দেশের আর্থিক বৃদ্ধির গতিতে উদ্বিগ্ন রঘুরাম রাজন! তুলনা করলেন অর্থনীতিতে 'হিন্দু হার বৃদ্ধি'র সঙ্গে
বিশ্ব অর্থনীতির প্রভাব পড়েছে দেশের আর্থিক বৃদ্ধির ওপরেও। তবে দেশের বর্তমান আর্থিক বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বিগ্ন আরবিআই-এর প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজন।
বরাবর মোদী সরকারের অর্থনীতির সমালোচক তিনি। তাঁকে দেখা গিয়েছিল ভারত জোড়ো যাত্রায় রাহুল গান্ধীর পাশে। এহেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজন ফের একবার দেশের অর্থনীতি নিয়ে সতর্ক হওয়ার কথা বলেছেন।

প্রভাবিত ভারতের অর্থনীতি
চলতি আর্থিক বছরের তৃতীয় ত্রৈমাসিকের জিডিপি ৪.৪ শতাংশে নেমে গিয়েছে। বেসরকারি বিনিয়োগ না হওয়া, বেশি সুদের হার এবং সারা বিশ্বেই বৃদ্ধি মন্থর হওয়ার প্রভাব ভারতের অর্থনীতির ওপরে পড়ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাতকারে রঘুরাম রাজন বলেছেন, অনেকেই বলবেন, আগেকার সময়ে জিডিপি ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার কথা। তবে তিনি উদ্বিগ্ন তা ক্রমেই মন্থর হয়ে পড়ার কারণে। তিনি বলেছেন, বেসরকারি পর্যায়ে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ হচ্ছে না। অন্যদিকে আরবিআই সুদের হার বাড়িয়ে যাচ্ছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, বছরের শেষের দিকে বিশ্বের বৃদ্ধি ধীর হয়ে পড়বে। ফলে কোথা থেকে ভারত অতিরিক্ত বৃদ্ধির গতি পাবে তা নিয়ে তিনি সন্দিহান বলে জানিয়েছেন।

উদ্বিগ্ন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজন বলেছেন, তিনি উদ্বিগ্ন। কেননা এই মুহূর্তে বৃদ্ধি ৫ শতাংশ ছুঁলেই আমরা নিজেদেরকে ভাগ্যবান বলে মনে করব। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে ভারতের জিডিপি বলে দিচ্ছে দেশে বৃদ্ধি শ্লথ হয়ে পড়েছে, বছরের প্রথম অংশের থেকে।
তিনি বলেছে, তাঁর আগেকার আশঙ্কা ভুল ছিল না। কেননা আরবিআই আর্থিক বছরের শেষ ত্রৈমাসিকের জন্য আর্থিক বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা রেখেছে ৪.২ শতাংশ। তিনি বলেছেন, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর সময়ের মধ্যে বৃদ্ধি (৩.৭ শতাংশ) চলে গিয়েছে, তার ৩ বছরের আগেকার মহামারী সময়ে।

সরকারের খামতি কোথায়
রঘুরাম রাজন বলেছেন, সরকার পরিকাঠামোয় যতটা করতে পেরেছে, তুলনায় উৎপাদন ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছে। তিনি বলেছেন, এই মুহূর্তে অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য হল পরিষেবা ক্ষেত্র। সরকারের প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ স্কিমের কথা বলতে গিয়ে তাঁর প্রশ্ন, কতগুলি চাকরি তৈরি হয়েছে, সেখানে প্রতি চাকরির দামই বা কত?দেশে প্রয়োজনীয় চাকরির ক্ষেত্র তৈরি করতে উৎপাদন এবং পরিষেবা উভয়ক্ষেত্রেই কাজ করতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। রাজন আরও বলেছেন, বিশ্বের বেশিরভাগ উন্নত অর্থনীতিই হল পরিশেবা নির্ভর, সেই কারণে ভারত উৎপাদনের কেন্দ্র না হয়েও বৃহৎ অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে।

হিন্দু বৃদ্ধির হার
১৯৫০ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে ভারতের নিম্ন আর্থিক বৃদ্ধির হারকে হিন্দু বৃদ্ধির হার বলা হয়ে থাকে। সেই সময় দেশের বৃদ্ধির হারের গড় ছিল ৪ শতাংশের আশপাশে। ১৯৭৮ সালে অর্থনীতিবিদ রাজকৃষ্ণ ধীরগতির আর্থিক বৃদ্ধিকে হিন্দু বৃদ্ধির হার বলে বর্ণনা করেছিলেন।












Click it and Unblock the Notifications