এপ্রিল মাসে ভারতে কাজ হারিয়েছেন প্রায় ১২ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ, দাবি নতুন সমীক্ষার

ভারতে করোনা ভাইরাস লকডাউনের মধ্যে দেশের বারো কোটিরও বেশি মানুষ তাদের চাকরি বা কাজকর্ম হারিয়েছেন বলে একটি সমীক্ষায় বলা হয়েছে। দেশের প্রথম সারির থিঙ্কট্যাঙ্ক সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমির গবেষণা জানাচ্ছে, শুধুমাত্র গত মাসেই ভারতে ১২ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন, যার বেশির ভাগই ছিলেন দিনমজুর কিংবা ছোটখাটো ব্যবসায় কর্মরত শ্রমিক।

সংস্থা বা কারখানার অনিশ্চয়তার জন্যই কাজ হারাচ্ছেন কর্মীরা

সংস্থা বা কারখানার অনিশ্চয়তার জন্যই কাজ হারাচ্ছেন কর্মীরা

লেদ মেশিন কারখানায় গত ১২ বছর ধরে কাজ করছিলেন পবন যাদব। ১৮ বছর বয়স থেকে তিনি এখানে কাজ শুরু করেন। কিন্তু গত মাসেই দিল্লির গোবিন্দপুর এলাকার কারখানা থেকে তাঁর চাকরি চলে যায়। তবে শুধু পবন যাদবই নয় তাঁর মতো লক্ষ লক্ষ কর্মীর কাছে এপ্রিল মাসটা খুবই কঠিন মাস ছিল। পবন বলেন, ‘‌গত মাসে একদিন মালিকের ছেলে ফোন করে জানান যে আমি মার্চ মাসের মাইনে নিয়ে কাজ যেন ছেড়ে দিই কারণ তারা নিজেরাও জানেন না কতদিন এই কারখানা তাঁরা চালাতে পারবেন এবং এটাই কারণ ছিল।'‌

১২ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ বেকার

১২ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ বেকার

পবন যাদব একা নন, সিএনআই-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত মাসে ১২২ মিলিয়ন ভারতীয় কাজ হারিয়েছেন। দেশে ১৫ মার্চ পর্যন্ত যেখানে বেকারত্বের হার ছিল ৬.‌৭ শতাংশ এবং এপ্রিলে তা নেমে দাঁড়িয়েছে ২৪ শতাংশ। অর্থনীতিবিদরাও সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই কর্মহীন মানুষের সংখ্যা দিনে দিনে আরও বাড়বে এবং শুধু শহরে নয়, এর মারাত্মক প্রভাব পড়তে চলেছে ভারতের গ্রামীণ অর্থনীতিতেও।

এপ্রিলের শেষে কাজ হারিয়েছে বহু মানুষ

এপ্রিলের শেষে কাজ হারিয়েছে বহু মানুষ

দু'‌মাস আগে গোটা ভারত জুড়ে যখন আচমকা লকডাউন জারি করা হয়েছিল, মাত্র চার ঘন্টার নোটিশে কার্যত থেমে গিয়েছিল অর্থনীতির চাকা। আবাসন শিল্পে কর্মরত লক্ষ লক্ষ শ্রমিক, রাস্তার পাশে ছোটখাটো দোকানের কর্মী, ঠেলাওলা বা রিক্সাওলা, সবার রুটিরুজি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল রাতারাতি। ভারতের নামী গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিএমআইই-এর সমীক্ষা বলছে, এপ্রিলের শেষেই দেশে এই ধরনের কাজ হারানো লোকের সংখ্যা গিয়ে ঠেকেছে প্রায় সোয়া বারো কোটিতে।

পেটে ভাত নেই এই কর্মহীনদের

পেটে ভাত নেই এই কর্মহীনদের

সিএমআইই-এর সিইও মহেশ ব্যাস বলেন, ‘‌এই যে ১২ কোটি ২০ লক্ষ মানুষের হাতে কাজ নেই, এদের একটা বিরাট অংশ, অন্তত ৯ কোটি ১০ লক্ষ মানুষের আজ কাজ না থাকলে পরের দিনের ভাত জোটে না। ফলে দেশের জনসংখ্যার একটা বিশাল অংশ এখন চরম দারিদ্র আর অনাহারের সম্মুখীন। ভাইরাসের বিপদের সঙ্গে এই সংখ্যাটার তুলনা করলে আমাদের কিছু অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতেই হবে। আর শুধু এই অসহায় মানুষগুলোই নয়, বহু বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানও পরিস্থিতি সামলাতে পারছে না, যারা এতকাল বাঁধাধরা মাইনে পেয়ে এসেছেন তাদের ওপরেও কিন্তু আঘাত আসছে।'‌ প্রসঙ্গত, লকডাউনের জেরে ভারতে মারুতি বা মাহিন্দ্রার মতো অটোমোবাইল জায়ান্টের কারখানায় উৎপাদন যেমন থেমে গেছে, তেমনি দিল্লিতে মল কিংবা রাস্তার পাশে চায়ের দোকান, সাপ্তাহিক হাটবাজার সবই বন্ধ হয়েছে। সিএমআইই জানিয়েছে, অসংগঠিত খাতের কোটি কোটি শ্রমিক গাঁয়ে ফিরে আসায় গ্রামীণ অর্থনীতিও অবধারিত সঙ্কটে পড়তে যাচ্ছে। ফলে ভারতে লকডাউন দুদিন বা দুমাস পরেই উঠুক, শহরে বা গ্রামে অর্থনীতির চাকাকে আবার সচল করে তোলা এর মধ্যেই একটা দুঃসাধ্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+