বাজেট ২০২৬ নিয়ে কংগ্রেসের তীব্র ক্ষোভ, বরাদ্দে অস্পষ্টতা, নির্জীব বাজেটের অভিযোগ
কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-২৭ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কংগ্রেস। দলের শীর্ষ নেতা জয়রাম রমেশ এই বাজেটকে আখ্যা দিয়েছেন সম্পূর্ণ নিষ্প্রভ ও প্রত্যাশাভঙ্গকারী বলে। বিরোধীদের অন্যতম কড়া প্রতিক্রিয়া হিসেবে রবিবারই তিনি দাবি করেন, বাজেটে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলির অর্থ বরাদ্দ নিয়ে স্পষ্ট কোনও দিশা নেই।
এক্স হ্যাণ্ডেলে দেওয়া পোস্টে জয়রাম রমেশ বলেন, বাজেট নিয়ে যতটা প্রচার চালানো হয়েছিল, বাস্তবে তা সেই উচ্চাশার ধারেকাছেও পৌঁছতে পারেনি। তাঁর অভিযোগ, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন বাজেট ভাষণে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ও সামাজিক কর্মসূচির জন্য নির্দিষ্ট আর্থিক বরাদ্দের কোনও পরিষ্কার ছবি তুলে ধরেননি। ফলে পুরো বক্তব্যই ছিল অস্বচ্ছ।

লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও বাজেট প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, "আমি এ বিষয়ে সংসদের মঞ্চ থেকেই কথা বলব।" সোমবার বাজেট অধিবেশন চলাকালীন তিনি বিস্তারিত মতামত দেবেন বলে জানান।
কংগ্রেসের যোগাযোগ বিভাগের দায়িত্বে থাকা জয়রাম রমেশ আরও লেখেন, "পুরো বাজেট নথি খুঁটিয়ে দেখা বাকি থাকলেও ৯০ মিনিটের ভাষণ শুনেই স্পষ্ট বাজেট ২০২৬-২৭ প্রচারের তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে। এতে কোনও নতুন দিশা নেই, উদ্যম নেই। সবচেয়ে বড় কথা, গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলির জন্য কত টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, সে বিষয়ে ভাষণে কার্যত কোনও তথ্যই নেই।"
এদিকে, কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরও হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বাজেট ভাষণে বিস্তারিত তথ্যের ঘাটতি চোখে পড়েছে। দু একটি শিরোনাম ছাড়া তেমন কিছুই পাওয়া গেল না। আমরা অপেক্ষা করছিলাম সর্বভারতীয় আয়ুর্বেদ ইনস্টিটিউটের ঘোষণার জন্য। কিন্তু সেটার কোনও উল্লেখই নেই," বলেন তিনি।
চলতি বছর কেরালায় বিধানসভা নির্বাচন। সেই প্রেক্ষাপটে কেরালার প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিরুবনন্তপুরমের সাংসদ থারুর। তাঁর অভিযোগ, "কেরালায় আয়ুর্বেদের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম রাজ্যের জন্য কিছু ঘোষণা থাকবে। কিন্তু কেরালার নাম শোনা গেল না। জেলে ও নারকেলের প্রসঙ্গ এসেছে সেগুলো কেরালার সঙ্গে মেলানো যায়, কিন্তু জাহাজ মেরামতের কথা বলতে গিয়ে বারণসী ও পাটনার নাম নেওয়া হয়েছে, কেরালার নয়।"
থারুর আরও বলেন, বাজেট নথিতে হয়তো অতিরিক্ত তথ্য থাকতে পারে, তবে ভাষণে বিস্তারিত কিছুই উঠে আসেনি।
অন্যদিকে, বাজেট ভাষণে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন দাবি করেন, এটি তাঁর টানা নবম কেন্দ্রীয় বাজেট ও এই নীতিপত্রের মূল চালিকাশক্তি 'যুব শক্তি' ও 'কর্তব্যবোধ'। তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে সাতটি উচ্চগতির রেল করিডর, নতুন ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর ও ২০টি জাতীয় জলপথ কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত উচ্চগতির রেলপথগুলির মধ্যে রয়েছে মুম্বই-পুণে, পুণে-হায়দরাবাদ, হায়দরাবাদ-বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ-চেন্নাই, চেন্নাই-বেঙ্গালুরু, দিল্লি-বারাণসী ও বারাণসী-শিলিগুড়ি। সরকারের দাবি, এই করিডরগুলি দেশের আর্থিক কেন্দ্র, প্রযুক্তি হাব, শিল্পাঞ্চল ও উদীয়মান শহরগুলিকে দ্রুত ও পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুক্ত করবে।












Click it and Unblock the Notifications