আইটি সেক্টরে আকর্ষণীয় চাকরি, চলতি বছরেই পুরনো সংস্থা ছেড়ে নতুন সংস্থায় যেতে পারেন ১০ লক্ষ কর্মী
আইটি সেক্টরে আকর্ষণীয় চাকরি, চলতি বছরেই পুরনো সংস্থা ছেড়ে নতুন সংস্থায় যেতে পারেন ১০ লক্ষ কর্মী
অন্যান্য ক্ষেত্রে চাকরির বাজার খারাপ থাকলেও মন্দার ছাপ বিশেষ পড়েনি তথ্য-প্রযুক্তি ক্ষেত্রে। উল্টে আম-আদমির জীবন আরও অনেক বেশি ডিজিট্যাল নির্ভর হয়ে পড়েছে। প্রায় সমস্ত কোম্পানি এবং সরকারি কাজ পর্যন্ত আজ অনলাইনে হচ্ছে। ফলে দিন দিনে বেড়েছে দক্ষ তথ্য-প্রযুক্তি কর্মীর চাহিদা। যার জেরে দক্ষ কর্মী নিয়ে দড়ি টানাটানি শুরু হয়েছে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে। এমনকী আকর্ষণীয় বেতন প্যাকেজ সহ একাধিক কারণে বারেবারে সংস্থা বদলও করছেন লক্ষ লক্ষ কর্মী।

বারেবারেই বদলাচ্ছেন সংস্থা
পরিসংখ্যান বলছে চলতি অর্থবছরে বারেবারে সংস্থা বদলেছেন এমন তথ্য প্রযুক্তি কর্মীর সংখ্যা ১১ লক্ষ ছাড়িয়ে যেতে পারে। যার সর্বাধিক প্রভাব পড়েছে বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদের মতো টেক হাব গুলিতে। এদিকে করোনা ফাঁস একটু আলগা হতেই নতুন উদ্যমে কর্মী নিয়োগ শুরু করেছে একাধিক তথ্য প্রযুক্তি সংস্থা। সেখানে নতুন ছেলেমেয়েরা যেমন কাজ পাচ্ছে তেমনই অভিজ্ঞতা সম্পন্ন পেশাদারেরা দ্রুত বদলে ফেলছেন সংস্থা।

কর্মীর চাহিদা বেড়েছে প্রায় ৪০০ শতাংশ
পরিসংখ্যান এও বলছে করোনা পরবর্তী পরিস্থিতিতে তথ্য ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে কর্মীর চাহিদা বেড়েছে প্রায় ৪০০ শতাংশ।যদিও করোনা অতিমারির বাড়বাড়ন্তের সময়ে তথ্য ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে নতুন চাকরির সুযোগ প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গিয়েছিল। যদিও গত কয়েক মাসে অন্যান্য ক্ষেত্রে মন্দা দশা জারি থাকলেও ফের আগের অবস্থায় ফিরতে শুরু করে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রগুলি। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সবথেকে বেশি চাহিদা বেড়েছে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে।

কোন ধরণের বিশেষজ্ঞদের কাজের সুযোগ বাড়ছে
অন্যদিকে তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টরের বিভিন্ন শাখার মধ্যে অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপার, লিড কনসালট্যান্ট, সেলসফোর্স ডেভেলপার এবং সাইট রিলায়েবিলিটি ইঞ্জিনিয়দের চাহিদা গত কয়েক মাসে অনেকটাই বেড়েছে। ফলস্বরূপ এই সেক্টররের লোকজনই সবথেকে বেশি পুরনো সংস্থা ছেড়ে আরো ভালো কাজের আশায় নতুন সংস্থায় নাম লিখিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। শুধুমাত্র অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপার, লিড কনসালট্যান্ পদে ১৫০-৩০০ শতাংশ চাকরির সুযোগ বেড়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

কোন কোন শহরে সবথেকে বেশি কাজের সুযোগ
এদিকে বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে ২০২২ সালে কর্মীদের বেতন সংক্রান্ত বিষয়ে ১৬০ কোটি থেকে ১৭০ কোটি ডলার পর্যন্ত খরচ করতে পারে তথ্য ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রগুলি। সব থেকে বেশি কাজের সুযোগ রয়েছে বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, চেন্নাইয়ের মতো শহরগুলিতে। দেওয়া হচ্ছে আকর্ষণীয় বেতন প্যাকেজ সহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধাও। আর তাতেই ক্রমশ প্রতিযোগিতার মার্কেটে পিছিয়ে পড়ছে ছোট থেকে মাঝারি মাপের সংস্থাগুলি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সায়েন্সে বাড়ছে কাজের চাহিদা
অন্যদিকে শ্রম শিল্পের শীর্ষ সংস্থা ইন্ডিয়ান স্টাফিং ফেডারেশন (আইএসএফ) বলেছে, ডিজিটাল দক্ষতার চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সায়েন্স, ক্লাউড কম্পিউটিং, তথ্য নিরাপত্তা এবং ব্লকচেইন বিশেষজ্ঞদের চাহিদা হু হু করে বাড়ছে।অন্যদিকে কেন্দ্রের রিপোর্ট বলছে, ২০১৩-১৪ অর্থবর্ষের তুলনায় বর্তমানে এ বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে অর্থাৎ এপ্রিল থেকে জুনে গোটা দেশের কর্মসংস্থান ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তারমধ্যে সবথেকে বেশি চাকরি হয়েছে তথ্য-প্রযুক্তি ক্ষেত্রে।












Click it and Unblock the Notifications