আপনিও পালন করেন হোলি উৎসব, কিন্তু কেন? জানেন এই বিশেষ উৎসবের ইতিহাস, তাৎপর্য সম্পর্কে

শহরের মানুষের সঙ্গে গ্রাম বাংলার মানুষ যেন মিলেমিশে এক হয়ে যায়, এই উৎসব ধনী-দরিদ্র সকলের জন্য। এই উৎসবে গা ভাসিয়ে দেন সকলে। তবে আপনিও নিশ্চয়ই পালন করেন এই দোল উৎসব, জানেন কি কেন পালন করা হয় এই উৎসব

বসন্ত ঋতুতে সেজে ওঠে পরিবেশ, আকাশে-বাতাসে যেন লাগে রঙের ছোঁয়া, শুরু হয় দোল উৎসব। বাঙ্গালির কাছে এই দোল উৎসবের এক বিশেষ আবেগ রয়েছে। বছরের এই একটা দিনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকেন মানুষ। রামধ্নুর মতোন এই বিশেষ দিনে দেশবাসী রঙের খেলায় মেতে ওঠেন। শহরের মানুষের সঙ্গে গ্রাম বাংলার মানুষ যেন মিলেমিশে এক হয়ে যায়, এই উৎসব ধনী-দরিদ্র সকলের জন্য। এই উৎসবে গা ভাসিয়ে দেন সকলে। তবে আপনিও নিশ্চয়ই পালন করেন এই দোল উৎসব, জানেন কি কেন পালন করা হয় এই উৎসব, এই উৎসবের তাৎপর্যই বা কী, জানুন এই প্রতিবেদন থেকে।

কবে কোন সময়ে পালিত হবে হোলি উৎসব

কবে কোন সময়ে পালিত হবে হোলি উৎসব

চলতি বছরের ৭ ও ৮ তারিখ পালিত হবে দোল ও হোলি উৎসব। এই উৎসব দেশের অনেক জায়গাতেই বসন্ত উৎসব নামেও পরিচিত। হোলি উৎসবের আগের হোলি উৎসবের আগের দিন পালিত হয় ন্যাড়া পোড়া। প্রতিবছর ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এই দোল উৎসব পালন করা হয়। হোলির আগের দিনকে ছোট্টি হোলি নামেও পরিচিত। চলতি বছর ৭ মার্চ সন্ধ্যা ৬ টা ২৮ মিনিট থেকে শুরু হচ্ছে শুভ সময় যা চলবে রাত ৮ টা ৫১ মিনিট পর্যন্ত। আর ৮ মার্চ দোল উৎসবে মেতে উঠবেন সকলে। এই দিনের একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বলা হয় এই দিনে শীতকে বিদায় দেওয়া হয় এবং গ্রীষ্মকে স্বাগত জানানো হয়।

ইতিহাস

ইতিহাস

কথিত আছে, হিরণ্যকশিপু নামের এক রাজা তার সন্তানকে হত্যা করার চেষ্টা করেছিলেন। প্রহ্লাদ যখন রাজার দেওয়া আদেশ মানতে অস্বীকার করেছিলেন এবং ভগবান বিষ্ণুর কাছে তিনি প্রাথনা করছিলেন। তখন রাজা তার বোন হোলিকার সাহায্য নিয়ে ছিলেন। রাজার আদেশ মেনে তার বোন হোলিকা প্রহ্লাদকে নিয়ে আগুনে বসেছিলেন। কারণ আগুনকে প্রতিরোধ করার মতো ক্ষমতা ছিল তার, তবে সেই আগুনেই পুড়ে গিয়েছিলেন হোলিকা, তবে অক্ষত অবস্থায় ফিরে এসেছিলেন প্রহ্লাদ। তবে এখানেই ক্ষান্ত হননি রাজা, প্রহ্লাদ অক্ষত থাকলেও তাঁকে জীবন্ত পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। আর এর থেকেই পালিত হচ্ছে হোলিকা দহন বা ন্যাড়া পোড়া।

তাৎপর্য

তাৎপর্য

উত্তরভারতের অনেক জায়গায় এই দোল উৎসবের দিনে নানান ধরনের মিষ্টি তৈরি হয়। গুজিয়া, মালপোয়া, গাজরের হালুয়া তৈরি করে দেবতার সামনে তারা নিবেদন তারা করেন, আর পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে এই মিষ্টি দোল খেলে খেয়ে থাকেন। সেই সঙ্গে নানান ঠাণ্ডা পানীয়ও তারা খেয়ে থাকেন।

দেশজুড়ে পালিত হয় হোলি উৎসব। তবে সেই সঙ্গে ম্থুরাতেও এই উৎসব আড়ম্বরের সঙ্গে পালিত হয়। এটি ভগবান শ্রী কৃষ্ণের জন্মস্থান। দেশবিদেশ থেকে অনেক মানুষ এখানে হোলি উৎসবে আসেন। এই অনুষ্ঠান নয়দিন ধরে পালিত হয়। রঙ, আবির নিয়ে সকলে খেলেন। ম্থুরায় অবস্থিত বাঁকে বিহারীর মন্দিরে আড়ম্বরের সঙ্গে হোলি উৎসব পালিত হয়।

লাঠমার হোলি কি?

লাঠমার হোলি কি?

মথুরা জেলাতেই অবস্থিত বারসানা, এখানকার হোলি খেলা খুব বিশেষ। কথিত আছে এই জায়াগায় নাকি ভগবান কৃষ্ণ ও রাধা হোলি খেলে ছিলেন। তাছাড়া এখানেই পালিত হয় লাঠমার হোলি খেলা। এখানে খেলার ছলে মহিলারা পুরুষদের লাঠি দিয়ে মারেন। তবে এই হোলি খেলা দোলের কয়েকদিন আগে থেকেই শুরু হয়ে যায়।

হোল্লা মহল্লা কি?

হোল্লা মহল্লা কি?

পঞ্জাবে হোলি উৎসবের একটি বিশেষ নাম রয়েছে। 'হোল্লা মহল্লা' নামে পরিচিত এই উৎসব। এই অনুষ্ঠানটি তিনদিন ব্যাপী পালিত হয়। তবে হোলি উৎসব হয়ে যাওয়ার ঠিক একদিন পরেই এই উৎসব পালিত হয়। এই উৎসবটি প্রথম গুরু গোবিন্দ সিং প্রথম পালন করেছিলেন। শিখরা এই অনুষ্ঠানটি পালন করে থাকেন। এই অনুষ্ঠানে এখানে সকলে নানান বাজি ফাটিয়ে থাকেন।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+