কেন্দ্রীয় প্রকল্পেও অর্থের বৃদ্ধি, 'কম সময়ে' টাকা দ্বিগুণ করার গ্যারান্টি সরকারের
কেন্দ্রীয় প্রকল্পেও অর্থের বৃদ্ধি, 'কম সময়ে' টাকা দ্বিগুণ করার গ্যারান্টি সরকারের
প্রত্যেকেই চান তাঁদের টাকা এমন জায়গায় বিনিয়োগ করতে, যেখানে টাকা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দ্বিগুণ হয়ে যায়। এর সঙ্গে টাকা ফেরতের নিরাপত্তাটাও জরুরি। সেরকম প্রকল্প রয়েছে ভারত সরকারের। নিরাপত্তার সঙ্গে রয়েছে টাকা দ্বিগুণ করার গ্যারান্টি। তা পাওয়া যাচ্ছে পোস্ট অফিসের স্বল্প সঞ্জয় প্রকল্পের ( Post office small savings scheme) মাধ্যমে।

ঝুঁকিশূন্য বিনিয়োগ
রাজ্যে চিটফান্ডের রমরমা অন্তত সামনে থেকে কিছু দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। বছর দশেক আগে পরিস্থিতিটা ছিল অন্য রকমের। কম সময়ের টাকা দ্বিগুণ। একবার দ্বিগুণ হলেই, অনেকেই আবার টাকা রাখছিলেন বেসরকারি অর্থলগ্নিকারী সংস্থায়। যার জেরে বহু মানুষের বহু টাকা হারিয়েছেন। সেই পরিস্থিতিতে কেউ যদি নিরাপদ বিনিয়োগ করতে চান এবং টাকা দ্বিগুণ করতে চান, তাহলে তাঁকে পোস্ট অফিসের স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পে ঝুঁকিহীন বিনিয়োগ করতে পারেন। দীর্ঘ মেয়াদি হলে, পোস্ট অফিসের কিষাণ বিকাশপত্র প্রকল্পটি বেশ ভাল।

কিষাণ বিকাশ পত্র প্রকল্প
কিষাণ বিকাশ পত্র প্রকল্পটি হল ভারত সরকারের এককালীন বিনিয়োগ প্রকল্প। যার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট সময়ে টাকার অঙ্ক দ্বিগুণ হয়। কিষাণ বিকাশপত্র দেশের সব পোস্ট অফিস এবং বড় ব্যাঙ্কে পাওয়া যায়। এর সময়কাল হল ১২৪ মাস অর্থাৎ ১০ বছর। ন্যূনতম এক হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। তবে এতে বিনিয়োগের কোনও ঊধর্বসীমা নেই। কিষাণ বিকাশপ্তর কিংবা কেভিপি সার্টিফিকেটের আকারে বিনিয়োগ হয়ে থাকে। যেখানে এক হাজার, পাঁচহাজার, ১০ হাজার, ৫০ হাজার পর্যন্ত সার্টিফিকেট পাওয়া যায়।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
এই প্রকল্পে বিনিয়োগের কোনও সীমা নেই। তাই এক্ষেত্রে অর্থপাচারের আশঙ্কা রয়েছে সরকারের। তাই এই প্রকল্পে ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়ো়গের জন্য প্যান কার্ড জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। তা ছাড়া পরিচয়পত্র হিসেবে আধার জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। যদি কেউ ১০ লক্ষ টাকা কিংবা তার বেশি বিনিয়োগ করতে চান, তাহলে তাঁকে আয়ের প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে। তাঁকে আইটিআর, বেতনের স্লিপ এবং ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট জমা দিতে হবে।

সার্টিফিকেট কেনার পদ্ধতি
১) সিঙ্গল হোল্ডার টাইপ সার্টিফিকেট- এটি নিজের জন্য কিংবা নাবালকের জন্য কেনা যায়।
২) জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট সার্টিফিকেট- এটি যৌথভাবে অর্থাৎ দুজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি কিনতে পারেন। উভয়কেই কিংবা যিনি জীবিত থাকবেন, তাঁকে ফেরত দেওয়া হবে।
৩) জয়েন্ট বি অ্যাকাউন্ট সার্টিফিকেট- এটি যৌথভাবে অর্থাৎ দুজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি কিনতে পারেন। যে কেউ কিংবা যিনি জীবিত থাকবেন, তাঁকে টাকা ফেরত দেওয়া হয়।

কিষাণ বিকাশ পত্রের বৈশিষ্ট্য
১) এই প্রকল্প/স্কিম নিশ্চিত রিটার্ন দেয়। এটি বাজারের ওঠা-নামার ওপরে নির্ভরশীল নয়। সেই কারণেই এই প্রকল্পে বিনিয়োগ নিরাপদ।
২) সময় শেষ হওয়ার পরে পুরো টাকা বিনিয়োগকারী ফেরত পাবেন।
৩) আয়কর আইনের ৮০ সি ধারায় আয়করে ছাড় পাওয়া যায় না।
৪) এর ওপরে রিপার্ট সম্পূর্ণ করযোগ্য। তবে টাকা তোলার ওপরে কোনও কর দিতে হয় না।
৫) মেয়াদপূর্তিতে টাকা তোলা যায়। তবে এই ক্ষেত্রে ৩০ মাস অর্থাৎ আড়াই বছরের লকইন পিরিয়ড থাকে। এই সময়ের আগে বিনিয়োগকারী কোনও টাকা তুলতে পারবেন না। যদি না বিনিয়োগকারী মারা যান, কিংবা আদালতের আদেশ থাকে।
৬) ১০০০, ৫০০০, ১০০০০, ৫০০০০-এই মূল্যে বিনিয়োগ করা যেতে পারে।
৭) কিষাণ বিকাশপত্রকে জমানত হিসেবে রেখে ঋণ নেওয়া যেতে পারে।

পোস্ট অফিসের অন্যে বিনিয়োগ প্রকল্প
১) পোস্ট অফিসের অন্য বিনিয়োগ প্রকল্পগুলিও বেশ আকর্ষণীয়। এক থেকে তিন বছরের জন্য রয়েছে পোস্ট অফিসের টাইম ডিপোজিট স্কিম। এই প্রকল্পে সুদের হার ৫.৫ শতাংশ। দ্বিগুণ টাকা ফেরত পাওয়া যায় ১৩ বছরে। ২) কোনও বিনিয়োগকারী চাইলে পোস্ট অফিসের সেভিংস ব্যাঙ্ক স্কিমে টাকা রাখতে পারেন। ৪ শতাংশ সুদে এই স্কিমে টাকা দ্বিগুণ হয় ১৮ বছরে।
৩) পোস্ট অফিস রেকারিং ডিপোজিট স্কিমে সুদের হার ৫.৮ শতাংশ। এই স্কিমে ১২ বছর ৫ মাসে টাকা দ্বিগুণ হয়।
৪) পোস্ট অফিস মান্থলি ইনকাম স্কিমে টাকা দ্বিগুণ হয় ১১ বছরে। সুদের হার ৬.৬ শতাংশ।
৫) সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিমে ১০ বছরে টাকা দ্বিগুণ হয়ে থাকে। সুদের হার ৭.৪ শতাংশ।
৬) সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনায় সাড়ে নয় বছরে টাকা দ্বিগুণ হয়ে থাকে। সুদের হার ৭.৬ শতাংশ।












Click it and Unblock the Notifications