বারে বারে চাকরি পরিবর্তন করলে নজর দিন, এই কাজটি না করলে PF-এর টাকা তুলতে পারবেন না
বারে বারে চাকরি পরিবর্তন করলে নজর দিন, এই কাজটি না করলে PF-এর টাকা তুলতে পারবেন না
যদি কোনও ইপিএফও (epfo) গ্রাহক চাকরি পরিবর্তন করে থাকেন, তাহলে সেই সম্পর্কিত তথ্য তাঁকে অ্যাকাউন্টে আপডেট করার উদ্যোগ নিতে হবে। না হলে তিনি টাকা তুলতে কিংবা টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা সরাতে পারবেন না। এই কাজটি নিয়োগ কর্তার করার কথা থাকলেও, তা অনেক সময়ই করা হয় না।

ইপিএফও-র তরফে উদ্যোগ
অনেক সময়ই দেখা গিয়েছে চাকরি পরিবর্তন করার সময় অনেকেই পিএফ অ্যাকাউন্ট ট্র্যান্সফার করতে ভুলে যাই। এছাড়াও মনও হয়ে থাকে, পুরনো সংস্থা (কোম্পানি) ইপিএফওতে কর্মীর ছেড়ে যাওয়ার তারিখ উল্লেখ করতে ভুলে যায়। যেই কারণে পরবর্তী সময়ে কর্মীর পিএফ ব্যালেন্স স্থানান্তরে অসুবিধা দেখা দেয়। তবে কর্মচারী প্রভিডেন্ট ফান্ড তাদের সদস্যদের জন্য কাজকে আরও সহজ করে দিয়েছে।

আগে শুধুমাত্র কোম্পানি তারিখ আপডেট করতে পারত
আগে শুধুমাত্র নিয়োগকর্তা সংস্থায় কর্মীদের যোগদানের কিংবা ছেড়ে যাওয়ার তারিখ আপডেট করতে পারতেন। কিন্তু এই প্রক্রিয়া কর্মীরা অনেক ক্ষেত্রেই মুশকিলে পড়ছিলেন। এই দুটি তারিখ আপডেট না থাকার কারণে সংস্থা ছেড়ে যাওয়া কর্মীরা টাকা তুলতে কিংবা টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে সরাতে সমস্যার পড়ছিলেন।

এখন কর্মীরাই তারিখ আপডেট করতে পারবেন
এই সুবিধা এখন কর্মীদের অর্থাৎ ইপিএফও সদস্যদের দেওয়া হয়েছে। কোনও সংস্থায় চাকরি ছাড়ার পরে সেই তারিখ তারা সেখানে ঢুকিতে দিতে পারবেন। তার জন্য কোম্পানির ওপরে নির্ভর করতে হবে না। এই সুবিধার ফলে ইপিএফও থেকে টাকা তোলা কিংবা টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে সরানোর কাজ অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে। যদি কোনও গ্রাহক তাঁর পিএফ অ্যাকাউন্টে কোনও সংস্থা ছাড়ার তারিখ উল্লেখ করতে চান, তাহলে সেই প্রক্রিয়াটি ঘরে বসে অনলাইনে করতে পারবেন।

যে প্রক্রিয়ায় ইপিএফও-তে তথ্য আপডেট করা যাবে
১) https://unifiedportal-mem.epfindia.gov.in/memberinterface/-এ যেতে হবে।
২) UAN, পাসোয়ার্ড এবং ক্যাপচা কোড লিখে লগ ইন করতে হবে।
৩) একটা নতুন পাতা খুলে যাবে, সেখানে manage-এ ক্লিক করতে হবে।
৪) এরপর mark exit-এ ক্লিক করতে হবে।
৫) ড্রপডাউনে গিয়ে 'সিলেক্ট এমপ্লয়মেন্ট' দেখা যাবে, সেখানে পুরনো পিএফ অ্যাকাউন্ট নম্বর সিলেক্ট করতে হবে, যা UAN-এর সঙ্গে যুক্ত।
৬) সেই অ্যাকাউন্ট এবং চাকরির সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য দেখতে পাবেন।
৭) সেখানে চাকরি ছাড়ার কারণ লিখতে হবে এবং চাকরি ছাড়ার কারণ হিসেবে অবসর ছাড়াও সর্ট সার্ভিসের মতো কারণ উল্লেখ করা যেতে পারে।
৮) এরপর রিকোয়েস্ট ওটিপিতে ক্লিক করতে হবে।
৯) ওটিপি দেওয়ার পরে চেক বক্সে ক্লিক করতে হবে।
১০) UDATE-এর পরে OK-তে ক্লিক করতে হবে। এখানেই কাজ শেষ।

একবার সেখানে দেওয়া তথ্য আর পরিবর্তন করা যাবে না
তবে এই পুরো কাজটি করার সময় তা খুব যত্নের সঙ্গে করতে হবে। কেননা একবার তারিখ দিয়ে দিলে, তা আর সম্পাদনা করা যাবে না। যদি কেউ কিছু দিন আগে চাকরি ছেড়ে থাকেন, তাহলে তার উল্লেখ করতে দুমাস অপেক্ষা করতে হবে। কেননা পিএফ-এ নিয়োগকর্তা যে টাকা জমা দেন, তার শেষ অংশ জমা দেওয়ার দুমাস পরে আপডেট হবে।
এর আগে ইপিএফও-র তরফে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল পিএফ এবং পেনশনের অ্যাকাউন্ট আলাদা হতে পারে। কেননা অ্যাকাউন্ট দুটি আলাদা হলে হিসেব রাখতে সুবিধা হবে। পিএফ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতেও কোনও অসুবিধা হবে না। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে গঠিত সরকারি প্যানেলে আলোচনা হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে।
ইপিএফওতে নিয়োগকারী সংস্থা এবং কর্মী দুজনের তরফে প্রতিমাসে প্রাথমিক বেতনের ১০ শতাংশ করে টাকা জমা দেওয়া হয়ে থাকে। করোনা পরিস্থিতিতে ইপিএফও সদস্যদের তাঁদের অর্থের একটি অংশ তুলে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছিল। তবে পুরো টাকা এখনই তুলে নেওয়া যাবে না। গতবছরে দেশে করোনা মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে এবছরের ৩১ মে পর্যন্ত ৭০.৬৩ লক্ষ কর্মী পিএফ-এর টাকা তুলেছেন। তাঁদের অনেকেই কাজ হারিয়েছেন।












Click it and Unblock the Notifications