যুদ্ধের ধাক্কা! বিশ্ববাজারে তেলের দামে আগুন, কত বাড়ছে পেট্রোল-ডিজেলের দাম? চাপে ভারত
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড়সড় উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহে ধাক্কা লেগেছে। আর এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে তেলের বাজারে। অপরিশোধিত তেলের দাম একধাক্কায় প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে।

বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের ব্যারেল প্রতি দাম ৮০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। গত শুক্রবার যে দাম ছিল ৭২.৯ ডলার। অর্থাৎ মাত্র দুই দিনের মধ্যেই প্রায় ১০ ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের হিসাব অনুযায়ী, ব্যারেল প্রতি ১০ ডলার দাম বাড়লে ভারতের বার্ষিক আমদানি খরচ ১৩ থেকে ১৪ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। অর্থাৎ ভারতীয় টাকা অনুসারে যা ১ হাজার ১৮৮ কোটির বেশি।
ভারত তার মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল আমদানি করে। আর এই তেলের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ তেল আসে হরমুজ প্রণালী হয়ে। যা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেড়ে গিয়ে প্রায় ৫০ শতাংশে এসে পৌঁছেছিল। দেশের এলএনজি চাহিদারও অর্ধেক এই পথ হয়েই আসে। এর ফলে যদি সরবরাহ দীর্ঘদিন ধরে ব্যাহত হয় তাহলে জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়বে বলেই আশঙ্কা।
যদিও আপাতত পেট্রল এবং ডিজেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে না। ভারতের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক (Petroleum Ministry of India) পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে। প্রাথমিকভাবে আমদানি শুল্ক এবং অন্যান্য লেভি কমিয়ে সাধারণ মানুষের উপর চাপ কমানোর চিন্তাভাবনা চলমান। তবে এর ফলে তেল সংস্থাগুলিকে কিছু আর্থিক বোঝা বহন করতে হতে পারে।
ভারতের হাতে বর্তমানে প্রায় ৭৪ দিনের তেল মজুত রয়েছে। বিকল্প হিসেবে ভেনেজুয়েলা, পশ্চিম আফ্রিকা, আমেরিকা এবং ল্যাটিন আমেরিকা থেকে তেল আমদানি বাড়ানোর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গত এক বছরের মধ্যে রাশিয়া থেকে আমদানি কিছুটা কমিয়েছে ভারত।
বিশ্ব রাজনীতির টানাপোড়েন যে সরাসরি জ্বালানি বাজারকে নাড়া দিচ্ছে, তা একদমই স্পষ্ট। এখন নজর, সংঘাত কতদিন স্থায়ী হয় এবং তার প্রভাব কতদূর পর্যন্ত গড়ায়।












Click it and Unblock the Notifications