মধ্যবিত্তদের জন্য স্বস্তি, জুলাইয়ে খুচরো বিক্রির ক্ষেত্রে মুদ্রাস্ফীতি কমল ৬.৭১ শতাংশ
মধ্যবিত্তদের জন্য কিছুটা স্বস্তি। খুচরো বাজারে মু্দ্রাস্ফীতি কিছুটা কমেছে। জুলাই মাসে রিটেল বা খুচরো ব্যবসার ক্ষেত্রে মুদ্রাস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৬.৭১ শতাংশ। জুন পর্যন্ত রিটেলের ক্ষেত্রে মুদ্রাস্ফীতি ৭ শতাংশের বেশি ছিল। তবে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সাত মাসে মুদ্রাস্ফীতি কমানোর যে লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিল, তার থেকে এখনও বেশি রয়েছে।

গত বছর থেকে খুচরো ব্যবসার ক্ষেত্রে মুদ্রাস্ফীতি ৭ শতাংশের বেশি ছিল। চলি বছরের জুন মাসে খুচরো ব্যবসায় মুদ্রাস্ফীতি ৭.৭৫ শতাংশ। তবে গত মাস থেকে জ্বালানির দাম সেভাবে না বাড়ার কারণে, খাদ্যপণ্যের দামের সুলভ মূল্যের জেরে মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা নেমেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। ২০২২ সালে জুলাই মাসে যেখানে ক্ষুদ্র ব্যবসার ক্ষেত্রে মুদ্রাস্ফীতি ৭.৭৫ ছিল, সেখানে জুলাই মাসে ৬.৭১ শতাংশ যথেষ্ঠ স্বস্তি আনবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
কোডাক মহিন্দ্রার চিফ ইকোনমিস্ট উপাসনা ভরদ্বাজ বলেন, মূলত খাদ্যপণ্য ও জ্বালানির জন্য মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে গিয়েছিল। সেক্ষেত্রে খাদ্যপণ্যের দাম কমে যাওয়ার কারণে মুদ্রাস্ফীতি অনেকটা অনেকটা কমে গিয়েছে। তিনি মনে করছেন, আরবিআই মুদ্রাস্ফীতি কমিয়ে আনার যে লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে তার কাছাকাছি পৌঁছবে। তিনি মনে করছেন, আগামী বছরের জনুয়ারি মাসে মুদ্রাস্ফীতি ৬ শতাংশের আশেপাশে পৌঁছবে।
বিশ্ব জুড়ে একটা অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে চলেছিল। তারসঙ্গে খাদ্য সঙ্কটের আশঙ্কা করা হচ্ছিল। রাশিয়া ইউক্রেনের যুদ্ধের জেরে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের খাদ্যপণ্যের আর্থিক সঙ্কটের আশঙ্কার পরেই একাধিক সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া হয়েছে। যার ফলে খাদ্যপণ্যের দাম কমে যায়। অপরিশোধিত তেলের দাম ৯ শতাংশ কমেছে। যার জেরে মুদ্রাস্ফীতিকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
দেশে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চার বছরে প্রথমবারের জন্য রেপো রেট বাড়িয়ে দেয়। আরবিআই ৪০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়েছিল। এরপর জুন মাসে আবার ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়ায়। চলতি মাসে বেসিস পয়েন্ট আরও ৫০ পয়েন্ট বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে রেপো রেট ৫.৪০ শতাংশে আনা সম্ভব হয়েছে। এই রেপো রেটের হারেই আরবিআই বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলো ঋণ দেয়।
আগস্টে আরবিআইয়ের মুদ্রানীতি কমিটি (এমপিসি)-এর তরফে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক মাসে মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে। পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির ওপর মুদ্রাস্ফীতি অনেকাংশে দায়ী। সম্প্রতি ধাতু ও খাবারের দাম বেড়েছে। আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। তবে অস্থির সময়ের মধ্যে যাচ্ছে। যার ফলে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার একটা সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও কেন্দ্র সরকার মনে করছে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।












Click it and Unblock the Notifications