সেলিমকেই কেন বেছে নেওয়া হল রাজ্য সম্পাদক পদে, সংখ্যালঘু তাস খেলল কি সিপিএমও
প্রায় ৬০ বছরের ইতিহাসে কখনও সংখ্যালঘু সমাজ থেকে উঠে আসা নেতাকে দলের শীর্ষ পদে বসায়নি সিপিএম। কিন্তু এবার ঘটল ব্যতিক্রম। মহম্মদ সেলিমকে বেছে নেওয়া হল দলের রাজ্য সম্পাদক পদে। বঙ্গ সিপিএমেও প্রধান হলেন কোনও সংখ্যালঘু।
প্রায় ৬০ বছরের ইতিহাসে কখনও সংখ্যালঘু সমাজ থেকে উঠে আসা নেতাকে দলের শীর্ষ পদে বসায়নি সিপিএম। কিন্তু এবার ঘটল ব্যতিক্রম। মহম্মদ সেলিমকে বেছে নেওয়া হল দলের রাজ্য সম্পাদক পদে। বঙ্গ সিপিএমেও প্রধান হলেন কোনও সংখ্যালঘু। কিন্তু কেন, এতদিন পর সংখ্যালঘু নেতাকে শীর্ষ আসনে তুলে ধরা হল, এর মধ্যে রয়েছে কী এমন অঙ্ক!

সাড়ে তিন দশকের শাসক দল তাসের ঘরের মতো ভেঙেছে
ষাটের দশকে সিপিআই ভেঙে দু-টুকরো হয়ে গিয়েছিল। জন্ম নিয়েছিল সিপিএম। তার দেড় দশকের মধ্যে বামফ্রন্ট গড়ে রাজ্যের ক্ষমতায় এসেছিল তারা। সেই থেকে টানা ৩৪ বছর রাজ্যের শাসন ক্ষমতায় বিরাজ থেকে এখন সিপিএম বিরোধী দল। কিন্তু বিরোধী হয়ে সাড়ে তিন দশকের শাসক দল নিজেদের সংগঠন ধরে রাখতে পারেনি। তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে তারা।

সিপিএম চাইছে হারানো ভোটব্যাঙ্ক আবার ফিরিয়ে আনতে
২০১১-য় বাম জমানার পতন হয়েছিল বাংলায়। আর তার ১০ বছরের মধ্যে ২০২১-এ সিপিএম প্রায় নিঃশেষের পথে। এবার বিধানসভা কোনও বিধায়ক নেই সিপিএমের। এই অবস্থায় শূন্য থেকে শুরু করতে চাইছে সিপিএম। সিপিএম চাইছে হারানো ভোটব্যাঙ্ক আবার ফিরিয়ে আনতে। সেই লক্ষ্যেই নতুন করে সাজছে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি মার্কসবাদী।

সেলিম প্রথম সংখ্যালঘু রাজ্য সম্পাদক সিপিএমের
এবার সিপিএমের রাজ্য সম্মেলন শুরু হয়েছিল পুরনোকে বিদায় দিয়ে নতুনকে স্বাগত জানানোর লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে। সেইমতো সূর্যকান্ত মিশ্রের বিদায়ের পথ ধরে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন মহম্মদ সেলিম। তিনিই প্রথম সংখ্যালঘু রাজ্য সম্পাদক সিপিএমের। সেই আঙ্গিকে তাঁর মনোনয়ন বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

মুসলিম সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক
সিপিএমের প্রায় ৬০ বছরের ইতিহাসে অনেকেই মুসলিম সমাজ থেকে উঠে এসে পার্টিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। পার্টিও তাঁদের যথাযোগ্য সম্মান দিয়েছে। কিন্তু কোনওদিন তাঁদের কাউকে সিংহাসনে বসায়নি। সেদিন দিয়ে মহম্মদ সেলিমই প্রথমজন। যিনি মুসলিম সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক পদে বহাল হলেন।

কোনওদিন শীর্ষপদে বসানো হয়নি কোনও সংখ্যালঘু নেতাকে
১৯৬৪ সালে সিপিএম প্রতিষ্ঠার পর মোজাফ্ফর আহমেদ থেকে শুরু করে সৈয়ক মনসুর হাবিব উল্লাহ, আবদুল্লাহ রাসুল, সৈয়দ শাহিদ উল্লাহ, হাসিম আবদুল হালিম, মহম্মদ আমিন-সহ বহু সংখ্যালঘু সমাজের নেতা সিপিএমের সেবা করেছে। মোজাফ্ফর আহমেদের নেতৃত্বে বাংলায় কমিউনিস্ট আন্দোলনে তোলপাড় হয়েছিল বাংলা। কিন্তু তাঁকেও কোনওদিন শীর্ষপদে বসানো হয়নি।

