সিপিএম ‘একলা চলে’ই ফিরে আসার সোপান তৈরি করতে চায়, রাজ্যের উল্টো পথে জেলা

৩৪ বছরের শাসক দল সিপিএম। সেই সিপিএম ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার মাত্র ১০ বছরের মধ্যেই নিঃশেষ হয়ে গেল। বিধানসভায় তাঁদের কোন প্রতিনিধি পর্যন্ত নেই। এই অবস্থায় সিপিএমের ভোটব্যাঙ্কও নামতে নামতে তলানিতে পৌঁছে গিয়েছিল।

৩৪ বছরের শাসক দল সিপিএম। সেই সিপিএম ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার মাত্র ১০ বছরের মধ্যেই নিঃশেষ হয়ে গেল। বিধানসভায় তাঁদের কোন প্রতিনিধি পর্যন্ত নেই। এই অবস্থায় সিপিএমের ভোটব্যাঙ্কও নামতে নামতে তলানিতে পৌঁছে গিয়েছিল। সেখানে থেকে একুশ-পরবর্তী সময়ে ফিরে আসার রাস্তা তৈরি করতে নেমেছে সিপিএম।

কংগ্রেসের সঙ্গে জোট নাকি একলা চলো নীতি

কংগ্রেসের সঙ্গে জোট নাকি একলা চলো নীতি

এই অভিযানে সিপিএম রাজ্যে পুরভোটের পর জেলা সম্মেলনে বসছিল। কলকাতা জেলা সম্মেলনে সিপিএমে আলোচনা হল- এবার কোন পথে চলবে তারা। কোন পথে আসবে সাফল্য। তারা কি কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করেই পথ চলবে, নাকি একলা চলো নীতি নিয়েই এগোবে? নিজের শক্তির উপর ভর করে চলাই শ্রেয় মনে করছে কলকাতা জেলা নেতৃত্ব।

সিপিএমে ফিরছে হারানো ভোট, ফেরার লড়াই

সিপিএমে ফিরছে হারানো ভোট, ফেরার লড়াই

রাজ্য চাইছে জোট করে চলতে। কিন্তু জেলা চাইছে- জোট নয়, একলা চলেই ফিরে আসতে হবে সিপিএমকে। তা দেখিয়ে দিয়েছে ২০২১-এর বিধানসভা পরবর্তী সমস্ত নির্বাচন। উপনির্বাচন থেকে শুরু করে রাজ্যে ১১৩ পুরসভা নির্বাচনেও দেখা গিয়েছে সিপিএম একলা লড়েই ফেররা রাস্তা তৈরি করছে। একুশের নির্বাচনে তলানিতে নেমে গিয়েছিল তারা, রাজ্যের পুর নির্বাচনের পর দেখা যাচ্ছে সিপিএমে ফিরছে হারানো ভোট।

এক লাফে প্রায় ১০ শতাংশ ভোটবৃদ্ধি

এক লাফে প্রায় ১০ শতাংশ ভোটবৃদ্ধি

২০১৬-পর থেকেই রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছিল সিপিএমের। তা ২০২১-এ গিয়ে প্রায় অস্তিত্বহীন করে দেয় সিপিএমকে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে দেখা যায় সিপিএম রাজ্যে ফের নিজেদের ভোটব্যাঙ্কে হারানো ভোট ফিরিয়ে আনতে সমর্থ হয়েছে। হয়তো সেই সংখ্যাটা যা হারিয়েছিল, তার সমান নয়। কিন্তু এক লাফে প্রায় ১০ শতাংশ ভোট বাড়ানো মুখের কথা নয়।

কংগ্রেস বা আইএসএফের সঙ্গে কোনও ফ্রন্ট নয়

কংগ্রেস বা আইএসএফের সঙ্গে কোনও ফ্রন্ট নয়

এই পরিস্থিতিতে সিপিএমের জেলা নেতৃত্বের গলায় আত্মবিশ্বাসের সুর। তারা চাইছে কারও সঙ্গে জোট নয়, একলা চলতে। এই একলা পথেই আসবে সাফল্য। তারা চান বামফ্রন্ট থাকুক, কিন্তু কংগ্রেস বা আইএসএফের সঙ্গে কোনও ফ্রন্ট নয়। তারা যেমন সাতের দশক থেকে বামফ্রন্ট রয়েছেন, তেমনই থাকতে চান। সেই পথেই তারা সাফল্যের দেখা পাবেন বলে বিশ্বাস সিপিএম নেতাদের।

