বিজেপিতে ক্রমেই ব্রাত্যের দলে দিলীপ, সুকান্ত-শুভেন্দু সমীকরণে শুরু বিস্তর জল্পনা
একুশের নির্বাচনের পরে বঙ্গ বিজেপির সভাপতির পদ থেকে অপসারিত হয়েছেন দিলীপ ঘোষ। দিলীপ ঘোষের ব্যাটন তুলে দেওয়া হয়েছে তরুণ-তুর্কি সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের হাতে।
একুশের নির্বাচনের পরে বঙ্গ বিজেপির সভাপতির পদ থেকে অপসারিত হয়েছেন দিলীপ ঘোষ। দিলীপ ঘোষের ব্যাটন তুলে দেওয়া হয়েছে তরুণ-তুর্কি সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের হাতে। উত্তরবঙ্গের সুকান্ত হয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি আর আগেই দক্ষিণবঙ্গের শুভেন্দুকে করা হয়েছে বিরোধী দলনেতা। দুই তরুণ-মুখের উপর এখন ভরসা বঙ্গ বিজেপির। দিলীপ ঘোষ ক্রমেই ব্রাত্য হচ্ছেন বিজেপিতে।

দিলীপ ঘোষ কি ক্রমেই রাহুল সিনহাদের মতো ব্রাত্য হবেন
সম্প্রতি বঙ্গ বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার ও বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ছবি দিয়ে হোর্ডিং পড়েছে। সেই হোর্ডিং নিয়েই জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে কি বঙ্গ বিজেপি এখন যৌথ নেতৃত্বেই চলবে? সুকান্ত-শুভেন্দুর হাতেই ব্যাটন থাকবে বঙ্গ বিজেপির? দিলীপ ঘোষ কি ক্রমেই রাহুল সিনহাদের মতো ব্রাত্য হয়ে থাকবেন বিজেপিতে?

দিলীপ ঘোষের পরিবর্তে সুকান্ত-শুভেন্দু সামনে
একুশের নির্বাচনের পর বিজেপি নতুন নেতৃত্বের খোঁজে ছিল। ২০২৪-এর নির্বাচন ও আসন্ন পুরসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে নয়া নেতৃত্বকে সামনে এনে বিজেপি ঝাঁপিয়ে পড়তে চায়। সেই লক্ষ্যেই দিলীপ ঘোষের পরিবর্তে সুকান্ত মজুমদারকে সামনে আনা। আর শুভেন্দু অধিকারী আছেন পরিষদীয় নেতা। তাঁদেরকেই যে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, সাম্প্রতিক প্রকাশিত হোর্ডিংয়ে সেই বার্তাই দেওয়া হয়েছে।

দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে বিজেপির উত্থানের সূত্রপাত
এ নিয়ে কোনও বিতর্ক নেই যে, ২০১৫ সালে দিলীপ ঘোষ নেতৃত্বে আসার পর থেকেই বিজেপির উত্থানের সূত্রপাত হয়। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তেমন কোনও সুবিধা করতে না পারলেও ২০১৮ থেকে বিজেপি প্রভাব বাড়াতে শুরু করে। তার প্রতিফলন দেখা যায় ওই বছরই পঞ্চায়েত নির্বাচনে। পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রান্তিক জেলাগুলিতে অভূতপূর্ব ফলাফল করে বিজেপি। উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে বিজেপির ফল ভালো হয়।

দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে ২০২১-এ স্বপ্ন দেখেছিল বিজেপি
এখানেই শেষ নয়, ২০১৯-এ বিজেপি তৃণমূলকে চমকে দিয়ে অসাধারণ ফল করে লোকসভা নির্বাচনে। সেই ফলাফলই দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে বিজেপিকে ২০২১-এ বঙ্গ জয়ের স্বপ্ন দেখাতে শুরু করে। সেই নিরিখে তৃণমূলে ভাঙন ধরাতেও সফল হয় বিজেপি। কিন্তু তারপরও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তার ভর করে তৃণমূল কংগ্রেস জনসমর্থন বেশি পায়। বিপুল আসনে জিতে ২০২১-এ ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস।

সুকান্ত মজুমদারকে বঙ্গ বিজেপির ব্যাটন ধরিয়ে দেওয়া হয়
বিজেপি ২০০ আসনের স্বপ্ন নিয়ে নির্বাচনী যুদ্ধে সামিল হয়েছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়। ১০০ আসনও ছুঁতে পারেনি কেন্দ্রের শাসক দল। ৭৭-এই থমকে যায় তারা। প্রায় তিনগুণ আসন নিয়ে তৃণমূলে ক্ষমতায় ফেরে। এই অবস্থায় দিলীপ ঘোষের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠে যায়। তাঁকে প্রায় না জানিয়েই রাতারাতি সুকান্ত মজুমদারকে বঙ্গ বিজেপির ব্যাটন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

সুকান্ত মজুমদারের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী জুটি বিজেপির
দিলীপ ঘোষ ও সুকান্ত মজুমদারকে দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়। দিলীপ ঘোষকে এখনও পর্যন্ত কোনও নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। তারপর সুকান্ত মজুমদারের সঙ্গে যেভাবে শুভেন্দু অধিকারীকে গুরুত্ব দেওয় হচ্ছে, তেমনটা দেওয়া হচ্ছে না দিলীপ ঘোষকে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, সুকান্ত মজুমদারের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীকে জুড়ি দিয়ে তরুণ-তুর্কি দুই নেতাকে সামনে রেখে বিজেপি আসন্ন নির্বাচনে লড়তে চাইছে।

দিলীপ ঘোষ পিছনের সারিতে সরতে শুরু করেছেন
দিলীপ ঘোষ নেতৃত্বে আসার পর যেভাবে রাহুল সিনহা পিছনের সারিতে চলে গিয়েছিলেন, তেমনই সুকান্ত মজুমদার দায়িত্বে আসার পর দিলীপ ঘোষ পিছনের সারিতে সরতে শুরু করেছেন। এর ফলে বঙ্গ বিজেপিতে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের সমন্বয়ে যৌথ নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব লড়তে চাইছে আসন্ন উপনির্বাচন, পুরসভা, পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনও। তারই ফলশ্রুতি হল ওই এক হোর্ডিংয়ে সুকান্ত মজুমদার ও শুভেন্দু অধিকারীর ছবি।

দিলীপের নাম সরিয়ে চলে আসেন সুকান্ত
বিধানসভা নির্বাচনের আগে শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে আসার পর দিলীপ ঘোষের সঙ্গে মিলে একটা সমন্বয় তৈরি করতে চেয়েছিল। প্রচারে বারবার শুভেন্দু ও দিলীপকে শোনা গিয়েছে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ার কথা। বালুমাটির শুভেন্দু আর লালমাটির দিলীপ ঘোষ হাত মিলিয়েছে, এবার আর রক্ষা নেই তৃণমূলের- এ জাতীয় কথাও নির্বাচনী বাজারে হিট হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের পর দিলীপের নাম সরিয়ে চলে আসেন সুকান্ত। তাতেই জল্পনা দিলীপ ঘোষ বিজেপিতে ব্রাত্যের তালিকায় চলে যেতে শুরু করেছেন।












Click it and Unblock the Notifications