কোভিডের অভিঘাত, এপ্রিলে জিএসটি আদায় কমল প্রায় ৭০ শতাংশ
দীর্ঘ দু’মাসের একটানা লকডাউনে থমকে গোটা দেশ। বন্ধ প্রায় সমস্ত শিল্প তালুকই। স্তব্ধ বেশিরভাগ উৎপাদন ক্ষেত্র গুলিই। আর যাকর জেরে থমকেছে অর্থনীতির চাকাও। আর এর জেরে মার্চের পর এবার এপ্রিলেও দেশের পণ্য ও পরিষেবা কর জিএসটি সংগ্রহেও ভাটা দেখা দিল।

এপ্রিলে জিএসটি ঘাটতি প্রায় ৭৪ শতাংশ
চতুর্থ দফার লকডাউন থেকে বেশ কিছু ছাড় ঘোষণা করা হলেও তা এখনও দেশের অর্থনীতির পুরোপুরি পুনরুদ্ধারের জন্য যথেষ্ট নয়। সূত্রের খবর, শুধুমাত্র এপ্রিল মাসে জিএসটি আদায় কমল প্রায় ৭০ শতাংশ। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ধাক্কায় কেন্দ্র ও রাজ্যের রাজস্ব আদায়ে যে বড়সড় ধাক্কা লাগতে চলেছে তার পূর্বাভাস আগেই দিয়েছিলেন অর্থনীতিবিদরা।

গত বছরের সঙ্গে ব্যবধানের চিত্রটা কেমন?
সম্প্রতি হিসাব সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রক বা সিজিএ-র তরফে থেকে এই বিশালাকার জিএসটি ঘাটতির চিত্রটা উঠে এসেছে বলে খবর। গত বছর এপ্রিলে যেখানে প্রায় ৫৫,৩২৯ হাজার কোটির জিএসটি সংগ্রহ হয়েছিল এবারে তা কমে দাঁড়ায় মাত্র ১৬৭০৭-এ। রাজ্য ও কেন্দ্র উভয় ক্ষেত্রে মিলিয়েই এই পাহাড় প্রমাণ রাজস্ব ঘাটতির চিত্রটি পাওয়া গেছে।

অর্থ সঙ্কটের মধ্যে কেমন আছে পশ্চিমবঙ্গ?
এদিকে শুধুমাত্র এপ্রিল মাসে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র জিএসটি বাবদ ক্ষতি হয়েছে ১,৫১৭ লক্ষ-কোটি। রাজ্য ভ্যাট বাবদ ক্ষতি হয়েছে ৪৩৬ কোটি টাকা। আর এই বিশাল পরিমাণ রাজস্ব ঘাটতির জেরে স্বভাবতই কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া হয়েছে রাজ্য প্রশাসনের আধিকারিকদের।

মার্চেও জিএসটি ঘাটতি প্রায় ৭৪ শতাংশ
এদিকে কয়েকদিন আগে প্রকাশিত অপর একটি মার্চ মাসে জিএসটি বাবদ গোটা দেশে আদায় হয়েছে মাত্র ২৮, ৩০৯ কোটি টাকা। গত বছর মার্চের তুলনায় যা প্রায় ৮৪ হাজার কোটি টাকা কম। সূত্রের খবর গত বছর মার্চ মাসে জিএসটি বাবদ আদায় হয়েছিল ১ লক্ষ ১৩ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ জিএসটি ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ৭৪ শতাংশ। মার্চ মাসের ২৪ তারিখ পর্যন্ত দেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ কর্ম স্বাভাবিক ভাবে চলেছিল। ২৫শে মার্চ থেকেই লকডাউনের জেরে সব কিছু স্তব্ধ হয়ে যায়। যার জেরেই গত দুই মাসে এই রাজস্ব ঘাটতি ক্রমেই উধ্বর্মূখী হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications