নিয়মিত আয়ের সংস্থান করতে প্রবীণ নাগরিকদের কয়েকটি বিনিয়োগ প্রকল্প একনজরে
অবসর গ্রহণের পরে অনেকেই সরকারি পেনশন প্রকল্পের বাইরে থাকেন। আর যাঁরা বেসরকারি ক্ষেত্রে কাজ থেকে অবসর নেন, তাঁরা পেনশন প্রকল্পের বাইরে থাকাদের মতো নিয়মিত আয়ের উপায়ের সন্ধান করে থাকেন। এখানে বেশ কয়েকটি বিনিয়োগের কথা আল
অবসর গ্রহণের পরে অনেকেই সরকারি পেনশন প্রকল্পের বাইরে থাকেন। আর যাঁরা বেসরকারি ক্ষেত্রে কাজ থেকে অবসর নেন, তাঁরা পেনশন প্রকল্পের বাইরে থাকাদের মতো নিয়মিত আয়ের উপায়ের সন্ধান করে থাকেন। এখানে বেশ কয়েকটি বিনিয়োগের কথা আলোচনা করা হচ্ছে, যেখান থেকে প্রবীণ নাগরিকরা নিয়মিত আয়ের বন্দোবস্ত করতে পারেন।

সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম
অবসরপ্রাপ্তদের পছন্দের বিনিয়োগের বিকল্পগুলির মধ্যে অন্যতম হল সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম। এই প্রকল্পটিতে সরকারের অবদান রয়েছে। যে কোনও ব্যক্তি ৬০ বছরের বেশি বয়স হলে এই স্কিমে যোগ দিতে পারবেন। ৫৫ বছরের বেশি কিন্তু ৬০ বছরের কম বয়সী অবসরপ্রাপ্তরাও এই স্কিমটি বেছে নিতে পারবেন, যদি তাঁরা অবসরের একমাসের মধ্যে এই স্কিমে বিনিয়োগ করেন। এখানে বিনিয়োগের সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ সীমা হল ১০০০ টাকা থেকে ১৫ লক্ষ টাকা। পাঁচ বছরের জন্য টাকা জমা রাখতে হবে। মেয়াদ পূর্তির পরে এই সময়কাল তিন বছরের জন্য বাড়ানো যেতে পারে।
এই মুহূর্তে এই প্রকল্পে সুদের হার ৭.৪ শতাংশ। প্রতি তিনমাসে এর সুদ দেওয়া হয়। আয়কর আইনের ৮০সি ধারায় প্রবীণ নাগরিকরা আয়কর ছাড়ের দাবি করতে পারেন। পোস্ট অফিস ছাড়াও বেশ কিছু ব্যাঙ্কে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যায়।

প্রধানমন্ত্রী ভাইয়ো বন্দনা যোজনা
এই প্রকল্পটি চালু হয়েছিল ২০১৭ সালে। এই প্রকল্প থেকে প্রবীণ নাগরিক এবং অবসরপ্রাপ্তরা সুবিধা পেতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী ভাইয়ো বন্দনা যোজনার মেয়াদ ১০ বছর। এই প্রকল্পে সুদের হার ৭.৪ শতাংশ। সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিমের সুদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি আর্থিক বছরের শুরুতে এর সুদের হার সংশোধন করা হয়। এই স্কিমে মাসিক, ত্রৈমাসিক, অর্ধবার্ষিক এবং বার্ষিক ভিত্তিতে পেনশন পাওয়া যায়। এই প্রকল্পে সর্বনিম্ন ১,৫৬,৬৫৮ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যায়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, এই প্রকল্পে কোনও অবসরপ্রাপ্ত যদি ৩ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেন, তাহলে তিনি বছরে ২৪,৯০০ টাকা পর্যন্ত পেনশন পেতে পারেন। এই প্রকল্প তিন বছর পূর্ণ হলে, বিনিয়োগের পরিমাণের সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ নেওয়া যায়।
তবে নিজের কিংবা স্ত্রীর গুরুতর অসুস্থতা সংক্রান্ত ব্যাপারে ক্রয়মূল্যের ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত ফেরত পাওয়া যায়। প্রাপ্ত অর্থ প্রবীণ নাগরিকের হাতে করযোগ্য আয় হিসেবে বিবেচিত হয়।

