কোলেস্টেরলের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে মেনে চলুন এই নিয়মগুলি
বর্তমানে ঘরে ঘরে কিন্তু কোলেস্টেরলের রোগী। কোলেস্টেরল বাড়লেও আমাদের শরীরে নানান রকম রোগের সৃষ্টি হয়। কোলেস্টেরল বাড়ার পেছনে অনেক কারণ রয়েছে যা আমরা হয়তো অনেকেই জানিনা। এমন অনেক খাবার আছে যেগুলি খেলে আমাদের শরীরে কিন্তু কোলেস্টেরল বাড়ে।
তাছাড়াও নিত্যদিন আমরা এমন অনেক আমরা কাজ করে থাকি যেগুলি হয়তো আমাদের না করলেই ভালো হতো বা অনিয়মিত জীবন জাঁতরাই আমাদের কোলেস্টেরলের মাত্রাকে বাড়িয়ে তোলে।

কয় ধরনের কোলেস্টেরল হয়
কোলেস্টেরল দুই ধরনের হয়ে থাকে। একটি হল LDL (এল ডি এল ) ও অপরটি হল HDL(এইচ এল ডি)। LDL কোলেস্টেরল হল লো ডেনসিটি, এতে রক্তের ঘনত্বের অনেক কম থাকে, আরেকটি হল HDL কোলেস্টেরল হল যেটিতে রক্তের ঘনত্ব অনেক বেশি থাকে। ইউএস সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের প্রতিবেদন অনুসারে জানা গিয়েছে, যে ব্যক্তির শরীরে কোরেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকে সেই ব্যক্তির হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের সম্ভাবনা থাকে।

রুটিন চেকআপে থাকুন
আমাদের মাসে একবার হলেও চেকআপের দরকার। যদি আমরা রুটিন চেকআপ না করি তাহলে আমাদের ভেতরে অনেক রকম রোগ বাসা বাঁধলেও তা আমরা বুঝতে পারব না। মাঝে মধ্যে রক্তের লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করা খুব দরকার। যখন শরীরে এলডিএলের মাত্রা বাড়তে থাকে তাহলে কিন্তু আপনার কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়তে থাকবে। নানান রকম ভয়ংকর রোগের সৃষ্টি হতে পারে। তাই এভাবে রুটিন চেকআপ কখনোই বন্ধ করবেন না। আপনার কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খেলে দ্রুত সুস্থ হবেন আপনি।

ওয়ার্কআউট করুন
প্রতিটি মানুষেরই সুস্থ থাকার জন্য নিত্যদিন ওয়ার্কআউটের খুব দরকার। তবে আমরা সকলেই কিন্তু ওয়ার্কআউট করি না। এতে কিন্তু আমাদের শরীরে অনেক সময় কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে না। তবে শুধুমাত্র ওষুধের উপর নির্ভর করে কোলেস্টেরল কে নিয়ন্ত্রণের না রেখে শারীরিকভাবেও কঠোর পরিশ্রম করলে কোলেস্টেরলের মাত্রা কিন্তু নিয়ন্ত্রণে থাকে। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৫০ মিনিটের বেশি শারীরিকভাবে পরিশ্রম করলে আপনার হৃদরোগের মতন ঝুঁকি কমবে, সেই সঙ্গে কোলেস্টেরলের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

বসে কাজ করলেও উঠে হাঁটুন
বর্তমান সময় সকলেই প্রায় কম্পিউটারে বসে কাজ করে থাকেন। তাই সকলেরই কাজের চাপে হয়তো হাঁটার সময় থাকে না। তবে অনেক চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, বেশিক্ষণ বসে থাকলে মোটা হবার প্রবণতা দেখা দেয়। শুধু তাই নয় শরীরে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার এটি একটি প্রধান কারণ। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে কোমরের চারপাশে চর্বি জমতে থাকে। আর এর ফলে এলডিএল অর্থাৎ খারাপ কোলেস্টেরল বাড়তে থাকে এবং এইচ ডি এল এর মাত্রা ক্রমশ শরীরে কমতে থাকে। অনেক সময় কাজ করতে করতে মাথা পেছনদিকে হেলানো বা সামনের দিকে ঝোঁকানো কিন্তু খারাপ।

ধূমপান এড়িয়ে চলুন
গবেষণায় দেখা গেছে, যে সকল ব্যক্তি প্রচুর পরিমাণে ধূমপান করেন, তারা কিন্তু উচ্চ কোলেস্টেরলের শিকার হন। শুধু তাই নয় সেই সকল ব্যক্তির ওজনও কিন্তু দ্রুত বাড়তে থাকে। ধূমপান করলে রক্তে এইচ ডি এল এর মাত্রা কমে যায় এবং ধমনীতে ফ্যাট দ্রুত জমতে থাকে। এতে অনেক সময় হার্ট অ্যাটাক হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
বর্তমান সময়ে আমরা সকলেই বাইরের ফাস্টফুড খেয়ে থাকি। তবে এতে আমাদের ক্রমশ শরীরে ওজন বৃদ্ধি হতে থাকে। ওজন বৃদ্ধি হলেও অনেক সময় আমাদের শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা প্রচুর পরিমাণে বাড়তে থাকে। তাই ওজনকে সর্বদাই নিয়ন্ত্রণে রাখা দরকার। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ১০ পাউন্ড অর্থাৎ ১০ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল শরীরে তৈরি হওয়া কিন্তু প্রচণ্ড খারাপ। তাই চিকিৎসকেরা বলছেন, দ্রুত ওজন কমান না হলে কোলেস্টেরলে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে আপনারও।

কীভাবে কোলেস্টেরলের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন
তবে ভাবছেন কীভাবে কোলেস্টেরলের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন, রুটিন চেকআপ করার আগে লিপিড প্রোফাইল চেক করুন। যদি আপনার কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকে তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। যদি সেখানে আপনার কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকে তাহলে ওষুধ খান। সেই সঙ্গে ডায়েটে থাকুন। হাঁটুন, কঠিন পরিশ্রম করুন। বসে থাকবেন না। বসে কাজ করলে অন্তত কুড়ি থেকে ত্রিশ মিনিট হাঁটুন। বসে থাকার পর একটু হাঁটাহাঁটি করবেন , এতে কিন্তু আপনার কোলেস্টেরলের মাত্রা কমবে। সেই সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শে খাবার খাবার খাবেন।
ছবি সৌ:পিক্সেলস












Click it and Unblock the Notifications