ঘূর্ণিঝড় ফ্রেডি ধেয়ে চলেছে গতি বাড়িয়ে! অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে খানখান
রেকর্ড ব্রেকিং ঝড় ফ্রেডি! এই ঘূর্ণিঝড় অতীতেত সব রেকর্ড ভেঙে খানখান করে দিয়েছে। দিনের পর দিন তাণ্ডবলীলা চালিয়ে যাচ্ছে ফ্রেডি। কেন এমন রুদ্রমূর্তি ধারণ করল? কারণ অনুসন্ধানে নেমে আবহবিদরা মনে করছেন জলবায়ু পরিবর্তনের ফলেই ঘূর্ণিঝড় ফ্রেডি এমন লম্বী ইনিংস খেলছে।

রেকর্ড ব্রেকিং ঘূর্ণিঝড় ফ্রেডি
এই ঘূর্ণিঝড়কে রেকর্ড ব্রেকিং আখ্যা দেওয়া হয়েছে। তার কারণ এই ঘূর্ণিঝড় যত প্রসারিত হচ্ছে, ততই শক্তি বাড়িয়ে চলছে। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে শক্তি সংগ্রহ করে শক্তিশালী ঝড়ে পরিণত হয়েই শেষ হয়নি যাত্রা। ইতিমধ্যেই সর্বকালীন রেকর্ড গড়ে ফেলেছে অতীতেত রেকর্ড ভেঙে দিয়ে।

৩৭ দিন অতিক্রান্ত, বয়ে চলেছে ফ্রেডি
বর্তমান রেকর্ডটি ঠিল ১৯৯৪ সালের। ৩১ দিন ধরে হারিকেন বয়েছিল। সেটিই ছিল ঘূর্ণিঝড়ের ইতিহাসে দীর্ঘকালীন ঝড়। কিন্তু ফ্রেডি সেই রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ৬ ফেব্রুয়ারি তৈরি হয়েছিল ঘূর্ণিঝড় ফ্রেডি। তারপর তা যত এগিয়েছে, ততই শক্তি বাড়িয়েছে। ইতিমধ্যে ৩৭ দিন অতিক্রান্ত। এখনও শেষ হয়নি ফ্রেডির পথ চলা।

একই উপকূলে দু-বার আঘাত ফ্রেডির
ফ্রেডি একই উপকূলে দু-বার আছড়ে পড়েছে। এটিও একটি বিরল ঘটনা। এক সপ্তাহের মধ্যে দুবার দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ফ্রেডি। যার ফলে মালাউই, মোজাম্বিক এবং মাদাগাস্কারে মৃতের সংখ্যা ইতমধ্যে ২২০ জন ছাড়িয়ে গিয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে অমুমান।

আরও দুটি রেকর্ড ভাঙতে পারে
একটি ঝড় এক মাসেরও বেশি সময় ঘরে বয়ে চলেছে। দী্র্ঘকালীন ঝড় হিসেবে ইতিমধ্যে রেকর্ড গড়ে ফেলেছে ঘূর্ণিঝড় ফ্রেডি। তবে এখানেই শেষ নয়, আরও দুটি রেকর্ড ভাঙতে পারে এই ঘূর্ণিঝড়। আবহাওয়াবিদরা সম্প্রতি সেই বার্তা দিয়েছেন। আলোচনা শুরু হয়েছে অপর দুই রেকর্ড ভাঙা নিয়ে।

সর্বোচ্চ ঘূর্ণিঝড় শক্তি সঞ্চয়
ফ্রেডি সবথেকে বেশি ঘূর্ণিঝড় শক্তি সঞ্চয় করেছে। যা ওয়েদার সংস্থার ভাষায় বলা হয় অ্যাকুমুলেটেড সাইক্লোন অ্যানার্জি বা এসিই। ঘূর্ণিঝড় ফ্রেডি রেকর্ড পরমাণ এসিই ধারণ করেছে। এটি হল একটি পরিমাপ, যা একটি ঝড়ের জীবদ্দশায় বাতাসের শক্তির উপর ভিত্তি করে পরিমিত হয়। বিশ্বব্যাপী কোনো ঝড় এত এসিই সঞ্চিত করতে পারেনি।