পোস্ট অফিস মাসিক আয় প্রকল্প
পোস্ট অফিস মাসিক আয় প্রকল্পে বিনিয়োগকারীদের মাসিক আয়ের উপায় রয়েছে। এই প্রকল্পে সর্বনিম্ন বিনিয়োগ ১ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বিনিয়োগ একক অ্যাকাউন্টে ৪.৫ লক্ষ টাকা এবং যৌথ অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে ৯ লক্ষ টাকা। এক্ষেত্রে সুদের হার ৬.৬ শতাংশ। সরকার এই প্রকল্পের ক্ষেত্রে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে সুদের হার পর্যালোচনা করে থাকে।

পোস্ট অফিস টাইম ডিপোজিট
পোস্ট অফিস টাইম ডিপোজিট স্কিম স্বল্প সঞ্চয় স্কিমগুলির মধ্যে অন্যতম। আমানতের মেয়াগ হতে পারে এক, দুই, তিন কিংবা পাঁছ বছর। কোনও বিনিয়োগকারী সর্বনিম্ন ১ হাজার টাকা দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। বিনিয়োগের সর্বাধিক কোনও ক্যাপ নেই। পাঁচ বছরের টাইম ডিপোজিটে এই মুহুর্তে সুদের হার ৬.৭ শতাংশ। তবে এই প্রকল্পে বয়স্ক নাগরিক ব্যতীত অন্যরাও বিনিয়োগ করতে পারেন।

ব্যাঙ্ক ফিক্সড ডিপোজিট
ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিট তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ। এটি প্রবীণ নাগরিকদের অন্যতম জনপ্রিয় বিনিয়োগের উপায়। তবে ফিক্সড ডিপোজিটের সুদের হার নির্ভর করে আরবিআই-এর পলিসি রেটেরক ওপরে। তবে বেশিভাগ ব্যাঙ্ক প্রবীণ নাগরিকদের জন্য সাধারণকে দেওয়া সুদের হারের ওপরে ০.৫০% বাড়তি সুদ দিয়ে থাকে। সাধারণভাবে এই সুদ মাসিক, ত্রৈমাসিক, অর্ধ বার্ষিক কিংবা বার্ষিক ভিত্তিতে পাওয়া যায়। বিভিন্ন ব্যাঙ্কের ট্যাক্স সেভিংস এফডিও আছে। তবে সেক্ষেত্রে লক-ইন পিরিয়ড পাঁচ বছরের। আয়কর আইনের ৮০ সি ধারায় আয়কর ছাড়ের সুবিধা পাওয়া যায়। প্রবীণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে একটি আর্থিক বছরে সব ব্যাঙ্কের এফডির সুদ ৫০ হাজারের বেশি হলে ১০ শতাংশ হারে টিডিএস কাটার নিয়ম রয়েছে।

ব্যাঙ্কের বিশেষ মেয়াদি আমানত
কোনও কোনও ব্যাঙ্কে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য পাঁচ বছর কিংবা তার বেশি সময়ের জন্য বিশেষ মেয়াদি আমানতের অফার দিয়ে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে এসবিআই-এর উই কেয়ার এফডি এবং আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কের গোল্ডেন ইয়ার এফডি।

আরবিআই-এর ফ্লোটিং রেট সেভিংস বন্ড ২০২০
আরবিআই-এর ফ্লোটিং রেট সেভিংস বন্ড ২০২০ (করযোগ্য) যা আরবিআই ৭.১৫% বন্ড নামেও পরিচিত। এটিও প্রবীণ নাগরিকদের অন্যতম জনপ্রিয় বিনিয়োগ প্রকল্প। এই বন্ডগুলির সুদের হার প্রতি ছয় মাসে পরিবর্তিত হতে পারে। এর সুদের হার ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট-এর সুদের হারের সঙ্গে যুক্ত। তবে এনএসসির সুদের হারের থেকে ০.৩৫% বেশি সুদ অফার করে থাকে। বিনিয়োগের সর্বনিম্ন সীমা ১ হাজার টাকা। তবে এর বিনিয়োগের কোনও সর্বোচ্চ সীমা নেই। এই বন্ডের মেয়াদ সাত বছরের। ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সী প্রবীণ নাগরিকদের জন্য লক ইন পিরিয়ড হল ছয় বছর। বিনিয়োগকারীর বয়স ৭০-৮০ হলে লক ইন পিরিয়ড ৫ বছর এবং বয়স ৮০-র বেশি হলে লক ইন পিরিয়ড চার বছরের। এই বন্ডের সুদ করযোগ্য।












Click it and Unblock the Notifications