লক্ষাধিক যুবকের কাজের দিশা দেখালেন রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী, প্রশিক্ষণের সময়ে মিলবে পারিশ্রমিকও
লক্ষাধিক যুবকের কাজের দিশা দেখালেন রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী, প্রশিক্ষণের সময়ে মিলবে পারিশ্রমিকও
একটা সময় দেশের জুট শিল্পের রাজধানী বলা হতো বাংলাকে। হুগলি নদীর চারপাশে ছিল জুট শিল্পের রমরমা। কিন্তু কালের নিয়মে আজ সব অতীত। প্রতিযোগিতার বাজারে ক্রমশ পিছিয়ে পড়েছে এই শিল্প। ফলে নদীর ধারে বন্ধ হয়েছে একের পর এক কারখানা।

অন্যদিকে পাহাড় প্রমাণ খরচ জুট শিল্পে ধসের অন্যতম কারণ হিসাবে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। শুধু তাই নয়, শ্রমিক সমস্যাও অন্য আরও একটি মুল কারণ এই শিল্পে ধস নামার ক্ষেত্রে। তবে নতুন করে সরকারি উদ্যোগে ক্রমশ বাড়ছে চাহিদা। প্লাস্টিকের বিকল্প হিসাবে ফের একবার জায়গা করে নিচ্ছে জুট।
সম্প্রতি একটি ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হয়। পশ্চিমবঙ্গ শ্রম দফতরের পক্ষ থেকে জুট শিল্পগুলিতে শ্রমিক ঘাঁটিতে মেটাতে এই ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হয় রাজ্যের তরফে। সেই অনুষ্ঠানে যোগ দেন সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রী বেচারাম মান্না। শুধু তিনিই নয়, পশ্চিমবঙ্গ শ্রম দফতরের বিভিন্ন আধিকারিক ও শ্রমিক সংগঠনের বিভিন্ন প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন এই অনুষ্ঠানে।
আর সেখানেই রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী বেচারাম মান্না কার্যত স্বীকার করে নেন যে, দিনদিন শ্রমিক সংখ্যা কমে আসছে। তবে এই ঘাটতি আমাদের মেটাতে হবে বলে দাবি রাজ্যের মন্ত্রীর। কিন্তু কীভাবে? এর উপায় বলে দিয়েছেন মন্ত্রী বেচারাম। তাঁর দাবি, শ্রমিক সঙ্কট মেটাতে উপযুক্ত ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করতে হবে।
আর এর জন্য যথোপযুক্ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি শ্রম দফতর। এমনটাই দাবি তাঁর। শুধু তাই নয়, মন্ত্রীর আরও দাবি, অন্যান্য শিল্পের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জুট শিল্পেও যুবকরা নির্দিষ্ট ট্রেনিং নিয়ে খাদ্যদ্রব্যের প্যাকেজিং সহ একাধিক ক্ষেত্রে জুট শিল্পের উন্নয়ন ঘটাবে। শ্রম দফতর সদাসর্বদা সেদিকে লক্ষ্য রাখছে বলে দাবি শ্রমমন্ত্রী। আগামীদিনে প্রশিক্ষণ চলাকালীন যুবকদের উপযুক্ত পারিশ্রমিক দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
কর্মসংস্থানে একটা নতুন দিক খুলে যাবে বলেও দাবি তাঁর। তবে প্রতিনিধিদের প্রশ্নের উত্তরে শ্রমমন্ত্রী বলেন, কত টাকা দেওয়া হবে, কীভাবে দেওয়া হবে ইউনিয়ান নেতানেত্রীদের সঙ্গে আমরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব। তবে মন্ত্রী জানিয়েছেন, আমরা নতুন করে লক্ষাধিক যুবকের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জুট ইন্ডাস্ট্রিতে নিয়োগের ব্যবস্থা অতি সত্বর করব।
আর এখানেই প্রশ্ন উঠেছে যে করোনা চলাকালীন এই ধরনের উদ্যোগ কতটা ফলপ্রসূ হবে? শুধু তাই নয়, বেচারাম বাবুর এই সমস্ত প্রতিশ্রুতি পালন কি আদৌ সম্ভব হবে? তা নিয়েও এদিন প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। তবে মন্ত্রী বেচারাম এও জানান, আমাদের সব রকম বাধা অতিক্রম করে জুট ইন্ডাস্ট্রিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তিনি জানান প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে পশ্চিমবঙ্গের সাড়ে পাঁচ লক্ষ থেকে সাড়ে ছয় লক্ষ কর্মী যুবকের অন্নসংস্থানের ব্যবস্থা রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications