রাজ্য নয়, পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে লাভবান হয়েছে কেন্দ্রই
রাজ্যগুলি নয়, পেট্রোল- ডিজেল থেকে কেন্দ্রই বিপুল লাভ করেছে, সেইসঙ্গে পেট্রোল ও ডিজেলে সেন্ট্রাল এক্সাইজও কয়েকগুন বেড়েছে
পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির জন্য রাজ্যগুলির চাপানো ভ্যাটকেই দায়ী করেছেন পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, রাজ্যগুলি নয়, পেট্রোল- ডিজেল থেকে কেন্দ্রই বিপুল লাভ করেছে। সেইসঙ্গে পেট্রোল ও ডিজেলে সেন্ট্রাল এক্সাইজও কয়েকগুন বেড়েছে।

কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের ওয়েবসাইটে দেওয়া পরিংসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৪- ১৫ অর্থবর্ষে পেট্রোপন্য থেকে ১,৭২,০৬৬ কোটি টাকা আয় করেছিল কেন্দ্র। কিন্তু ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষে দেখা যাচ্ছে পেট্রোপন্য থেকে হওয়া আয় বেড়ে হয়েছে ৩,৩৪,৫৩৪ কোটি টাকা। এই পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট, দু বছরে পেট্রোলিয়ামজাত দ্রব্য থেকে কেন্দ্রের আয় প্রায় দ্বিগুন হয়েছে।

অপরদিকে রাজ্যগুলির আয়ও বেড়েছে ঠিকই কেন্দ্রের তুলনায় কম। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষে যেখানে রাজ্যগুলির আয় হয়েছে ১,৬০,৫৫৪ কোটি টাকা, ২০১৬-১৭ সালে তা বেড়ে হয়েছে ১,৮৯,৭৭০ কোটি টাকা। রাজ্যগুলি যদি ভ্যাট বাড়িয়ে দিত তাহলে এই পরিসংখ্যান নিশ্চিতভাবেই অন্য হত।

অপরদিকে পেট্রোল ও ডিজেলে ধাপে ধাপে সেন্ট্রাল এক্সাইজও বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া হিসেব অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি ডিজেল ও পেট্রোলে লিটার প্রতি সেন্ট্রাল এক্সাইজ ছিল যথাক্রমে ৩.৫৬ টাকা ও ৯.৪৮ টাকা, সেটাই বর্তমানে ১৭.৩৩ টাকা ও ২১.৪৮টাকা হয়েছে। কয়েক বছরে সেন্ট্রাল এক্সাইজও যে কয়েকগুন বেড়েছে তা এই পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট।
স্বাভাবিকভাবেই পেট্রোল ও ডিজেলকে জিএসটি-র আওতায় এনে এই বিপুল আয়ে কোপ বসাতে চাইবে না কেন্দ্রীয় সরকার। জিএসটি চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এন্ট্রি ট্যাক্সও তুলে দিয়েছে কেন্দ্র। কিন্তু কর্নাটক সহ বিভিন্ন রাজ্যে গ্রাহকদের থেকে এখনও এন্ট্রি ট্যাক্স নেওয়া হচ্ছে বলেই জানা গিয়েছে। পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী কথা মত যদি সত্যিই পেট্রোল- ডিজেল জিএসটি-র আওতায় আসে তাহলে আমজনতা খুবই উপকৃত হবে। কিন্তু তা যে আদৌ হবে না তা বুঝতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়ামমন্ত্রকের ওয়েবসাইটের পরিসংখ্যান থেকেই তা স্পষ্ট।












Click it and Unblock the Notifications