বিজেপির মন্থন শিবিরকে পিকনিকের তকমা দলেরই! হেডস্যারের ‘পাঠশালা’ থেকে তৃণমূল পেল অস্ত্র
বাংলার প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে এক হয়ে লড়ার অঙ্গীকার করছে বিজেপি। কিন্তু সেখানে বিভাজনরেখা ক্রমেউই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিজেপিতে এমনিতেই তিনটি শিবির রয়েছে বলে কটাক্ষ করে বিরোধী তৃণমূল। বিজেপিতে আদি, নব্য ও তৎকাল শিবির রয়েছে।
বাংলার প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে এক হয়ে লড়ার অঙ্গীকার করছে বিজেপি। কিন্তু সেখানে বিভাজনরেখা ক্রমেউই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিজেপিতে এমনিতেই তিনটি শিবির রয়েছে বলে কটাক্ষ করে বিরোধী তৃণমূল। বিজেপিতে আদি, নব্য ও তৎকাল শিবির রয়েছে। আর সেই অভিযোগ যে নেহাত মিথ্যা নয়, তা প্রমাণ করে দিল বিজেপির মন্থন শিবির।

দলের টাকা ধ্বংস করে পিকনিক হচ্ছে
বাংলার মন্থন শিবিরে বিজেপির মন্ত্রী-সাংসদরা অনুপস্থিত রয়েছেন বলে নয, বিজেপির অস্বস্তি আরও অন্য কারণে। বাংলায় যখন বিজেপির নতুন 'হেডস্যার' এসেছেন, তখন সবাই একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়বেন, এটাই ভাবা হয়েছিল। কিন্তু আদতে দেখা গেল বিজেপিকতে তিনটি দল হয়ে গেল। তাঁদের মধ্যে একদল আবার মন্থন শিবির বয়কট করে জানিয়ে দিল, এটা আসলে দলের টাকা ধ্বংস করে পিকনিক হচ্ছে

মন্থন নয়, পিকনিক! বলছে ‘সেভ বেঙ্গল বিজেপি'
সম্প্রতি বিজেপিতে একটি বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। দলের বিক্ষুব্ধ অংশ 'সেভ বেঙ্গল বিজেপি' নামে একটি মঞ্চও তৈরি করেছে। সেই 'সেভ বেঙ্গল বিজেপি' তিনদিনের প্রশিক্ষণ শিবির ওরফে মন্থন শিবিরকে পিকনিক নামে ভূষিত করেছে। আর তাতেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। বিজেপির এই মন্থন শিবিরের বৈভব নিয়ে চর্চা চলছিলই, বিজেপির একাংশ তাকে পিকনিক বলে কটাক্ষ করায়, নতুন মাত্রা পেল এই বিতর্ক।

তৃণমূলের দাবিকে প্রকারান্তরে সমর্থন বিজেপির বিক্ষুব্ধ শিবিরের
তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে যখন ভুরি ভুরি দুর্নীতির অভিযোগ, তখন বিজিপির এই মন্থন শিবিরের টাকা অপরচয় নিয়ে সরব হয়েছে বাংলার শাসক শিবির। এবার তৃণমূলের সেই দাবিকে প্রকারান্তরে সমর্থন করল বিজেপির বিক্ষুব্ধ শিবিরও। বিজেপির বিক্ষুব্ধরা এই শিবিরকে পিকনিক বলে কটাক্ষ করতেও ছাড়লেন না। বিক্ষুব্ধ শিবিরের নেতারা সাফ বলে দিলেন মন্থন শিবিরের নামে পিকনিক চলছে বিজেপির।

একতার বার্তা দিতেই মন্থন শিবির, কাঁটা বিভাজনের
বিজেপি চাইছে মন্থনের মেজাজে দলকে একদিনে বার্তা দেওয়া হবে আগামীর, ভবিষ্যতের রোডম্যাপ তৈরি হবে আর সবথেকে বড় কথা দলে যে বিভিন্নতা তৈরি হয়েছে, তার একীকরণ ঘটবে। অর্থাৎ একতার বার্তা দিতেই এই মন্থন শিবিরের আয়োজন বলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের ব্যাখ্যা ছিল। কিন্তু সেই মন্থন শিবির যখন পিকনিকের তকমা পেল বিজেপিরই একাংশের দ্বারা তা নিয়ে তো বিতর্ক হবেই।

দলের বঙ্গ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ‘সেভ বেঙ্গল বিজেপি'
'সেভ বেঙ্গল বিজেপি'র তরফে বিজেপির বঙ্গ নেতৃত্বকে নাম করে কটাক্ষ করেছে। সম্প্রতি অমিত মালব্যকে বলা হয়েছে রাজনীতিতে শিক্ষানবীশ, সুকান্ত মজুমদারকে বলা হয়েছে অসহায় আর অমিতাভ চক্রবর্তীকে প্রচারক বলে কটাক্ষ করা হয়েছে। পার্টির টাকায় তাঁরা সম্মিলিত হয়ে স্টার হোটেলে স্ফূর্তি করছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।

আদি-নব্য দ্বন্দ্বের অস্বস্তি এড়াতে পারল না বিজেপি
আর এই অভিযোগের মধ্যে তিন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী-সহ ৬ সাংসদের অনুপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে। বিজেপির হেডস্যারের ক্লাসে উঠে এসেছে আদি-নব্য দ্বন্দ্ব। 'সেভ বেঙ্গল বিজেপি' যেমন মন্থন শিবিরের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে, তখন একাংশ আবার ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন এই প্রশিক্ষণ শিবিরে ডাক পাননি বলে। তাঁদের অধিকাংশ আবার আদি বিজেপি নেতা। অতএব, বিজেপির হেডস্যারের ক্লাসও আদি-নব্য দ্বন্দ্বের অস্বস্তি এড়াতে পারল না। আবার ডাকা হলেও বৈঠকে হাজির হননি বিক্ষুব্ধদের অনেকেই।

তৃণমূল কংগ্রেসও অস্ত্র পেয়ে গেল বিজেপির বিভব-বৈভবের
রাজ্য বিজেপির বিভেদ ও বিভাজন মেটাতে মন্থন শিবিরের আয়োজন হলেও সেই কাঁটা রয়েই গেল। তৃণমূল কংগ্রেসও অস্ত্র পেয়ে গেল বিজেপির বিভব-বৈভবের। যদিও রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র এই মন্থন শিবিরকে নিয়ে বৈভবের অভিযোগ উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, এটা বৈভবের মিটিং নয়, জেলা সভাপতি থেকে শুরু করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের এক ছাতার তলায় আনার মিটিং। কিন্তু বিভেদ ও বিভাজনের ছবিটা বরং আরও প্রকট হল মন্থন শিবিরে।












Click it and Unblock the Notifications