পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়া কেন নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না সরকার ও কোম্পানিগুলি?
কোনওভাবেই জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে লাগাম পরাতে পারছে না কেন্দ্র সরকার৷ শেষ কয়েকদিনে প্রায় প্রতিদিন বেড়েছে পেট্রোল ডিজেলের দাম৷ যার প্রভাব পড়ছে দৈনন্দিন বাজারে৷ ক্রমাগত বেড়ে চলা জ্বালানি তেল, রান্নার গ্যাসের দাম পরোক্ষে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধির কারণ হচ্ছে৷ স্বাভাবিকভাবেই নিত্যপ্রয়োজনীয় এই দ্রব্যাদির মূল্যবৃদ্ধিতে প্রশ্নের মুখে পড়েছে সরকার। কিন্তু ঠিক কোন কারনে বাড়ছে দাম? কেন রুখে দেওয়া যাচ্ছে না মূল্যবৃদ্ধি?

চলতি অর্থবর্ষ নিয়ে প্রথমবারের বক্তব্য পেশ করার সময় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার গভর্নর শক্তিকান্ত দাস বলেন, 'বিশ্বজুড়ে খাদ্যসামগ্রী, ধাতুর দাম বাড়ছে। দেশে মুদ্রাস্ফীতিও দেখা দিচ্ছে। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে ৫.৭ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতি দেখা যাবে দেশে। অর্থবর্ষের চারটি ভাগে যথাক্রমে ৬.৩, ৫, ৫.৪, ৫.১ শতাংশ হারে মুদ্রাস্ফীতি লক্ষ করা যাবে।' এই মুহূর্তে পেট্রোল ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে যথেষ্ট চাপে রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তবু এই অবস্থায় তেলের দাম কমিয়ে দেওয়া বড্ড জটিল। কারন এখন যদি তেলের দাম কমাতে হয় সেক্ষেত্রে এক্সাইজ ডিউটি কমাতে হবে কেন্দ্রকে। আর এক্সাইজ ডিউটি কমলেই সরকারের আয় কমবে। অথচ ব্যয়ের পরিমাণ একই থাকবে, তাই এক্সাইজ ডিউটি ছাড়ের সাহস দেখাতে পারছে না কেন্দ্র৷ সৌভাগ্যক্রমে বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার দাম বাড়েনি জ্বালানি তেলের। তার আগে ২২ মার্চ থেকে টানা চোদ্দ বার বেড়েছিল তেলের দাম। ইতিমধ্যেই লিটারপিছু ১০ টাকা বেড়ে গিয়েছে পেট্রোল ডিজেলের দাম৷
ভারত এমনিতেই জ্বালানি পেট্রোল, ডিজেল বিদেশ থেকে আমদানি করে। এত বড় দেশের জ্বালানি তেলের চাহিদার ৮৫ শতাংশই মেটে আমদানির মাধ্যমে। সম্প্রতি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলের দামে। মার্চ মাসের শুরুর দিকে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম স্পর্শ করেছিল ১৩৯ মার্কিন ডলারে। তবে এরপর দাম কিছুটা কমেওছে আন্তর্জাতিক বাজারে৷ শুক্রবারের হিসেব অনুযায়ী আর্ন্তজাতিক বাজারে এক ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০.৭৩ ডলার৷ ভারতীয় মুদ্রার হিসেবে দেখতে গেলে এই তেলের দাম প্রতি লিটার ৪৮ টাকা।
সাধারণ মানুষ যে পেট্রোল, ডিজেল কেনেন, তাতে ট্যাক্সের ভাগ দিতে হয় কেন্দ্র, রাজ্য দুই সরকারকেই। বিভিন্ন রাজ্যে এই করের পরিমাণ আলাদা। এই কারনেই তেলের দামেও পার্থক্য দেখা যায়। নভেম্বর মাসে পেট্রোলে লিটারপ্রতি পাঁচটাকা এবং ডিজেলে ১০ টাকা কর কমিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার৷ তবে পশ্চিমবঙ্গ, কেরল সহ বহু রাজ্য সরকার তাদের ভাগের কর কমায়নি। নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান রাজীব কুমার বলেন, 'এর পূর্বে কেন্দ্রীয় সরকার এগিয়ে এসেছিল, ট্যাক্সে ছাড় দিয়েছিল৷ এবার এই সমস্যার সমাধান চাইলে রাজ্য সরকারগুলিকে উদ্যোগী হতে হবে৷'












Click it and Unblock the Notifications