পঞ্চায়েতেও কি সিপিএম-বিজেপি জোটের পথে? ‘লাইন’ না মানলে কড়া পদক্ষেপের বার্তা
পঞ্চায়েতেও কি সিপিএম-বিজেপি জোটের পথে? ‘লাইন’ না মানলে কড়া পদক্ষেপের বার্তা
সিপিএম নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে, বিজেপির সঙ্গে জোট কোনওমতেই মেনে নেওয়া হবে না। সমবায় ভোট হোক বা বিদ্যালয় পরিচালন সমিতির নির্বাচন কোথাও জোট করা যাবে না। আর পঞ্চায়েত নির্বাচনে তো নয়ই! কিন্তু দলের লাইন না মানলে সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে নেতৃত্ব। তবুও নীচুতলায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে জোট বাঁধা আটকাতে পারছে না সিপিএম।

পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমারের বহরমপুর কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটি লিমিটেডের বামফ্রন্ট ও বিজেপি জোট করে সাফল্য পায়। তৃণমূলকে ঘাস ধরিয়ে দেয় তারা। সমবায়ের সমস্ত আসনেই জেতে বিরোধী মঞ্চ। তারপর থেকেই 'নন্দকুমার মডেল' পরিচিতি লাভ করেছে। তারপর থেকে সমবায় সমিতি নির্বাচনগুলিতে বামফ্রন্ট ও বিজেপি ফলো করছে ওই মডেল। কোথাও সাফল্য আসছে, কোথাও আসছে না, ফেল করছে।
এমনকী তৃণমূলকে হারাতে নন্দকুমার মডেল প্রয়োগ করার চেষ্টা হচ্ছে পঞ্চায়েত নির্বাচনেও। পঞ্চায়েত ভোটের আগে চর্চা শুরু হয়েছে নীচুতলায় বাম-বিজেপির সমীকরণ। রাম-বাম জোটের তত্ত্ব প্রচারের আলোয় চলে আসায় সিপিএমের রাজ্য নেতৃত্ব বিপাকে পড়েছে। সেই কারণে তাঁরা অভ্যন্তরীণ কমিশন পর্যন্ত গড়েছে।
নন্দকুমারের পরও আরও কয়েকটি সমবায় সমিতি নির্বাচনে রাম-বাম জোট হয়েছে। এমনকী সিপিএম নেতৃত্ব বিজেপির হাত ধরে তমলুকের সমাবায় সমিতি নির্বাচনে মিছিল করেছে। এই মিছিলের পর থেকেই সিপিএমের অস্বস্তি বেড়েছে। সিপিএম রাজ্য নেতৃত্ব যেনতেন প্রকারে এই জোট আটকাতে বদ্ধপরিকর। কিন্তু নীচতুলার নেতাদের কান পর্যন্ত সেই বার্তা পৌঁছচ্ছে না।
বিজেপি এই জোট নিয়ে অনেকটাই নির্লিপ্ত। তারা চাইছেও জোট হোক। রাজ্যস্তরের নেতৃত্ব তা মানতে না চাইলেও বেশ কিছু নেতা খুল্লামখুল্লা আবেদন জানিয়েছেন তৃণমূলকে আটকাতে সবাই জোট বাঁধুন। প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি যেমন বাম আমলে মানুষের জোটের কথা বলেছিলেন, বিজেপিও এখন সেই বুলি আওড়াচ্ছে।
শাসকদলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি আর বেনিয়মের অভিযোগে মানুষ এককাট্টা হচ্ছেন। ফলে নীচতুলায় জোট সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সেই কারণে অন্য পথে হেঁটে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতারাও এখন তৃণমূলের বিরুদ্ধে লাগাতার এক ছাতার তলায় এসে লড়াইয়ের বার্তা দিচ্ছেন বিজেপি নেতারা।
বিজেপি নেতারা খোলাখুলিই বলছেন, আমাদের লক্ষ্য একটাই শাসকদলকে ক্ষমতাচ্যুত করা। তা করতে গিয়ে যদি নীচুস্তরের নেতারা বামেদের সঙ্গে হাত ধরাধরি করে চলতে চান, তাতে আপত্তি করার কিছু নেই। এমনকী শাসক দলের একাংশও যদি আসে আসুক। আমরা এই বেনয়িম, দুর্নীতির অবসান ঘটাতে চাই।
পূর্ব মেদিনীপুরের কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা সিপিএম-বিজেপির বোঝাপড়া দেখা গিয়েছে, তা নিয়ে সম্প্রতি প্রবল চর্চা শুরু হয়েছে। এই প্রশ্নও উঠেছে সিপিএম-বিজেপিরএই বোঝাপড়া কেন শুভেন্দু অধিকারীর জেলাতেই বেশি হচ্ছে। আর শুভেন্দুর জেলা বলেই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। যদিও সিপিএম সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাঁরা এই তত্ত্বে বিশ্বাসী নয়। তাঁরা তৃণমূল ও বিজেপিকে আটকানোর নীতি নিয়েই চলবে। বিজেপি বা তৃণমূলের সঙ্গে আঁতাত করে চললে তাঁকে রেয়াত করা হবে না।
সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম সাফ জানিয়েছেন, তৃণমূলের ইডি-সিবিআই নিয়ে ভয় থাকতে পারে। কিন্তু আমাদের এমন কোনও ব্যাপার নেই। তাই নীচুস্তর হোক বা উঁচু স্তর কোথাও এই সমঝোতা মেনে নেওয়া হবে না। এমন ধরনের সমঝোতা হলেই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে দলের তরফে।
আর বিজেপি ও সিপিএমের এ ধরনের জোটকে যে আদৌ গুরুত্ব দিচ্ছে না পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দায়িত্বে তাকা তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তাঁর বক্তব্যে। তিনি বলেন, রাম-বামের প্রকাশ্য জোট ওদের মুখোশ খুলে দিয়েছে। মানুষের সত্যিটা বুঝে নিতে অসুবিধা হয়নি। আমরা যেটা বলে বোঝানোর চেষ্টা করছি, ওরা সেটা জোট করেই বুঝিয়ে দিচ্ছে। আমরা পর্ত্যোক বুছে ৫১ থেকে ১০০ শতাংশ ভোট পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোচ্ছি। বাকি ৪৯ শতাংশ জোট হল কি না, তা নিয়ে আমাদের কোনও মাথাব্যথা নেই।












Click it and Unblock the Notifications