দেশের অর্থনৈতিক দুরবস্থা নিয়ে শঙ্কিত রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর
দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা যেদিকে এগোচ্ছে তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করলেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজন। তিনি জানিয়েছেন পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগ জনক।
দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা যেদিকে এগোচ্ছে তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করলেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজন। তিনি জানিয়েছেন পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। সরকার এখনই কোনও পদক্ষেপ না করলে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হবে। এর থেকে বাঁচার একটাই পথ রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

দেশের একাধিক আর্থিক সংস্থার সঙ্গে আলোচনায় বসা উচিত সরকারের। মোদী সরকারকে এই কঠিন পরিস্থিিত থেকে বেরিয়ে আসার জন্য এই পরামর্শই দিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য মোদী সরকারের সঙ্গে চরম মতবিরোধের কারণেই রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নরের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন রঘুরাম রাজন। তাঁর জায়গায় বসানো হয়েছিল রঘুরাম রাজনকে। কিন্তু মোদী ঘনিষ্ঠ হয়েও শেষ পর্যন্ত সরকারে আর্থিক নীতির সঙ্গে সহমত পোষণ করতে পারেননি উর্জিত। তিনিও মতবিরোধের কারণে পদ ছাড়েন। উর্জিতের পদত্যাগের পরেই খবরে উঠে এসেছিল মোদী সরকার রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মূল ধনেও ভাগ বসাতে চাইছে। এই তোলপাড় হয়েছিল দেশের রাজনৈতিক মহল।
রঘুরাম রাজন কিন্তু সব পরিস্থিতিরই খবর রেখেছিলেন। দ্বিতীয় মোদী সরকার গঠনের প্রথম মাস থেকে শেয়ারবাজার একেবারে মুখ থুবড়ে পড়েছে। কিছুতেই চাঙ্গা করা যাচ্ছে না শেয়ার বাজার। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পড়তে শুরু করেছে টাকার দাম। চরম অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে দেশে। বাজারে স্থিতাবস্থা ফেরা রিজার্ভ ব্যাঙ্ক রেপোরেট কমিয়েছে ঠিকই কিন্তু তাতেই লাভ হয়নি। শেয়ার বাজারের অবস্থা যে তিমিরে ছিল সেই তিমিরেই রয়ে গিয়েছে।
এই নিয়ে রাজন যথেষ্ট উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এই পরিস্থিতি থাকলে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা একেবারেই ধসে পড়বে। এর থেকে বাঁচতে হলে সরকারের উচিত অবিলম্বে ব্যাঙ্ক বগির্ভুত অার্থিক সংস্থাগুলির সঙ্গে আলোচনায় বসা। কারণ মূলধনের অভাবে এই সংস্থাগুলি প্রায় ধুঁকতে শুরু করেছে। সেকারণেই বিনিয়োগে ঘাটতি দেখা দিচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি। এবং অবিলম্বে সরকারের উচিত এই পদক্ষেপ করা।
তার জন্য তিন মাস কী ৬ মাস অপেক্ষা করলে অনেক দেরি হয়ে যাবে। কারণ বেসরকারি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ না বাড়লে শেয়ার বাজার চাঙ্গা হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। এই বেসরকারি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়াতে হলে সবার আগে আর্থিক সংস্থাগুলির মূলধনের যোগান বাড়ানো প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন রাজন। সেটা করতে হলে সরকারকে সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে। এবং একাধিক ক্ষেত্রে আর্থিক সংস্কার করতে হবে। একমাত্র এই পথে এগোলেই দেশের আর্থিক ব্যবস্থা কিছুটা হলেও উন্নতি হবে।












Click it and Unblock the Notifications