেখানকার কর্মীরা করবেন না এবং ৩৮ ডিগ্রিতে যখন পৌঁছবে তাপমাত্রা তখন ১ টা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত কোনও কর্মচারী কাজ করবেন না।

  • কেন শরীর ডিহাইড্রেট হয়

এসময় গরমের কারণে অনেকেরই বমি বমি ভাব লাগে। আবার অনেকের প্রচুর বমি হয়। পেটব্যথা হয়। খাওয়ার ইচ্ছা থাকে না। শরীর ডিহাইড্রেট হতে থাকে। এমনকি হিটস্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে আপনাকে খাবার খেতে হবে। এবং প্রচুর পরিমাণে জল খেতে হবে।

  • কী বলছেন আয়ুর্বেদ অধ্যাপক

দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ আয়ুর্বেদের অধ্যাপক জানিয়েছেন, এই গরমের কারণে শরীরের বিপাকেও নানান রকম খারাপ প্রভাব পড়ে। এতে অন্ত্রের নানারকম সমস্যা দেখা দেয়। এই সময়ে খাওয়ার ইচ্ছা কারোর থাকে না। যে কারণে সকলেই খুব অসুস্থ বোধ করেন এবং সঠিক পুষ্টি সকলের শরীরের পৌঁছয় না। তাই তিনি পরামর্শ দিয়েছেন সময় মতো খাবার খেতে হবে। প্রচুর পরিমাণে জল খেতে হবে। যাদের দিনের বেলা কাজের জন্য বাইরে বেরোতে হয় তাদের শরীরে সঠিক পুষ্টির প্রয়োজন এবং জলের প্রয়োজন। এমনই পরামর্শ দিচ্ছেন আয়ুর্বেদ অধ্যাপক।

  • কী জানালেন হোমিওপ্যাথিক বিশেষজ্ঞ

সেন্ট্রাল কাউন্সিল ফর রিসার্চের হোমিওপ্যাথিক বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, যখন গরমের তাপে মানুষ ঘরের বাইরে পা রাখতে পারবেন না। সেসময় শরীরকে সবসময় ঠান্ডা রাখতে হয়। না হলে হিটস্ট্রোক ঝুঁকি বাড়তে থাকে। শুধু তাই নয়, এতে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি হতে পারে। মস্তিষ্ক, লিভারের উপর খারাপ প্রভাব পড়বে। এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়ে তাই শরীরের জন্য যত্ন নিন।

এ সময় সকলেরই হজমের নানান সমস্যা দেখা দেয়। উচ্চ রক্তচাপের শিকার হয়ে থাকেন অনেকেই। তাই এসময় শরীর ঠান্ডা রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

  • কেন বাড়ে সানস্ট্রোকের ঝুঁকি

সেন্ট্রাল কাউন্সিল ফর রিসার্চ ইন ইউনানী মেডিসিনের সহকারী পরিচালক জানান, এই গরমের সময় শরীরকে হাইড্রেট এবং সতেজ রাখতে হবে। যে কারণে সর্বদাই তরমুজ, শশা, ডালিম, পালং শাক, বাটার মিল্ক, লেবুর রস, ডাবের জল ইত্যাদি খাবেন। তাহলে আপনার সানস্ট্রোকের ঝুঁকি কমবে।

  • শরীর ঠান্ডা রাখতে কী খাবেন

এই সময় ডাবের জল খাবেন, কাঁচা আমের শরবত খাবেন। শরীর যাতে বেশি না ঘামে সেদিকে খেয়াল রাখবেন। শরীরকে ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করবেন। মধু খাবেন। টক জাতীয় ফল খাওয়ার চেষ্টা করবেন। যাতে ভিটামিন সি প্রচুর থাকে এবং ঘরের বাইরে যখন বেরোবেন তখন মুখে, মাথায় কাপড় বেঁধে তবেই ঘরের বাইরে বেরোবেন। কাজ না থাকলে ঘরের বাইরে বেরোবেন না। সূর্যের সংস্পর্শে না আসা দিনের বেলা ভালো।

  • কেমন পোশাক পড়বেন এই সময়ে

এসময় ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের তাদের সূর্যালোক থেকে দূরে রাখুন এবং অতিরিক্ত গরমে তাদের রাখবেন না। সবসময় পাখার তলায় রাখুন। যাতে তাদের শ্বাস প্রশ্বাস নিতে কষ্ট না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। এসময় সকলেই সুতির ঢিলেঢালা, হালকা পোশাক পরার চেষ্টা করুন।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+