আধার কার্ড আর জন্ম তারিখের প্রমাণ নয়! বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় সংস্থার
প্রায় সর্বত্র আধার কার্ডই এখন একমাত্র পরিচয়পত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিমান কিংবা ট্রেনে টিকিট কাটার সময় কিংবা ভ্রমণের সময় সচিত্র পরিচয় পত্র হিসেবে সাধারণ মানুষ আধারকেই ব্যবহার করেন। এছাড়া হোটেলে থাকতে গেলে কিংবা নতুন সিম কেনার সময়ও আধার কার্ডের প্রয়োজন হচ্ছে। সেই কার্ডের অপব্যবহার রুখতে নানা পদক্ষেপের কথা বলা হচ্ছে। এমনই সময় আধার কার্ড নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের কথা জানাল কেন্দ্রীয় সংস্থা ইপিএফও।
জন্ম তারিখ সংশোধন করতে আধার কার্ড ব্যবহার করা যাবে না বলে জানিয়েছে ওই সংস্থা। অর্থাৎ ইপিএফও আধার কার্ডকে বৈধ নথির তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। এব্যাপারে ইপিএফও-র তরফে একটি নির্দেশিকাও জারি করা হয়েছে।

শ্রমমন্ত্রকের অধীনস্থ ইপিএফও বলেছে, আধার কার্ড ব্যবহার করে জন্ম তারিখ পরিবর্তন করা যাবে না। ১৬ জানুয়ারি এব্যাপারে ইপিএফও-র তরফে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সেই অনুসারে আধার কার্ডের তত্ত্বাবধানকারী ইউআইডিএআই-এর কাছ থেকে একটি চিঠিও পাওয়া গিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, জন্ম তারিখ পরিবর্তনের জন্য আধার কার্ড বৈধ হিসেবে ধরা হবে না। অর্থাৎ জন্ম তারিখ সংক্রান্ত বৈধ নথির তালিকা থেকে আধার কার্ডকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইপিএফও বলছে, জন্ম তারিখ সংক্রান্ত কোন ভুল সংশোধনে জন্ম শংসাপত্রের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। এছাড়া কোনও সরকারি বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত মার্কশিট বা স্কুল ছাড়ার সার্টিফিকেট বা সংকুল ট্রান্সফার সার্টিফিকেটও ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া সিভিল সার্জনের দেওয়া মেডিক্যাল সার্টিফিকেট, পাসপোর্ট, প্যান নম্বর, সরকারি পেনশন বা মেডিক্লেম সার্টিফিকেট কিংবা আবাসিক শংসাপত্র এব্যাপারে ব্যবহার করা যেতে পারে।
ইআইডিএআই-এর তরফে বলা হয়েছে, আধার কার্ডকে পরিচয়পত্র এবং আবাসিক শংসাপত্র হিসেবে ব্যবহার করা উচিত। প্রসঙ্গত আধার কার্ড হল ভারত সরকারের দেওয়া ১২ সংখ্যার একটি অনন্য পরিচয়পত্র। এটি নির্দিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় ও স্থায়ী বসবাসের প্রমাণ, যা সারা দেশে বৈধ। দেখা গিয়েছে, আধার কার্ড তৈরির সময় সেখানে বিভিন্ন নথি অনুযায়ী জন্মের তারিখ উল্লেখ করা হয়। তাই এই পরিচয়পত্রকে জন্ম তারিখের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
প্রসঙ্গত এর আগে বিভিন্ন আদালত আধার আইন ২০১৬ নিয়ে তাদের রায় দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বম্বে হাইকোর্ট বলেছে, আধার কার্ডকে পরিচয় পত্র হিসেবে ব্যবহার করলেও, তা জন্মের শংসাপত্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। তারপরেই ইউআইডিএআই ২০২৩-এর ২২ ডিসেম্বর এব্যাপারে নির্দেশিকা জারি করে।












Click it and Unblock the Notifications