কর্নাটকে হার বিজেপির হিন্দুত্ব তাসে জোর ধাক্কা! রাজস্থান-মধ্যপ্রদেশে কি কৌশল বদল
কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় হার হয়েছে বিজেপির। এই হার বিজেপির হিন্দুত্ব ইস্যুকে জোর ধাক্কা দিয়েছে! এরপর ২০২৪ সাধারণ নির্বাচনের আগে আরো দুটি বড়ো রাজ্যের নির্বাচন রয়েছে। সেই রাজস্থান-মহারাষ্ট্রে কি কৌশল তবে কৌশল বদল করবে বিজেপি, কর্নাটকে হারের পর সেই প্রশ্নটা বারেবারে উঠে আসছে।
কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনে জাতীয় কংগ্রেসের বিপুল জয়ে একটা ব্যাপার পরিষ্কার হয়ে গেল যে, বিজেপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করেছে দক্ষিণী ওই রাজ্যের মানুষ। আনুষঙ্গিক আরও অনেক বিষয়ই অবশ্য ছিল এই নির্বাচনে বিজেপির ভরাডুবির নেপথ্যে, তবু সাম্প্রদায়িকতা তথা হিন্দুত্বের তাস যে বুমেরাং হয়ে ফিরে এসেছে, তা নিশ্চিত।

কর্নাটক বিধানসভার নির্বাচনে এবার পরাজয় হয়েছে বিজেপির বিদায়ী সরকারের ১১ জন মন্ত্রীর। এঁদের মধ্যে সবচেয়ে বড়ো মুখ হলেন হিজাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপানো শিক্ষামন্ত্রী বিসি নাগেশ। তাঁর পরাজয় বিজেপি তথা সঙ্ঘ পরিবারকে জোর ধাক্কা দিয়েছে, সে কথা বলাই বাহুল্য।
একদিকে যেমন হিজাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপানো শিক্ষামন্ত্রী বিসি নাগেশ পরাজিত হয়েছেন, ঠিক এর উল্টোদিকে কংগ্রেসের টিকিটে জিতে এসেছেন একমাত্র মুসলিম মহিলা তথা হিজাব নিষেধাজ্ঞার বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম মুখ ফতিমা শেখ। আর তাতে আরো বেশি করে মুখ পুড়েছে বিজেপির।

হিন্দু অধ্যুষিত কালাবুর্গিতে ৪৩ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়ে বিজেপির চন্দ্রকান্ত বি পাতিলকে হারিয়ে দিয়েছেন ফতিমা। ফলে এই জয়কে অনেকেই হিংসার রাজনীতির বিরুদ্ধে মানবতার জয় বলে উল্লেখ করছেন। কর্নাটকে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে হিজাব একটা বড় ইস্যু ছিল, তাতে বিজেপি অশনি সংকেত দেখেছে।
তারপর রয়েছে 'দ্য কেরালা স্টোরি'র মতো মুসলিম বিদ্বেষী প্রচারধর্মী সিনেমা। যাকে হাতিয়ার করে ঘৃণার রাজনীতি ছড়াচ্ছিলেন হিন্দুত্ববাদীরা। এমনকী ভোটে জেতার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও সিনেমার সেই মিথ্যা গল্পের আশ্রয় নিয়ে মেরুকরণের তাস পর্যন্ত খেলতে হয়েছে। তাও শেষ রক্ষা হয়নি।

কংগ্রেসের ইস্তেহারে বজরং দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার বার্তা দেওয়া হয়েছিল। শেষ মুহূর্তে তাতে তো হাতে চাঁদ পাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল বিজেপির। একইসঙ্গে পিএফআই সংগঠনটিকেও নিষিদ্ধ করার ঘোষণাটি চাপা পড়ে গেল বজরঙ্গীদের হট্টগোলে। প্রচারে ঝড় তুলেও ফায়দা তুলতে পারল না বিজেপি। বিজেপিকে এই ইস্যুতেও রিজেক্ট করে দিল জনতা।
মোদী-শাহ জুটির 'হিন্দু খতরে মে হ্যায়' বলে প্রচার করেছিল। কিন্তু মানুষ আর 'হিন্দু-মুসলিম' খেলো না। কর্নাটকে মুখ থুবড়ে পড়ল মোদী ম্যাজিক। এই ধাক্কার পর রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, তেলেঙ্গানা, মিজোরামের ভোটে কি হ্নিদুত্বের তাস আর খেলবে বিজেপি! নাকি কৌশল বদলাবে এবার, সে প্রশ্নের জবাব খুঁজছে রাজনৈতিক মহল।












Click it and Unblock the Notifications