তীব্র গরমে শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের শরীর কীভাবে সুস্থ রাখবেন আপনি, জানুন
দেশজুড়ে কিন্তু গরমের দাবদাহ বাড়তে শুরু করেছে। এই সময়ে শরীরের দিকে বিশেষ যত্ন নেওয়া দরকার সকলের। তাই এই সময়ে শরীর ক্লান্ত লাগে। জলশূন্য হয়ে পড়ে। এর থেকে কিন্তু হিটস্ট্রোক পর্যন্ত হতে পারে। এই সময় বিশেষত শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরাও কিন্তু নানান রকম রোগে আক্রান্ত হয়।
তাই তাদের এসময় শিশুদের শরীরের তাপমাত্রাও কিন্তু বাড়তে থাকে। শরীরে জলের পরিমাণ কমতে থাকে। আবার বয়স্ক ব্যক্তিদেরও নানান সমস্যা বাড়তে থাকে। তাই এই গরমের সময় আপনি কীভাবে শিশু ও বাড়ির বয়স্ক ব্যক্তিদের নিরাপদে রাখবেন , কীভাবে নেবেন শরীরের যত্ন, জানুন।

শরীরকে হাইড্রেট রাখুন
শরীরকে হাইড্রেট রাখার চেষ্টা করুন। এই সময় নিয়মিত চার লিটার করে জল খাবেন। অবশ্যই ডাবের জল কিংবা নারকেলের জল খাবেন। এতে প্রচুর পরিমাণে ইলেকট্রোলাইট থাকে। যা আপনার শরীরকে সুস্থ রাখবে। শুধু তাই নয়, এসময় ক্যাফেইনযুক্ত বা চিনিযুক্ত কোনও খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলুন।
হালকা রঙের পোশাক পরুন
গরমের সময় বাড়ির শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের হালকা রঙের পোশাক পরান। সেই সঙ্গে ঢিলে ঢালা সুতির পোশাক পরাবেন। এতে তারা তাদের শরীর সুস্থ থাকবে। শরীর কিছুটা হলেও গরম থেকে রেহাই পাবেন। তারা ভালোভাবে শ্বাস নিতে পারবেন। ভুলেও এদের এই সময় সিন্থেটিক পোশাক তাঁদের পরাবেন না।
পুদিনা ও লেবুর শরবত খাওয়ান
আপনি আপনার বাড়ির শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের পুদিনা পাতা খাওয়াতে পারেন। যা কিন্তু স্বাস্থ্যের জন্য খুব ভালো। পুদিনা পাতা খেলে পেট ঠান্ডা থাকবে। যেমন পুদিনা চা খেতে পারেন, আবার স্যালাডেও পুদিনা দিয়ে খেতে পারেন। এটি তাঁদের হজম শক্তি বাড়াবে । শরীরের তাপ কমাতে সাহায্য করবে। এতে আপনার হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি কমবে। আবার আপনি লেবুও খাওয়াতে পারেন। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে। যা গরমকালে খেলে আপনার শরীরকে ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি শরীরের ডিহাইড্রেট হতে দেবে না। তাই লেবুর জলে কিংবা তাজা লেবুর রস খেতে পারেন। এতে শরীর কিন্তু আপনার ভালো থাকবে। এমনকি ত্বক ভালো থাকবে, উজ্জ্বল হবে।
এই সময়ে ঘরের বাইরে বেরোতে পারবেন না
এই তীব্র গরমে সকাল ১১ টা থেকে বিকেল ৪ টের মধ্যে বাইরে ঘরের বাইরে পা রাখা এড়িয়ে চলুন। তাদেরকেও কিন্তু বয়স্ক মানুষ শিশুদেরও কিন্তু ঘরের বাইরে বেরোতে দেবেন না। তাদের খেলার সময় কিংবা কাজের সময় তাদের অন্য সময় করুন। বিকেলের পর তাঁদের খেলতে নিয়ে যাবেন। কারণ এই সময় সূর্যের তাপে অনেকেরই শরীর খারাপ হয়ে যায়। হিটস্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি কিন্তু বেশি।
দই
দুধ হল প্রোবায়োটিক একটি খাবার। দই প্রতিটি ব্যক্তির রোজ খাওয়া উচিত। দইয়ে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ হয়। হাড় মজবুত করতেও দইয়ের জুড়ি মেলা ভার। তবে জানেন দই খেলে আপনার ত্বক উজ্জ্বল হবে। এটি আপনার হাড়কে মজবুত করার সঙ্গে সঙ্গে শরীর চনমনে রাখতেও সাহায্য করবে। তাই সারা বছর নিত্যদিন এক বাটি করে দই খাওয়ার চেষ্টা করুন।
কাঁচা আম
এই সময়ে আপনি তাঁদের শরীর সুস্থ রাখতে কাঁচা আম খাওয়াতে পারেন। যা আপনার শরীর থেকে টক্সিন বার করে দিতে সাহায্য করে। এটি শরীরের তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখতে দারুণ উপকারী। এই ফল খেলে আপনার হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে। এই সময়ে নুন দিয়ে কাঁচা আম খেতে পারেন।
রোদ ঢুকতে দেবেন না
গরমকালে ঘরে সরাসরি সূর্যের আলো প্রবেশ করতে দেবেন না। এতে ঘরের গরম কিন্তু বাড়তে থাকে। প্রয়োজনে আপনি ফ্যান চালান কিংবা এসি চালান। বারবার আপনার সন্তানের শরীর ঠান্ডা জল দিয়ে স্পঞ্জ করতে থাকুন। তাহলে তার গা কিন্তু খুব গরম হয়ে উঠবে না।
গাড়ির ভেতর রাখবেন না
গরমকালে গাড়ির ভেতর কিন্তু তাপমাত্রা হু হু করে বাড়তে থাকে। জানলা খোলা থাকলেও তাপমাত্রা কিন্তু বাড়ে। তাই গাড়ি যদি কোথাও থামান, তাহলে ভুলেও কিন্তু তার ভেতরে কাউকে রাখবেন না। বিশেষত শিশু বা বয়স্ক ব্যক্তিদের রাখবেন না। এতে তাদের শরীর খারাপ হয়ে যাওয়া সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আগেই সাবধান হোন আপনি।
প্রচুর জল খাওয়ান
যদি আপনার বাড়ির কোনও শিশু কিংবা বয়স্ক ব্যক্তির মাথা ঘোরে, ক্লান্ত লাগে, বমি বমি ভাব লাগে, ত্বক শুকিয়ে যায় তাহলে আগেই তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। তাঁর শরীরকে ঠান্ডা করুন শরীরকে হাইড্রেট রাখার চেষ্টা করুন। তাকে প্রচুর পরিমাণে জল খাওয়ান।
কী কী খাবার খাওয়াবেন
যদি আপনার বাড়ির সন্তান কিংবা বয়স্ক ব্যক্তির হঠাৎ শরীর খারাপ হয়। বিশেষত তাঁদের এই সময়ে প্রচুর পরিমাণে জল খাওয়াবেন। সেই সঙ্গে তরমুজ, শশা ও কমলালেবুর রস খাওয়ানোর চেষ্টা করবেন অর্থাৎ তাদের জলীয় খাবার খাদ্য তালিকায় রাখবেন। না হলে তাদের কিন্তু শরীর ক্রমশ খারাপ হয়ে যাবে। শরীরে অস্বস্তি হতে থাকে কিংবা প্রচুর পরিমাণে তারা ঘেমে যান। তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। না হলে কিন্তু তাদের শরীর কিন্তু আরও খারাপ হতে পারে।












Click it and Unblock the Notifications