সবচেয়ে বেশি সঞ্চিত ঘূর্ণিঝড় শক্তি ফ্রেডির
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মতে, ফ্রেডি উত্তর আটলান্টিক হারিকেন মরশুমে যে পরিমাণ সঞ্চিত ঘূর্ণিঝড় শক্তি তৈরি হয়, তার থেকেও বেশি শক্তি সঞ্চয় করেছে। ২০০৬ সালে হারিকেন এবং টাইফুন আইওকের রেকর্ডকে ভেঙে দিয়েছে। ১৯৮০ সালের পর যে কোনো ঝড়ের সবচেয়ে বেশি সঞ্চিত ঘূর্ণিঝড় শক্তির বিচারে গত সপ্তাহে দ্বিতীয় স্থানে ছিল ফ্রেডি।

দীর্ঘস্থায়ী ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের রেকর্ড
ফ্রেডি ইতিমধ্যে আইওকের ৮৫ এসিই শক্তি অতিক্রম করে গিয়েছে। ফ্রেডি সেই রেকর্ড ভেঙে সঞ্চিত করেছে ৮৬ এসিই শক্তি। এটা সর্বকালীন রেকর্ড। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মতে, ফ্রেডি রেকর্ডে দীর্ঘস্থায়ী ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের রেকর্ড ভেঙে ফেলতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় ফ্রেডির সর্বাধিক চক্র
ঘূর্ণিঝড় ফ্রেডি ২৪ ঘন্টার মধ্যে ঘণ্টা প্রতি ৩৫ মাইল গতিবেগ বাড়িয়ে ছিল। এত দ্রুততার সঙ্গে গতিবৃদ্ধিতেও বিশ্বরেকর্ড গড়ে ফেলেছে ফ্রেডি। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, স্যাটেলাইটের অনুমান অনুসারে ফ্রেডির দ্রুততার সঙ্গে সাতটি পৃথক চক্র অতিক্রম করেছে। আগের রেকর্ডটি ছিল চারটি চক্রের। এর আগে বেশ কয়েকটি হারিকেনের চারটি চক্র অতিক্রম করে।

ঘূর্ণিঝড় ফ্রেডির সৃষ্টি ও বিস্তার
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা এই রেকর্ডের পাশাপাশি অন্য সমস্ত রেকর্ড পরীক্ষা করার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফ্রেডি অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে ঘণীভূত হয়েছিল। তারপর সমগ্র দক্ষিণ ভারত মহাসাগর অতিক্রম করেছিল। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে মাদাগাস্কার এবং মোজাম্বিকে ল্যান্ডফল করে।

৮ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম
ঘূর্ণিঝড় ফ্রেডি ল্যান্ডফল করার আগে ৮ হাজার কিলোমিটার বা ৪৯৭০ মাইল পথ অতিক্রম করছিল। তারপরে এটি লুপ করে এবং মালাউইতে প্রবেশের দুই সপ্তাহ পরে আবার মোজাম্বিকের উপকূলে আঘাত করে। বিগত দুই দশকে পৃথিবীর এই অংশে কোনো গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় প্রবেশ করেনি।

২০০০ সালের পর ঘূর্ণিঝড় ফ্রেডির দাপট
ভারত মহাসাগরজুড়ে এইরকমভাবে তেমন কোনো ঝড় বিস্তার লাভ করেনি। মার্কিন ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন একটি নিবন্ধে তা উল্লেখ করেছে। মাত্র চারটি ঝড় পূর্ব থেকে পশ্চিমে দক্ষিণ ভারত মহাসাগরে অতিক্রম করেছে। শেষ ঝড় হয়েছিল ২০০০ সালে। তারপর এই ঘূর্ণিঝড় ফ্রেডি দাপট দেখাল।












Click it and Unblock the Notifications