৫৬ হাজার টাকার নীচে নামবে সোনার দাম? কেন ৪০ শতাংশ পতনের দিকে এই ধাতু
মহিলারাদের অত্যন্ত প্রিয় ধাতুই হল সোনা। তাছাড়া যেভাবে সোনার দাম বাড়ছে তাতে অনেকেরই সোনা কেনার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাচ্ছে। তাছাড়া আসছে বৈশাখ মাস। বিয়ের মাস। তাছাড়া পয়লা বৈশাখ থেকে অক্ষয় তৃতীয়ায় অনেকেই পছন্দের গয়না কিনে থাকেন। তবে এবার কি দোকানের দিকে পা বাড়াতেই পারবেন না ক্রেতারা?
তাছাড়াও সোনার দাম বাড়ায় দোকানদাররা লাভ করতে পারলেও ক্রেতারা বেশ চাপের মুখে পড়ছেন। তবে এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন মর্নিংস্টারের বিশ্লেষক বলেছেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বর্তমান সময়ের দামের থেকে ৩৮ শতাংশ দাম কমবে সোনার।

কত টাকা পতন হবে সোনার?
বর্তমান সময়ে ভারতের বাজারে ২৪ ক্যারেটের সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ৯০ হাজার টাকা। তা বিশ্বের বাজারে ৩,১০০ ডলারেরও বেশি। ভারতে এই ধাতুর দাম প্রায় ৪০ শতাংশ পতনের সম্ভাবনা রয়েছে। যার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ৫৫ হাজার টাকায় নেমে আসতে পারে।
কী জানালেন মিলস
আমেরিকান ফিনান্সিয়াল সার্ভিস ফার্ম মর্নিংস্টারের বিশ্লেষক জন মিলস জানিয়েছেন, এই মূল্যবান ধাতুর দাম প্রতি আউন্সে বর্তমান ৩,০৮০ ডলার, যা কিন্তু অনেকটাই পতন হবে। দাঁড়াবে ১,৮২০ ডলারে।
কেন বেড়েছে সোনা দাম
বর্তমানে অনেক কারণেই সোনার মতো মূল্যবান ধাতুর দাম বেড়েছে। যার মধ্যে মূল ও প্রধান কারণগুলি হল ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, মার্কিন অর্থনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা ও ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা। তাছাড়াও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধ এই সমস্যা আরও বাড়িয়েছে। আর এই কারণেই নিরাপদ সম্পদে বিনিয়োগ করার জন্য সোনার মতো মূল্যবান ধাতুর দিকেই ঝুকচ্ছেন সকলে ।
সোনার দাম কমার কারণ
তবে সোনার দাম যেমন অনেক কারণে বেড়েছে। ঠিক তেমনই এই মূল্যবান ধাতুর দাম কিন্তু অনেক কারণেই কমবে। জানুন সেই কারণগুলি।
সোনার সরাবরাহ দ্রুতই বৃদ্ধি পাওয়া
প্রথম কারণই হল সোনার সরাবরাহ খুব দ্রুতই বৃদ্ধি। ২০২৪ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে সোনার খনি শ্রমিকদের গড় মুনাফা প্রতি আউন্সে ছিল ৯৫০ ডলার। ২০২৪ সালে বিশ্বের মোট সোনার মজুত ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২১৬,২৬৫ টনে পৌঁছেছে। তাছাড়া অস্ট্রেলিয়া কিন্তু উৎপাদন বাড়িয়েছে। আবার পুরানো সোনাও কিন্তু ব্যবহার করা হচ্ছে।
সোনার চাহিদা কি কমছে?
দ্বিতীয় কারণ হল সোনার চাহিদা কমছে। অনেক কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক যারা গত বছরে ১০৪৫ টন সোনা কিনেছিল। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৭১ শতাংশ কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক তারা সোনা মজুত রাখা কমাতে পারে।
দাম শীর্ষে
তৃতীয় কারণ হল, সোনার মতো মূল্যবান ধাতুর দাম এখন শীর্ষে। ২০২৪ সালে সোনার দাম ৩২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যা কিন্তু অতীতে থাকা দামকেও ছাড়িয়ে গেছে।
কী বলছে এই তথ্য
মিলসের দেওয়া তথ্য অনুসারে, অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান কিন্তু আশাবাদী। তারা মনে করছে, সোনার দাম কমবে। ব্যাঙ্ক অফ আমেরিকার মতে, আগামী দুই বছরে সোনার দাম প্রতি আউন্স ৩,৫০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে এখানেই শেষ নয়, গোল্ডম্যান শ্যাক্স আশা করছেন যে, চলতি বছরের শেষের দিকে আউন্স প্রতি ৩,৩০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে সোনা। তবে এখন দেখার বিষয় সোনার দাম আরও বাড়বে নাকি পতনের দিকে এগিয়ে যাবে!












Click it and Unblock the Notifications