তৃণমূলের বিরুদ্ধে দ্বিমুখী কৌশল বিজেপির, পাখির চোখ বাংলার পঞ্চায়েত ও লোকসভা
তৃণমূলের বিরুদ্ধে দ্বিমুখী কৌশল বিজেপির, পাখির চোখ বাংলার পঞ্চায়েত ও লোকসভা
একুশের নির্বাচনে ভরাডুবির পর বিজেপি মুখ থুবড়ে পড়েছিল পুরসভা নির্বাচন ও উপনির্বাচনেও। এবার পঞ্চায়েত ভোটের আগে ঘুরে দাঁড়াতে তারা জোড়া কৌশল নিল। দ্বিমুখী জোড়া কৌশলে তৃণমূলকে মাত দেওয়াই বাংলার গেরুয়া শিবিরের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে বিজেপি রীতিমতো পরিকল্পনা করে ভোট ময়দানে নামছে।

তৃণমূলকে আটকাতে দ্বিমুখী পরিকল্পনা
২০২৪ লোকসভা ভোটের মহারণের আগে বাংলায় পঞ্চায়েত ভোট হবে। ২০২৩-এর মে মাসের মধ্যে সেই পঞ্চায়েত ভোটে পাখির চোখ করেছে বিজেপি। কেননা এই পঞ্চায়েতকেই বিজেপি ২০২৪-এর লোকসভা ভোটের প্রস্তুতি হিসেবে ধরে নিয়েছে। তৃণমূলকে আটকাতে দ্বিমুখী পরিকল্পনা নিয়েছে বিজেপি। সেই পরিকল্পনামাফিক বিজেপি আন্দোলনে জোর দিচ্ছে।

২৪-এর নির্বাচনে জমি তৈরিতে বিজেপি
রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোট বিজেপির কাছে সেমিফাইনাল। তাই তৃণমূলের বিরুদ্ধে সাফল্য পেতে বিজেপি এবার তৃণমূল ও রাজ্যের সরকারকে বিপাকে ফেলতে চাইছে। একশো দিনের কাজ ও বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা আটকে তৃণমূলকে চাপে ফেলতে চাইছে। ২৪-এর নির্বাচনে বিজেপিকে জমি তৈরি করতে গেলে ২৩-এর পঞ্চায়েত ভোটে সাফল্য পেতেই হবে।

পঞ্চায়েত নির্বাচনে বড়সড় সাফল্য পেতে রূপরেখা
একুশের নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতা দখল করতে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কৌশবের কাছে হার মানতে হয়েছিল বিজেপিকে। এরপর ২০২৪-এর নির্বাচনের পরিকল্পনা করতে গিয়ে এখন থেকেই রাজ্যে ২৫টি আসন জেতার লক্ষ্যমাত্রা রাখার কথা ঘোষণা করা হয়েছে গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে। রাজ্যে ১৮ আসন ধরে রাখাই বিজেপির কাছে চ্যালেঞ্জ, সেখানে ২৫টি আসন জিততে গেলে পঞ্চায়েত নির্বাচনে বড়সড় সাফল্য পেতে হবে। তারই রূপরেখা তৈরি করতে চাইছে বিজেপি।

কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা আটকে দেওয়ার পরিকল্পনা
ধর্মীয় রাজনৈতিক মেরুকরণের রাজনীতি দিয়ে সম্ভব হয়নি তৃণমূলকে রোখা। বিজেপি তাই ভিন্ন কৌশল নিয়েছে। মূলত দুটি কৌশল অবলম্বন করতে চাইছে তারা। একশো দিনের কাজের মতো বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা আটকে দেওয়া। ফলে গ্রামীণ এলাকার মানুষ তৃণমূলের উপরই ক্ষেপে যাবে। তার ফায়দা তুলতে হবে।

পঞ্চায়েত দুর্নীতি তুলে ধরে তৃণমূলকে বিপাকে ফেলা
আর বিজেপির দ্বিতীয় পরিকল্পনা হল পঞ্চায়েত দুর্নীতি তুলে ধরা। একেই নানা দুর্নীতিতে তৃণমূল নিমজ্জিত। তারপর যদি পঞ্চায়তে পঞ্চায়েতে দুর্নীতিতে সামনে তুলে ধরা যায়, তবে তৃণমূল আরও বিপাকে পড়ে যাবে। সেই লক্ষ্যে বিজেপি ইতিমধ্যে আন্দোলন শুরু করতে চলেছে। বঙ্গ বিজেপির পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নাম পরিবর্তনের ডাক দিয়ে কেন্দ্রের কাছে রাজ্যের বরাজদ্দ টাকা আটকে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। এভাবেই একশো দিনের কাজের টাকা বন্ধ করে রাজ্যকে বেকায়দায় ফেলতে চাইছে বিজেপি।

বিজেপির অভিষন্ধি ফাঁসে পাল্টা প্রচার তৃণমূলের
তবে তৃণমূল এর পাল্টা প্রচারে নেমে বিজেপির অভিষন্ধি ফাঁস করে দিতে চাইছে। কেন্দ্রের কাছে দরবার করে রাজ্যের বরাদ্দ টাকা আটকে দেওয়া নিয়ে ইতিমধ্যে সরব হয়েছে তৃণমূল। আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে এই প্রচারকে হাতিয়ার করলে তাতে গরিব মানুষের কাছে দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগ উড়িয়ে বিজেপির চক্রান্ত রুখে দিতে সমর্থ হবে তৃণমূল। বিজেপি সেই আশঙ্কাও করছে।












Click it and Unblock the Notifications