সংখ্যালঘু মুখকে দলের শীর্ষপদে বসাল সিপিএম
সিপিএম তাদের ৬০ বছরের পথ চলা শেষে এবার সংখ্যালঘু মুখকে দলের শীর্ষপদে বসাল। তাহলে কি সিপিএম তাঁদের হারানো সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ককে আবার নিজেদের দিকে টানতে চাইছে। সেই লক্ষ্যেই সিপিএম এবার অঙ্ক কষেই মহম্মদ সেলিমে মাথায় বসাল? মহম্মদ সেলিম যে এই পদে সুযোগ্য ব্যক্তিত্ব, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবুও সিপিএমের এই সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক মহল মনে করছে, সেলিমকে রাজ্য সম্পাদক করা হয়েছে সংখ্যালঘু সমাজে বার্তা পৌঁছে দিতেই।

সেলিমকে রাজ্য সম্পাদক করে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে সিপিএম
সংখ্যালঘু সমাজ মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার পরই ধীরে ধীরে ক্ষয়িষ্ণু হতে শুরু করে সিপিএম। পতনের পর থেকে দেখা যাচ্ছে সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্ক প্রায় পুরোটাই তৃণমূলের সঙ্গে। খানিকটা ছিল কংগ্রেসের সঙ্গে। ২০২১-এর নির্বাচনে তা পুরোপুরি চলে গিয়েছে তৃণমূলের দখলে। এই পরিস্থিতিতে মহম্মদ সেলিমকে রাজ্য সম্পাদক করে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে সিপিএম।

সংখ্যালঘু ভোট ফেরাতেই সিদ্ধান্ত? বিরোধীদের পাল্টা সিপিএমের
মহম্মদ সেলিম ডিওয়াইএফআইয়ের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন একটা সময়ে। সেখান থেকে বর্তমানে তিনি হলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক। এর আগে কেন্দ্রীয় কমিটি ও পলিটব্যুরোর সদস্য হিসেবে রয়েছেন দীর্ঘদিন। তাঁকে রাজ্য সম্পাদক করার পর বিভিন্ন মহল থেকে বলা হচ্ছে সংখ্যালঘু ভোট ফেরাতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিপিএম। যদিও সিপিএম এই সমালোচনার কড়া জবাবও দিয়েছে। সিপিএমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাঁরা এত বড় বড় কথা বলছেন, তাঁরা আগে এমন একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে দেখাক।

নরম হিন্দু্ত্বই যখন হাতিয়ার, ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শ তুলে ধরাই লক্ষ্য
সিপিএমের বক্তব্য, বিজেপির মূলধন হিন্দুত্ব। আর বিজেপি বাদে অধিকাংশ ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলিও নরম হিন্দু্ত্বকে হাতিয়ার করছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁরা মনে করছে ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শকে তুলে ধরা জরুরি। ধর্মের স্লোগান নয়, এই মূহর্তে দশের দরকার রুটি কাপড়া মাকানের স্লোগানকে সামনে তুলে ধরা। তাই সিপিএম মহম্মদ সেলিমের মতো ব্যক্তিত্বকে রাজ্য সম্পাদক হিসেবে বেছে নিয়েছে।

সংখ্যালঘু সমাজের কোনও ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ পদে, একটা বার্তা
সিপিএমের কথায়, মহম্মদ সেলিম রাজ্য সম্পাদক হওয়ায় মুসলিম ভোট তাদের বাক্সে ফিরবে কি ফিরবে না, সেটা বড় কথা নয়। আসল কথা হল দলের ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শ নীতিকে বাস্তবায়িত করা। একমতা্র সিপিএমই পারে যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকলে সংখ্যালঘু সমাজের কোনও ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ পদে বসাতে। এটা গোটা দেশের কাছেই একটা বার্তা।
-
অধীর চৌধুরীর প্রচারে উত্তেজনা বহরমপুরে, কংগ্রেস-তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ -
দাগি নেতাদের নিরাপত্তা কাটছাঁট কতটা মানল পুলিশ? স্টেটাস রিপোর্ট চাইল নির্বাচন কমিশন -
পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ! পানিহাটির সেক্টর অফিসার অতনু চক্রবর্তীকে সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন -
আরও একটি সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন, আর কত নাম নিষ্পত্তি হওয়া বাকি? -
ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে উত্তাপ চরমে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ভয়ের রাজনীতির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিলের দাবি তৃণমূলের -
যুদ্ধ নয়, আলোচনায় সমাধান! হরমুজ ইস্যুতে বৈঠক ডাকল ব্রিটেন, যোগ দিচ্ছে ভারত -
বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী -
'মালদহ কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড' মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার, পালানোর সময় বাগডোগরা থেকে ধৃত -
দাগি নেতাদের নিরাপত্তা কাটছাঁট কতটা মানল পুলিশ? স্টেটাস রিপোর্ট চাইল নির্বাচন কমিশন -
পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ভোটের আগে তৃণমূলের দুই হেভিওয়েট নেতাকে ইডির তলব -
ভোটের আগেই কমিশনের কড়া নির্দেশ! অনুমতি ছাড়া জমায়েত নয়, নিয়ম ভাঙলেই গ্রেফতার, রাজ্যজুড়ে জারি কঠোর নির্দেশ -
এপ্রিলে শক্তিশালী ত্রিগ্রহী যোগ, শনি-সূর্য-মঙ্গলের বিরল মিলনে কাদের থাকতে হবে সতর্ক?











Click it and Unblock the Notifications