বিশ্ব অর্থনীতিতে ভয়ের কারণ হল মন্দা! সতর্ক করল বিশ্বব্যাঙ্ক
এই বছরে বিশ্বের অর্থনীতি মন্দার কাছাকাছি চলে আসবে। আমেরিকা, ইউরোপ, চিনের মতো বিশ্বের শীর্ষে থাকা অর্থনীতি দুর্বল হবে। এই ভবিষ্যদ্বাণী ইতিমধ্যেই করেছে বিশ্বব্যাঙ্ক। বিশ্বের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি আগেকার করা ভবিষ্যদ্বাণী ৩
এই বছরে বিশ্বের অর্থনীতি মন্দার কাছাকাছি চলে আসবে। আমেরিকা, ইউরোপ, চিনের মতো বিশ্বের শীর্ষে থাকা অর্থনীতি দুর্বল হবে। এই ভবিষ্যদ্বাণী ইতিমধ্যেই করেছে বিশ্বব্যাঙ্ক। বিশ্বের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি আগেকার করা ভবিষ্যদ্বাণী ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১.৭ শতাংশ করেছে গরিব দেশগুলিকে ধার দেওয়া বিশ্বব্যাঙ্ক। তবে শুধু এই বছরই নয় গত তিন দশকের মধ্যে এটি হবে তৃতীয় কম বার্ষিক বৃদ্ধির বছর। গত তিন দশকের মধ্যে ২০০৮, ২০২০-তে যথাক্রমে আর্থিক সংকট এবং করোনা ভাইরাসের কারণে অর্থনীতির গতি শ্লথ হয়ে পড়েছিল।

আমেরিকার অর্থনীতি নিয়ে বিশ্বব্যাঙ্কের ভবিষ্যদ্বাণী, সেখানে ০.৫ শতাংশ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর মধ্যে যদি কোভিড বাড়তে থাকে কিংবা রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ যদি আরও জটিল আকার ধারণ করে, তাহলে আমেরিকার অবস্থা খারাপ হতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। অন্যদিকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ চিনে বিভিন্ন জিনিস রপ্তানি করে থাকে। সেখানে চিনের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রভাব ইউরোপের ওপরে পড়বে বলেই মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্বব্যাঙ্কের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমেরিকা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সুদের হার বৃদ্ধি, দরিদ্র দেশগুলিতে বিনিযোগে উৎসাহ হারাবে। অন্যদিকে সুদের উচ্চহার এইসব উন্নত দেশগুলিতে অর্থনৈতিক গতিকে শ্লথ করবে। এখন এমন একটা পরিস্থিতি যখন, রাশিয় ও ইউক্রেনের যুদ্ধের ফলে বিশ্বে খাদ্যের দাম যথেষ্টই চড়া। এই যুদ্ধের ফলে দারিদ্র হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা থমকে গিয়েছে।
বিশ্বের অর্থনীতিকে মন্দা আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলির পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। প্রসঙ্গত এই আফ্রিকাতেও বিশ্বের প্রায় ৬০ শতাংশ দরিদ্র মানুষের বাস।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিকাঠামোয় বিনিয়োগ কম হলে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে মনেই মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। এই পরিস্থিতি দরিদ্র দেশগুলিতে বিশ্বব্যাঙ্ক আরও ঋণ দিতে শর্তাবলীর পরিবর্তন করতে চাইছে।
ইতিমধ্যেই আইএমএফ প্রধান ক্রিস্টিনা জর্জিয়েভা বলেছেন বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ এবছরে মন্দার মধ্যে পড়বে। তিনি আরও বলেছিলেন বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষেত্রে কঠিন বছর হতে চলেছে ২০২৩। তিনি বলেছিলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং চিন, তিন বড় অর্থনীতি ক্ষতির মুখে পড়তে চলেছে।
বিশ্বব্যাঙ্ক আশাপ্রকাশ করে বলেছে, উন্নয়নশীল দেশগুলিতে অর্থনৈতিক বৃদ্ধি এবছরেও ২০২২-এর মতোই ৩.৪ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে। ২০২৩-এ ব্রাজিলের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি কমে ০.৮ শতাংশ হতে পারে। যা ২০২২-এর ৩ শতাংশের থেকে অনেকটাই কম। ভারতের প্রতিবেশী পাকিস্তানে অর্থনীতির গতি হতে পারে ২০২২-এর তুলনায় এক-তৃতীয়াংশের মতো।












Click it and Unblock the Notifications