সিপিএম বাংলায় নবনির্মাণ কর্মসূচিতে নামছে, কাদেরকে সামনের সারিতে রাখার পরিকল্পনা
সিপিএম এবার নবনির্মাণে আগ্রহী হয়েছে। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পর তারা শূন্য থেকে শুরু করে ফের বাংলায় প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠার লড়াই শুরু করেছে। তার পূর্ণ আভাস মিলেছে বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে।
সিপিএম এবার নবনির্মাণে আগ্রহী হয়েছে। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পর তারা শূন্য থেকে শুরু করে ফের বাংলায় প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠার লড়াই শুরু করেছে। তার পূর্ণ আভাস মিলেছে বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে। এখনও সমগ্র বাংলাজুড়ে এই পরিকল্পনা ছড়িয়ে দিতে পারেনি কমিউনিস্টরা, তার প্রমাণ আবার আসানসোল।

জেলায় জেলায় ব্লকে ব্লকে যাঁকে মানুষ চাইছেন
তবে সিপিএম বাংলাজুড়েই পরিকল্পনা সাজিয়েছে। এই কর্মকাণ্ডে কাদের সামনের সারিতে রাখা হবে, তাও একপ্রকার চূড়ান্ত করে ফেলেছে সিপিএম। সিপিএম এবার তাত্ত্বিক নেতাদের ছেড়ে জনপ্রিয় নেতাকেই বেছে নিতে চাইছে সামনের সারিতে। সম্প্রতি রাজ্য সম্মেলন ও পার্টি কংগ্রেসে স্থির করে দেওয়া হয়েছে, জেলায় জেলায় ব্লকে ব্লকে যাঁকে মানুষ চাইছেন, তাঁকেই নেতৃত্বে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

যে পথে গতি ও প্রাসঙ্গিকতা খুঁজে পেয়েছে সিপিএম
একুশের নির্বাচনেই দেখা গিয়েছে, সিপিএম অভিজ্ঞতাকে পিছনে রেখে তারুণ্যকে সামনের সারিতে তুলে এনেছে। সিপিএম প্রার্থী করেছিল মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, ঐষী ঘোষ, দীপ্সিতা ধর, সৃজন ভট্টাচার্য, সায়নদীপ মিত্রদের। এখন আবার বালিগঞ্জে নতুন মুখ সায়রা শাহ হালিমকে প্রার্থী করে গতি ও প্রাসঙ্গিকতা খুঁজে পেয়েছে সিপিএম।

তারুণ্যে ভর করে সিপিএম আবার ফিরতে চাইছে
তাই সিপিএম আর পিছনে ফিরে তাকাতে চায় না। যাঁদের সামনে রেখে চললে মানুষ এগিয়ে আসবে, মানুষ যাঁকে চাইবে, তাঁকেই গুরুত্ব দেবে সিপিএম। সিপিএম সম্প্রতি রাজ্য সম্ম্লনে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাত্ত্বিক পথ থেকে সরে এসে তারুণ্যের তেজকে কাজে লাগাতে। তারুণ্যে ভর করে সিপিএম আবার ফিরতে চাইছে। সিপিএম সেই কাজে বশ খানিকটা অগ্রগণ্যও।

এগিয়ে যাওয়ার পালা তারুণ্যের, প্রবীণরা পিছনে আছেন
সিপিএম ইতিমধ্যে রাজ্যের সামনে এবং পার্টির সর্বভারতীয় নেতৃত্বের সামনে স্পষ্ট করে দিয়েছে বাংলায় তাঁদের ভবিষ্যৎ তৈরি। তাঁদেরকে সরাসরি ভোট ময়দানে নামিয়ে দেখিয়ে দেওয়াই শুধু নয়, পার্টি কংগ্রেসেও তাঁদের উপস্থাপন করেছে। এবার শুধু তাঁদের এগিয়ে যাওয়ার পালা। তাঁদের এগিয়ে দিতে হবে। সিপিএমের প্রবীণরা তাঁদের পথ দেখাতে তৎপর।

সিপিএম আবার প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠার চেষ্টায়
সম্প্রতি রাজ্য সম্পাদক পদে এসেছেন মহম্মদ সেলিম। একইসঙ্গে রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীতে নবীনদের বরণ করে নেওয়া হয়েছে। প্রবীণরা জায়গা ছেড়ে দিয়েছেন নতুনদের জন্য। তারপর থেকেই সিপিএম আবার প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, সৃজন ভট্টাচার্য, সায়নদীপ মিত্র, দীপ্তিসা ধর, ঐশী ঘোষ, দেবলীনা হেমব্রম, সায়রা শাহ হালিমদের ব্যবহার করতে চাইছে সিপিএম। তাঁদের সামনে রেখে সিপিএম এগোতে চাইছে। বিশেষ করে সায়রা শাহ হালিমের হাত ধরে বালিগঞ্জে সিপিএম নৈতিক জয় হয়েছে বলে তাঁরা প্রচারের আলোয় আসতে চাইছে।

সিপিএমের মুখ হয়ে উঠছেন মীনাক্ষী-সায়রা হালিমরা
নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে লড়াই করে নবাগত মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় রাজ্যে বামপন্থীদের মুখ হয়ে উঠেছিলেন। এখন আবার সায়রা শাহ হালিম সিপিএমে প্রাসঙ্গিকতা ফেরানোর মুখ হয়ে উঠেছেন। দুই নারী মুখকে কাজে লাগিয়ে সিপিএম এবার লড়াইয়ে নামতে চলেছে। সিপিএমের মুখ হয়ে উঠছেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় ও সায়রা শাহ হালিমরা।

তারুণ্যের ভরসায় নবনির্মাণের পথ নিয়েছে সিপিএম
আবার সৃজন ভট্টাচার্য সম্প্রতি পার্টি কংগ্রেসে জ্বালাময়ী বক্তব্য রেখে সকলের নজর কেড়েছেন। যেভাবে তিনি চাঁছাছোলা ভাষায় সিপিএমের চলার পথ ঠিক করে দিয়েছেন, রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে সিপিএমকে প্রাসঙ্গিক করে তোলার বার্তা দিয়েছেন এবং তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করার দিগনির্দেশনা দিয়েছেন, তা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিকতা পেয়েছে। ফলে তরুণ নেতৃত্বকে এবার সামনের সারিতে তুলে ধরে নবনির্মাণের পথ নিয়েছে সিপিএম।












Click it and Unblock the Notifications