প্রতি ৩টিতে ১টি ইউপিআই পেমেন্ট অসুরক্ষিত! গুগল পে নিয়ে এই আপডেট আপনি জানেন তো?
ভারতের ডিজিটাল লেনদেন মাধ্যমে বড় চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে, সরকারি প্রতারণা শনাক্তকরণ ব্যবস্থা এফ আর আই এখনো গুগল পে এর প্ল্যাটফর্মে চালু হয়নি। ফলে দেশের প্রায় এক.তৃতীয়াংশ ইউপিআই ব্যবহারকারী এখনো রয়ে গেছেন ঝুঁকির মুখে, এমনটাই জানিয়েছে টেলিকম দপ্তর।

ডিওটি এর সচিব নীরজ মিত্তল শুক্রবার জানান, সরকারের তৈরি এই অত্যাধুনিক সিস্টেমটি মূলত মোবাইল নম্বরের সঙ্গে জাল আর্থিক কার্যকলাপের সম্পর্ক খুঁজে বের করে। এতে নম্বরগুলিকে ঝুঁকি স্তর অনুযায়ী শ্রেণিবিভাগ করা হয় মাঝারি ঝুঁকির নম্বরে সতর্কবার্তা, আর অধিক ঝুঁকির ক্ষেত্রে সরাসরি লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়।
টেলিকম দপ্তর সূত্রে খবর,ফোন পে,পে টিএম এগিয়ে, গুগল পে পিছিয়ে,ইতিমধ্যেই ফোন পে ও পেটিএম এই ব্যবস্থা চালু করেছে। কিন্তু গুগল পে এখনো পর্যন্ত এফ আর আই অন্তর্ভুক্ত করেনি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এক আধিকারিকের কথায়, গুগল পে মোট ইউপিআই লেনদেনের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পরিচালনা করে। তাই ওদের প্ল্যাটফর্মে প্রতারণা নিরোধক ব্যবস্থা না থাকা মানে একটা বড় অংশের ব্যবহারকারী সুরক্ষাহীন।"
সরকারের সঙ্গে একাধিক আলোচনার পরও গুগল জানিয়েছে, বহুজাতিক সংস্থা হিসেবে উন্নয়ন প্রক্রিয়া তাদের কিছুটা দীর্ঘ সময় নেয়। অথচ ভারতের ৫০টিরও বেশি ব্যাঙ্ক ও ইউপিআই সংস্থা দুই মাসের মধ্যেই সিস্টেমটি বাস্তবায়িত করেছে।
প্রধানমন্ত্রীকে রিপোর্ট পেশ গত ৮ অক্টোবর 'ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেস' এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সামনে ডিওটি, ফোনপে ও পে টিএম যৌথভাবে উপস্থাপনা করে। সেখানে ফোনপে দাবি করে, এফ আর আই ব্যবহারের ফলে গত দুই মাসে প্রায় ১২৫ কোটি টাকার প্রতারণা এড়াতে পেরেছেন ব্যবহারকারীরা। পে টিএম এর দাবি, তাদের প্ল্যাটফর্মে বাঁচানো গেছে আরও ৬৮ কোটি।
গুগলের পাল্টা বক্তব্যে বিভ্রান্তি গুগল ইন্ডিয়ার গভর্নমেন্ট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের কর্ণধার রাজেশ রঞ্জন জানিয়েছেন, এফ আর আই নিয়ে আলোচনাপর্ব চলছে। তিনি দাবি করেন, গুগলের নিজস্ব এ আই তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর প্রতারণা প্রতিরোধ ব্যবস্থা ডিজি কভচ ইতিমধ্যেই কার্যকর, যা অনলাইন আর্থিক জালিয়াতি শনাক্ত করে রুখে দেয়।
তবে, গুগলের আরেক মুখপাত্র বলেছেন, গুগল পে ইতিমধ্যেই এফ আর আই যুক্ত করেছে। নিরাপত্তায় জোর দিচ্ছে সরকার ও রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদারে আর বি আই তথা রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া জুন মাসে নির্দেশ দেয়, দেশের সব বাণিজ্যিক, ক্ষুদ্র, পেমেন্ট ও সমবায় ব্যাঙ্ককে বাধ্যতামূলকভাবে এফ আর আই যুক্ত করতে হবে। বর্তমানে ভারতের ৮৬ শতাংশ পরিবারের ইন্টারনেট সংযোগ থাকায় অনলাইন প্রতারণার ঝুঁকিও ক্রমশ বাড়ছে।
২০২২ সালে যেখানে সাইবার প্রতারণার ঘটনা ছিল প্রায় ১০.২৯ লক্ষ, ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২.৬৮ লক্ষ তে। ইতিমধ্যেই ডিওটি ৯ লক্ষ ৪২ হাজারেরও বেশি সিম ও ২ লক্ষ ৬৩ হাজারের বেশি আইএমইআই নম্বর ব্লক করেছে, যেগুলি প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত ছিল।
টেলিকম বিভাগের মতে, ইউ পি আই এখন দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় পেমেন্ট মাধ্যম। আর তাই এফ আর আই যুক্ত করা গেলে কোটি কোটি ভারতীয়কে সাইবার প্রতারণার ফাঁদ থেকে রক্ষা করা সম্ভব।












Click it and Unblock the Notifications