দাদাকে রাখিতে নিজে হাতে রান্না করে খাওয়ান এই স্পেশাল রেসিপিগুলি
প্রতিবছর রাখি পূর্ণিমার জন্য অপেক্ষা করে থাকেন ভাই বোনেরা। চলতি বছর রাখি পূর্ণিমা পালিত হবে ১৯ অগাস্ট। এদিন ভাইবোনেদের বিশেষ দিন। ভাইদের হাতে রাখি পরিয়ে দাদাদের শুভ কামনা করেন বোনেরা।
এই রাখি পূর্ণিমায় আপনি আপনার দাদা বা ভাইকে এই বিশেষ রেসিপিগুলি রান্না করে খাওয়াতে পারেন। মাটন, চিকেন, ফিশ খাইয়ে দাদার মন জয় করুন। দেখুন তালিকায় কী কী রয়েছে ও কীভাবেই বা বানাবেন, দেখুন।

- খাসির মাংসের লাল ঝোল
আপনি কিন্তু খুব সহজেই আপনার দাদাকে খাসির মাংসের লাল ঝোল খাওয়াতেই পারেন। সঙ্গে যদি গন্ধরাজ লেবু আর লঙ্কা থাকে তাহলে কিন্তু দারুণ খেতে লাগবে। বানাতে কী কী লাগছে, দেখুন।
লাগছে খাসির মাংস, আলু, পেঁয়াজ, কুচি, রসুন বাটা, আদা বাটা, লঙ্কা বাটা, তেজপাতা, জিরে গুঁড়ো, ধনে গুঁড়ো, শুকনো লঙ্কা গোটা, গরম মশলা, নুন, চিনি, মিট মশলা, তেল ও ঘি দিন।
- কীভাবে বানাবেন দেখুন
প্রথমে মাংস ভালোভাবে ধুয়ে আদা, রসুন লঙ্কা, পেয়াজ কুচি সরষের তেল দিয়ে মেখে অন্তত এক ঘন্টা রেখে দিন। তারপর কড়াইতে তেল গরম করে আলুগুলোকে ভালোভাবে নুন দিয়ে ভেজে তুলে রাখুন। তারপরে তাতে সামান্য জিরে, তেজপাতা, শুকনো লঙ্কা, গোটা গরম মশলা ফোড়ন দিন।
তারপরে তাতে পেঁয়াজ কুচি, আদা কুচি, রসুন বাটা দিয়ে ভাজতে থাকুন। মাখানো মাংস দিয়ে ভালোভাবে কষিয়ে নিন। তারপরে কিছুটা জিরা গুঁড়ো দিয়ে ভালোভাবে কষান। তারপরে তাতে উষ্ণ গরম জল দিয়ে ঢেকে রাখুন। যতক্ষণ না সেদ্ধ হয় ততক্ষণ ঢেকে রাখুন। হয়ে গেলে আপনি তাতে সামান্য মিট মশলা দিয়ে নামিয়ে নিন।
- সাদা পোলাও
যদি আপনার দাদা পোলাও খেতে ভীষণ পছন্দ করেন, তাহলে কিন্তু এবার বানাতেই পারেন সাদা পোলাও। কীভাবে বানাবেন, দেখুন বানাতে লাগছে, বাসমতি চাল, ঘি, এলাচ, লবঙ্গ, দারচিনি, তেজপাতা, আদা কুচি, কাঁচা লঙ্কা, চিনি, কাজু, কিশমিশ, নুন।
প্রথমে বাসমতি চাল ভালোভাবে ধুয়ে জল ঝড়িয়ে নিন। তারপর গোটা গরম মশলা, তেজপাতা, আদা কুচি একসঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে আধঘন্টা রেখে দিন। তারপর কড়াইতে অল্প করে ঘি, কাজু, কিশমিশ দিয়ে হালকা ভেজে তুলে রাখুন। তারপর চালটা দিয়ে পাঁচ থেকে ছয় মিনিট ভাজুন।
তারপর যা চাল দেবেন তার থেকে দ্বিগুণ পরিমাণ জল দিয়ে ভালোভাবে সেদ্ধ করুন। স্বাদ অনুযায়ী নুন দিয়ে ঢাকা দিয়ে রাখুন ১৫ মিনিট। ঢাকনা খুলে দেখুন চাল সেদ্ধ হয়েছে কিনা।
৯০ শতাংশ সেদ্ধ হয়ে গেলে তাতে কাজু, কিশমিশ, চিনি আর কাঁচালঙ্কা চিরে দিয়ে দিন। তারপর অল্প আঁচে ঢেকে সামান্য ঘি দিয়ে নামিয়ে নিন। দেখতেও যেমন সুন্দর লাগবে, খেতেও কিন্তু অসাধারণ লাগবে।
- চিকেন কোরমা
