কোভিড থেকে নির্বাচনী ধাক্কা! শেয়ার মার্কেট ধরাশায়ী হওয়ার এমন কিছু ইতিহাস
সোমবার সকালে বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই বিপুল ধস নামে শেয়ার বাজারে। বিশেষত, সেনসেক্স ও নিফটিতে। ট্রাম্পের শুল্কনীতির (Trump's tariff policy) 'আফটারশক' বলেই মনে করছেন ভারতীরা। প্রায় ৪ হাজার পয়েন্ট পতন হয় বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে। একই অবস্থা নিফটিরও (Nifty)। এক হাজার পয়েন্ট পড়ে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের সূচকও। বলা চলে একেবারে টালমাটাল অবস্থা শেয়ার বাজারের।
এনএসই নিফটি ১,১৬০.৮ পয়েন্ট বা ৫.০৬ শতাংশ কমে ২১,৭৪৩.৬৫-এ দাঁড়িয়েছে, যা ১২ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পতনের একটি। একইভাবে, ৩০-শেয়ারের বিএসই বেঞ্চমার্ক সেনসেক্স ৩,৯৩৯.৬৮ পয়েন্ট বা ৫.২২ শতাংশ কমে ৭১,৪২৫.০১-এ দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্পের শুল্কনীতির কারণেই শেয়ার বাজারে (Stock market) এই রক্তক্ষরণ। সমগ্র এশিয়ার স্টক মার্কেটেরই এক অবস্থা।

এদেশের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের অবস্থাও খারাপ। দেশের অন্যতম প্রধান স্টক এক্সচেঞ্জ সূচক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ কমেছে প্রায় সাড়ে ৪ শতাংশ। ন্যাসড্যাক কমেছে সাড়ে ৫ শতাংশের বেশি। সেনসেক্সের সমস্ত কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে। টাটা স্টিল এবং টাটা মোটরস প্রতিটির শেয়ারের দাম ১০ শতাংশেরও বেশি কমেছে। লারসেন অ্যান্ড টুব্রো, এইচসিএল টেকনোলজিস, আদানি পোর্টস, টেক মাহিন্দ্রা, ইনফোসিস, টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ এবং মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা অন্যান্যও পিছিয়ে রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) আমদানির উপর অভূতপূর্ব শুল্ক আরোপের কারণে যখন বাজার অনিশ্চয়তার মধ্যে লেনদেন করছে, তখন আসুন ভারতের আর্থিক বাজারের ইতিহাসে কিছু শীর্ষ একক বৃহত্তম শেয়ার বাজারের পতনের দিকে নজর দেওয়া যাক-
- হর্ষদ মেহতা কেলেঙ্কারির দুর্ঘটনা (১৯৯২): এটি ছিল প্রথমবার, যখন ভারতের শেয়ার বাজার বড় ধরনের ধসের মুখোমুখি হয়েছিল। বাজারটি ২৮শে এপ্রিল, ১৯৯২ তারিখে একদিনে সবচেয়ে বড় পতন রেকর্ড করে, যেখানে সেনসেক্স ৫৭০ পয়েন্ট বা ১২.৭ শতাংশ কমে যায়।
- কেতন পারেখ কেলেঙ্কারির দুর্ঘটনা (২০০১): ব্রোকার কেতন পারেখের সাথে জড়িত আরেকটি কারসাজির কেলেঙ্কারির পর, ২০২১ সালের ২রা মার্চ সেনসেক্স ১৭৬ পয়েন্ট বা ৪.১৩ শতাংশ কমে যায়।
- নির্বাচনী ধাক্কা (২০০৪): ১৭ মে ২০২৪ তারিখে, সংযুক্ত প্রগতিশীল জোটের (ইউপিএ) অপ্রত্যাশিত জয়ের পর সেনসেক্স ১১.১ শতাংশ কমে যায়।
- বিশ্বব্যাপী আর্থিক সংকটের বিপর্যয় (২০০৮): ২০০৮ সালের বিশ্বব্যাপী আর্থিক সংকট, যা "গ্লোবাল ফিনান্সিয়াল ক্রাইসিস" বা জিএফসি নামেও পরিচিত। সে সময় একাধিক মার্কিন ব্যাঙ্ক নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করেছিল। তখন ভারতের বাজার থেকেই বিদেশি বিনিয়োগকারীরা টাকা সরাতে শুরু করেন। এর জেরে ২০০৮ সালে ২১ জানুয়ারি ৭.৪ শতাংশ বা ১ হাজার ৪০৮ পয়েন্ট পড়েছিল সেনসেক্স।
- কোভিড-১৯ মহামারী পতন (২০২০): কোভিড অতিমারির সময় গোটা বিশ্বেই অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ব্যাপক ধাক্কা খেয়েছিল। ২৩ মার্চ, ২০২০ তারিখে সেনসেক্স ৩,৯৩৫ পয়েন্ট বা ১৩.২ শতাংশ হ্রাস পায়। দেশব্যাপী লকডাউন ঘোষণার ফলে বিনিয়োগকারী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।












Click it and Unblock the Notifications