পুর নির্বাচনে সিপিএম পেয়েছে ফিরে আসার রাস্তা

পুর নির্বাচনে সিপিএম পেয়েছে ফিরে আসার রাস্তা

সিপিএম নেতাদের কথায়, ২০১৬-য় কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে লড়ে কোনও লাভ হয়নি। বরং ক্ষতি হয়েছে। কংগ্রেস তাদের থেকে বেশি আসনে জয়ী হয়েছে। এবরা প্রধান বিরোধী দলের তকমা পেয়েছে। সিপিএম সেই যে পিছু হটতে আরম্ভ করেছিল ২০২১-এর বিধানসভা শূন্য হয়ে শেষ করেছে। কিন্তু সম্প্রতি পুর নির্বাচনে তারা দেখতে পেয়েছে ফিরে আসার রাস্তা।

সংযুক্ত মোর্চায় নয় বামফ্রন্টেই সীমাবদ্ধ থাকুক সিপিএম

সংযুক্ত মোর্চায় নয় বামফ্রন্টেই সীমাবদ্ধ থাকুক সিপিএম

তাই সেই রাস্তাতেই হাঁটতে চলেছে সিপিএম। সিপিএমের সংগঠনের অবস্থা এখান থেকে উন্নততর করে তুলতে হবে। সে জন্য নীতিগতভাবে এক দলের সঙ্গে থাকাই শ্রেয়। নীতিবিরুদ্ধ অন্য কোনও দলের সঙ্গে জোট না করেই তাদের এগোতে হবে। তাই সংযুক্ত মোর্চায় না থেকে বামফ্রন্টেই সীমাবদ্ধ থাকুক সিপিএম। তাতেই মিলবে আলোর সন্ধান।

জেলা সম্মেলনে উচ্চগ্রামে গান ধরে প্রতিবাদে নেতারা

জেলা সম্মেলনে উচ্চগ্রামে গান ধরে প্রতিবাদে নেতারা

এদিন জেলা সম্মেলনে সিপিএম শীর্ষ নেতৃত্ব অভিনব তোপের মুখে পড়েছে। জেলা সম্মেলনের প্রতিনিধিরা রাজ্য নেতৃত্বের ব্যর্থতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন। সিপিএমের শীর্ষ নেতৃত্বকে আক্রমণ করতে গিয়ে জেলা সম্মেলনেই উচ্চগ্রামে গান ধরলেন প্রতিনিধিরা 'খিড়কি থেকে সিংহ দুয়ার এই তোমাদের পৃথিবী' । এই গানেই তারা বুঝিয়ে দিলেন কোথায় ব্যর্থ রাজ্যের নেতারা।

নীচুতলার নেতৃত্বের ঘাড়ে দায় চাপানোর প্রতিবাদ

নীচুতলার নেতৃত্বের ঘাড়ে দায় চাপানোর প্রতিবাদ

একুশের নির্বাচনে ব্যর্থতার পর নীচুতলার নেতৃত্বকে দায়ী করেছিল রাজ্য-নেতারা। কলকাতা পুরসভা ভোটের পরও নীচুতলার নেতৃত্বের ঘাড়ে দায় চাপানো হয়েছিল। ভোট বাড়লেও আসন জয় করতে না পারার জন্য বুথস্তরের ও ব্লক স্তরের নেতাদের দায়ী করে বলা হয়েছিল বুথস্তরে লড়াই দিতে পারেননি তাঁদের নেতারা। আর তার পাল্টা এদিন জেলা সম্মেলনে নীচুতলার নেতারা জবাব দিলেন ওই একটা গানেই।

গান গাইলেন, রাজ্য নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে প্রশ্নও ছুড়লেন

গান গাইলেন, রাজ্য নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে প্রশ্নও ছুড়লেন

সিপিএমের রাজ্যস্তরের শীর্ষ নেতারা যে শুধু বাড়ি থেকে পার্টি অফিস, আর পার্টি অফিস থেকে বাড়ি করেন। এছাড়া তাদের কোনও কাজ নেই বোঝাতেই ওই গান গাইলেন। পাশাপাশি রাজ্য নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে প্রশ্ন ছুড়লেন- কেন বুথ কমিটি আগে থেকে গঠন করা হল না? কেন বুথ পোলিং এজেন্ট ছিল না? পার্টিতে ছাত্র, যুব ও মহিলা সদস্য নিয়োগের ক্ষেত্রে কেন দুর্বলতা রইল? সমস্যা কোথায় হচ্ছে তা খোঁজার চেষ্টা না করে দলের শীর্ষ নেতারা শুধু কারও ঘাড়ে দোষ চাপিয়েই ক্ষান্ত থাকছেন।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+