আপনার দাদা বা ভাই মটন খেতে পছন্দ না করেন তাহলে কিন্তু আপনি চিকেন কোরমা বানাতেই পারেন। চিকেন কোরমা বানাতে আপনার কী কী লাগছে, দেখুন। মুরগির মাংস, সাদা তেল, কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো, আদা।
রসুন বাটা, নুন, লঙ্কাগুড়ো, টক দই, দারচিনি, বড় ছোট এলাচ, গোটা জিরে, লবঙ্গ, গোলমরিচ, তেজপাতা, শুকনো লঙ্কা, দারচিনি, কাজু, কিশমিশ, চারমগজ, আমন্ড, আদা, রসুন, কাশ্মীরি লঙ্কা, জয়ত্রী, জায়ফল, ঘি, কাঁচালঙ্কা, উষ্ণ গরমজল।
বানানোর নিয়ম-প্রথমে মাংস ভালোভাবে ধুইয়ে জল ঝরিয়ে নিয়ে তাদের পরিমাণ মতো নুন, লঙ্কা গুঁড়ো, হলুদ, আদা, রসুন বাটা, কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো, দই দিয়ে ভালোভাবে মেখে অন্তত দু থেকে তিন ঘন্টা ফ্রিজে রেখে দিন।
তারপর কড়াইতে তেল দিয়ে পেঁয়াজ গুলোকে ভালোভাবে ভেজে বারিস্তা করে তুলে রাখুন। তারপর ঠাণ্ডা হলে যেটি মিক্সিতে ভালোভাবে পেস্ট করে নিন। তারপরে তাতে কাজু, কিশমিশ ,আমণ্ড, চারমগজ জলে ভিজিয়ে রাখুন। সঙ্গে সামান্য নারকেল কোরাও জলে ভিজিয়ে রাখুন।
তারপর একটি পাত্রে গোটা জিরে, ছোট এলাচ, লবঙ্গ, দারচিনি হালকাভাবে ভেজে গোটা মশলা ভালোভাবে গুঁড়ো করে নিন। তারপরে কড়াইতে তেজপাতা, শুকনো লঙ্কা, দারচিনি, লবঙ্গ ফোড়ন দিন তারপর হালকা ভেজে নিয়ে আদা বাটা, রসুন বাটা, দিয়ে ভালোভাবে ভেজে নিন। তারপরে ভালোভাবে নাড়ুন। সেই সঙ্গে বাদাম বাটা, নারকেল বাটাও দিতে পারেন।
তারপরে মাংস দিয়ে ভালোভাবে নাড়তে থাকুন। মাংস কষা হয়ে গেলে সামান্য পরিমাণ জল দিয়ে ভালোভাবে আর কিছুটা পরিমাণ বেরেস্তা দিয়ে ভালোভাবে নাড়ুন। মাংস সেদ্ধ হয়ে এলে কাঁচা লঙ্কা দিয়ে আপনি গ্যাস বন্ধ করে রেখে দিন। যা কিন্তু খেতে অসাধারণ লাগে।
- ফ্রিশ ফ্রাই
আপনি কিন্তু আপনার ভাইকে অবশ্যই রাখিতে খাওয়ান ফিশ ফ্রাই। যা খেতে খেতেও পছন্দ করে সকলে। বানাতে লাগবে- ভেটকি মাছ, পাতি লেবু, ধনেপাতা, আদা, রসুন বাটা, লঙ্কা বাটা, গোলমরিচ গুঁড়ো, নুন, ডিম, কনফ্লাওয়ার, বিস্কুটের গুঁড়ো, তেল। কিভাবে বানাবেন, দেখুন।
প্রথমে মাছের ফিলেগুলো ভালোভাবে ধুয়ে নিন। তাতে পাতিলেবুর রস, নুন, গোলমরিচ মাখিয়ে রেখে দিন দশ থেকে ত্রিশ মিনিট। তারপর সমস্ত বাটা মশলা দিয়ে ফিলে গুলোর মধ্যে মাখিয়ে রেখে দেবেন তিন থেকে চার ঘন্টা।
তারপর অন্য পাত্রে একটি ডিম ফেটিয়ে নিন। তাতে দিন কিছুটা পরিমাণ কনফ্লাওয়ার। আবার ভালো করে ফেটিয়ে নিন। ভালোভাবে ফেটানো হয়ে গেলে ম্যারিনেট করা মাছগুলো ডিম ও কনফ্লাওয়ার গোলায় ভালোভাবে দিয়ে তুলে নিন।
তারপরে বিস্কুটের গুঁড়োতে আরেকবার এই মাছের ফিলেগুলো দিয়ে নিন। তারপরে দু’ পিঠ ভালো করে কোড করে নিন। অন্য কড়াইতে তেল ভালো করে গরম করে দিয়ে দিন ফিলগুলো। তারপর ভেজে নিন। সোনালী না হওয়া পর্যন্ত ভাজতে থাকুন।












Click it and Unblock the Notifications