রাম মন্দিরের উদ্বোধনে উত্তর প্রদেশ ধনী হবে! কত টাকা ঢুকবে রাজ্যের কোষাগারে জানলে চমকে যাবেন
Ram Mandir: রাম মন্দিরের উদ্বোধন হওয়ার আগেই উত্তর প্রদেশে পর্যটকের সংখ্যা বিপুল পরিমাণ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞরা। ২৩ জানুয়ারি থেকে সাধারণের জন্য রাম মন্দিরের দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে। বিপুল সংখ্যক পর্যটক রাম মন্দির দেখা জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। পুলিশ সেই ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। এই ভিডডই উত্তর প্রদেশের অর্থনীতিকে ধনী করে তুলবে মনেই জানাচ্ছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
এসবিআই রিসার্চের সাম্প্রতিক একটি গবেষণাপত্রে দাবি করা হয়েছে, উত্তর প্রদেশে রাম মন্দির এবং অন্য পর্যটন কেন্দ্রগুলির কারণে ২০২৪-২৫ সালে যোগীর সরকার পাঁচ হাজার কোটি টাকার কর সংগ্রহ করতে পারে। সেখানে আরও বলা হয়েছে, এক্ষেত্রে অযোধ্যা সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হবে। পর্যটনে প্রত্যাশিত বৃদ্ধির সঙ্গে উত্তর প্রদেশ এই বছর প্রায় চার লক্ষ কোটি টাকা দ্বারা সমৃদ্ধ হতে পারে।

এসবিআই-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুসারে, অযোধ্যায় রাম মন্দির ও অন্য পর্যটন প্রকল্পের কারণে উত্তর প্রদেশের রাজস্ব ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি হতে পারে। সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে উত্তর প্রদেশ কেন্দ্রীয় সরকারে পিলগ্রিমেজ রিজুভেনেশন অ্যান্ড স্পিরিচুয়াল হেরিটেজ অগমেন্টেশন ড্রাইভ প্রকল্প থেকে উপকৃত হচ্ছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের তুলনায় উত্তর প্রদেশের পর্যটন ব্যয় দ্বিগুণ হতে পারে। ২০২২ সালে দেশীয় পর্যটকরা উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলির জন্য ২.২ লক্ষ কোটি টাকা খরচ করেছিলেন। বিদেশি পর্যটকরা খরচ করেছিলেন ১০ হাজার কোটি টাকা। সেই তালিকায় অযোধ্যার রাম মন্দির ও অন্য পর্যটন কেন্দ্রগুলি যুক্ত হওয়ার পরে পর্যটকদের ব্যয় এ বছরেই ৪ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বিদেশি স্টক মার্কেট সংস্থাগুলিও অযোধ্যা নিয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে। তারা বলছে দর্শনার্থীদের সংখ্যার নিরিখে অযোধ্যা ভ্যাটিকান সিটি এবং মক্কাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। মক্কায় প্রতি বছর ২ কোটি মানুষ যান, যা সৌদি আরবের রাজস্বে ১২ বিলিয়ন ডলার অবদান রাখে। ভ্যাটিকানে বার্ষিক ৯০ লক্ষ দর্শনার্থী যান, সেখানকার আয় ৩১৫ মিয়িন ডলার। রিপোর্টে বলা হয়েছে, বছরে প্রায় পাঁচ কোটি ভক্ত অযোধ্যায় যাবেন। যে কারণে অযোধ্যা শুধু উত্তর প্রদেশে নয়, সারা দেশের মধ্যে প্রধান পর্যটন গন্তব্য হয়ে উঠতে চলেছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, এক্ষেত্রে অযোধ্যার বার্ষিক আয়ও বৃদ্ধি পাবে। অন্ধ্রপ্রদেশের তিরুপতিতে প্রতিবছর ২.৫ কোটি ভক্ত যান। সেখানকার বার্ষিক আয় ১২০০ কোটি টাকা। বৈষ্ণ দেবীতে যান ৪০ লক্ষ পর্যটক, সেখানকার বার্ষিক আয় ৫০০ কোটি টাকা। আগ্রার তাজমহল দর্শনে যান ৭০ লক্ষ পর্যটক, সেখানকার বার্ষিক আয় ১০০ কোটি টাকা। আগ্রা ফোর্টে বছরে ৩০ লক্ষ দর্শনার্থী যান, সেখানকার বার্ষিক আয় ২৭.৫ কোটি টাকা।
অযোধ্যা ভ্রমণকারী ভক্তরা অন্য ধর্মীয় স্থান যেমন বারাণসীর কাশী বিশ্বনাথ মন্দির ও মথুরার বাঙ্কে বিহারী মন্দিরে যেতে পারেন। যা বারাণসী ও মথুরার স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এইভাবে উত্তর প্রদেশের অর্থনীতিতে প্রতি বছর অতিরিক্ত এক লক্ষ কোটি যুক্ত হতে পারে, যা পরিশেষে ভারতের অর্থনীতির উন্নয়নে অবদান রাখবে বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদদের একাংশ।












Click it and Unblock the Notifications