বিজেপির সংগঠনে পরিবর্তনের ভাবনা! ২০২৪-এর আগে ‘ভিত’ মজবুত করাই লক্ষ্য
বিজেপির সংগঠনে পরিবর্তনের ভাবনা! ২০২৪-এর আগে ‘ভিত’ মজবুত করাই লক্ষ্য
কথায় কথায় রাজ্যের বর্তমান সরকার ভেঙে ২০২৪-এই পুনরায় ভোটের হুঙ্কার ছাড়লেও বঙ্গ বিজেপির ভিত যে নড়বড়ে তা বিলক্ষণ জানেন নেতারা। জানেন, এখন ভোট হলে দুর্নীতির বোঝা মাথায় নিয়েই জিতবে তৃণমূল। তাই বঙ্গ বিজেপি এবার তাদের নড়বড়ে ভিত শক্ত করার উদ্যোগ নিল। সে জন্য পরিকাঠামো পরিবর্তনের ভাবনাও শুরু করে দিল বঙ্গ বিজেপি।

সংগঠনের দায়িত্বে ভিনরাজ্যের নেতা
বঙ্গ বিজেপির সংগঠনের দায়িত্ব রয়েছে সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তীর উপর। কয়েকদিন আগেই দলের পরিকাঠামো বদলে তাঁর সঙ্গে যুগ্মভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ভিনরাজ্য থেকে আসা সতীশ ধন্দকে। অর্থাৎ অমিতাভ চক্রবর্তীর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে ভিনরাজ্যের এক নেতাকে। তিনি এর আগে গোয়া ও মহারাষ্ট্রে সংগঠনের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর পরামর্শ মেনে এবার কাজ করতে হবে অমিতাভ চক্রবর্তীকে।

বাংলায় সংগঠন মজবুত করার লক্ষ্যে
সম্প্রতি গোয়ায় সাফল্য এনেছেন সঙ্ঘঘনিষ্ঠ সতীশ ধন্দ। গোয়ায় এবার বিজেপির হাল খুবই শোচনীয় ছিল। সেখানে অঙ্ক কষে সংগঠন গড়ে সাফল্য বয়ে এনেছেন তিনি। ফলস্বরূপ তাঁকে বাংলার দায়িত্বে আনা হয়েছে। তাঁর ট্র্যাক রেকর্ড দেখেই বাংলার দায়িত্বে তাঁকে এনে ট্রাম কার্ড হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশে তিনি এবার বাংলায় সংগঠন গড়ার কাজে অমিতাভ চক্রবর্তীকে পরামর্শ দেবেন।

বিজেপিতে বড়সড় বদলের ভাবনা
মোট কথা বাংলায় বিজেপির নড়বড়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করে তোলাই সতীশ ধন্দর উদ্দেশ্য। সেই উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতেই দলের সাংগঠনিক পরিকাঠামো বদলে তাঁকে পাঠানো হয়েছে বাংলায়। দলের এই পরিবর্তনকে পাথেয় করেই আসন্ন ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করতে বিজেপিতে আসতে চলেছে বড়সড় বদলের ভাবনা।

সাংগঠনিক খোলনোলচে বদলাতে
সম্প্রতি আরএসএসের একটি সমীক্ষায় বাংলায় বিজেপির সাফল্য নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করা হয়েছে। বিজেপি শিবিরেরও একটা অংশ মনে করছে, বর্তমানে সংগঠনের যা হাল তাতে বিগত লোকসভা নির্বাচনে জেতা ১৮টি আসন ধরে রাখাই অসম্ভব। একুশের বিধানসভায় যেভাবে পক্ষে হাওয়া থাকা সত্ত্বেও মুখ থুবড়ে পড়েছে বিজেপি, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে এগোতে হবে। সে জন্য সর্বাগ্রে দলের সাংগঠনিক খোলনোলচে বদলাতে হবে।

আশার আলোর ছিটেফোঁটাও নেই
বাংলা দখল তো দূর অস্ত, এখন গতবারের ফলাফল ধরে রাখাই বিজেপির কাছে চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। বিজেপি ফের ২০১৪-র অবস্থায় ফিরে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে আরএসএসের সমীক্ষায়। কোনওরকমে মাত্র দুটি আসন মিলতে পারে। ২০২১-এর নির্বাচনের পর যে হালহকিকৎ সামনে এসেছে বিজেপির, তাতে আশার আলোর ছিটেফোঁটাও দেখতে পাচ্ছেন কেন্দ্রীয় বিজেপি।

সাংগঠনিক ভিত মজবুত করাই লক্ষ্য
সেই কারণেই বাংলা দখলে গুজরাত-সহ ভিনরাজ্যের মডেলকে অনুসরণ করতে চাইছে বিজেপি। সংগঠনের ভিত মজবুত করতে সদস্য সংগ্রহ অভিযানে নামতে। পাশাপাশি শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলা ও পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেফতার ইস্যুকে হাতিয়ার করে শাসক দলের ঘর ভাঙাতেও মরিয়া পদ্ম শিবির। কিন্তু একুশের ভোট চিত্র বলছে তৃণমূলকে ভেঙেও বিজেপি মানুষের মন জয় করতে পারেনি, ছিটকে গিয়েছে লড়াই থেকে। তাই সবার আগে সাংগঠনিক ভিত মজবুত করাই লক্ষ্য।












Click it and Unblock the Notifications