প্রবীণ নাগরিকরা কি আবার ট্রেন ভাড়ায় ছাড় পাবেন? রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই তথ্য জানিয়েছেন
একটা সময় প্রবীণ নাগরিকদের ট্রেন ভাড়ায় ছাড় দেওয়া হত। তা বন্ধ হওয়ার পরে অবশ্য বেশ কয়েক বছর কেটে গিয়েছে। মাঝে মধ্যেই এই ছাড় ফের চালু করা নিয়ে আলোচনা হয়। বিষয়টি লোকসভা ও রাজ্যসভাতেও উঠেছে। আর্থিক বছর শেষ হওয়ার আগে কেন্দ্রীয় সরকার প্রবীণ নাগরিকদের ট্রেনের ভাড়ায় ছাড়ের ক্ষেত্রে নতুন আপডেট দিয়েছে।
বুলেট ট্রেন প্রকল্পের কাজ পর্যালোচনা করতে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব আহমেদাবাদ গিয়েছিলেন। সেই সময় তাঁর কাছে প্রবীণ নাগরিক ও স্বীকৃত সাংবাদিকদের রেলের ভাড়ায় ছাড় দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। সেই সময় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ কোনও ভাবেই সেই প্রশ্নের উত্তর দেননি। তিনি শুধু বলেছেন, সব ট্রেন যাত্রীরা ইতিমধ্যেই ট্রেন ভাড়ায় ৫৫ শতাংশ ছাড় পাচ্ছেন।

উল্লেখ করা প্রয়োজন, কোভিডের আগে সারা দেশেই প্রবীন নাগরিকদের মধ্যে মহিলারা ও স্বীকৃত সাংবাদিকরা রেল ভাড়ায় ৫০ শতাংশ বিশেষ ছাড় পেতেন। পুরুষরা পেতেন ৪০ শতাংশ ছাড়। এক্ষেত্রে প্রবীণ নাগরিকদের মধ্যে পুরুষদের বয়সসীমা ছিল ৬০ বছর আর মহিলাদের জন্য ৫৮ বছর। কিন্তু করোনা মহামারীর সময় সারা দেশে লকডাউন জারি হয় ২০২০-র মার্চের শেষের দিকে। সেই সময় দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ট্রেনের চাকাও থামানো হয়। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার পরে ট্রেন চলাচলও ধীরে ধীরে শুরু হয়। এরপর ২০২২-এর জুনে তা সম্পূর্ণভাবে চালু হয়।
প্রবীন নাগরিকদের জন্য রেলের ভাড়ায় ছাড় দেওয়ার যে পরিকল্পনা আপাতত নেই, তা রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বারে বারেই তা বুঝিয়ে দিয়েছেন। যেমনটি তিনি বলেছেন, রেলে চাপা সব যাত্রীই ভাড়ায় ৫৫ শতাংশ ছাড় পাচ্ছেন। এর আগেও তিনি বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেছিলেন, কোনও রুটে টিকিটের দাম ১০০ টাকা হলে রেলের তরফে মাত্র ৪৫ টাকা নেওয়া হয়।
গত নভেম্বরে রেলমন্ত্রী লোকসভায় জানিয়েছিলেন ২০১৯-২০ সালে কেল যাত্রী টিকিটে ৫৯,৩৮৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে। তিনি তারপরেও বলেছিলেন, রেল এখনও যাত্রী ভাড়ায় ভর্তুকি দিয়ে চলেছে। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, প্রত্যেক রেলযাত্রীর ভাড়ায় রেলের ভর্তুকির পরিমাণ ৫৩ শতাংশ।
এব্যাপারে উল্লেখ করা প্রয়োজন, গত বছরে তথ্য জানার অধিকার আইনে দাখিল করা এক আবেদনে রেল জানিয়েছিল, প্রবীণ নাগরিকদের ছাড় দেওয়া বন্ধ করে বড় অঙ্কের টাকা সাশ্রয় করেছে ভারতীয় রেল। তারা বলেছিল, ২০২০-র ৩০ মার্চ থেকে ২০২২-এর ৩১ মার্চের মধ্যে প্রবীণ নাগরিকদের কাছ থেকে ভাড় বাবদ ৩,৪৬৪ কোটি টাকা আয় হয়েছে। এর মধ্যেই ছাড় বাতিলের জন্য অতিরিক্ত ১৫০০ কোটি টাকা সঞ্চয়ের অঙ্কও রয়েছে।
তবে রেলের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তরফে সরকারের কাছে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য ছাড় ফেরানোর আবেদন করা হয়েছিল। এসি থ্রিএ ও স্লিপার ক্লাসে ছাড় ফেরানোর বিষয়ে জানানো হয়েছিল। যদিও সেই আবেদন মানেনি রেলমন্ত্রক।












Click it and Unblock the Notifications