শুভেন্দু-দিলীপ দ্বৈরথের জের বঙ্গ বিজেপির বৈঠকে! স্থান বদলে উঠছে প্রশ্ন, জল্পনাও
শুভেন্দু-দিলীপ দ্বৈরথের জের বঙ্গ বিজেপির বৈঠকে! স্থান বদলে উঠছে প্রশ্ন, জল্পনাও
শুভেন্দু অধিকারী ও দিলীপ ঘোষের কাজিয়ার প্রভাব পড়ল এবার বিজেপির সাংগঠনিক বৈঠকে। এবার বিজেপির সাংগঠনিক বৈঠক হওয়ার কথা ছিল দিল্লিতে। আগামী ১৯ ডিসেম্বর নির্ধারিত বৈঠকের স্থান বদলে যাচ্ছে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, স্থাপন বদলের পিছনে রয়েছে শুভেন্দু-দিলীপ দ্বন্দ্ব।

বঙ্গ বিজেপির সাংগঠনিক বৈঠকের ভ্যেনু বদল
এবার দিল্লিতে দিলীপ ঘোষের বাড়িকে বেছে নেওয়া হয়েছিল বঙ্গ বিজেপির সাংগঠনিক বৈঠকের ভ্যেনু হিসেবে। দিলীপ ঘোষ বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি আবার সাংসদ। ফলে তাঁর বাড়িতে বঙ্গ বিজেপির বৈঠকের স্থান চূড়ান্ত করা হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎই সেই স্থান বদল করা হয়।

শুভেন্দু-দিলীপের দ্বন্দ্ব! তাই স্থান বদল বৈঠকের
বঙ্গ বিজেপির সাংগঠনিক বৈঠক নির্ধারিত সময়েই হচ্ছে। তবে দিলীপ ঘোষের বাড়িতে না হয়ে অন্য আর এক সাংসদ তথা শিক্ষা দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী সুভাষ সরকারের দিল্লিক বাড়িতে তা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত জানানোর পরই শুভেন্দু-দিলীপের দ্বন্দ্বের তত্ত্ব সামনে চলে আসে।

বৈঠকের স্থান বদল নিয়ে সাফাই বিজেপির
যদিও বিজেপি জানিয়েছে, কোনও দ্বন্দ্ব নেই। এসবই মিডিয়ার বানানো। দিলীপ ঘোষের বাড়িটা ছোটো, তাই স্থান বদল করে সুভাষ সরকারের বাড়িতে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বৈঠক। অপেক্ষাকৃত বড় পরিসর রয়েছে সুভাষ সরকারের বাড়িতে, তাই একাধিক লোকের সমাবেশে সুবিধা হবে। এর পিছনে অন্য কোনও কারণ নেই।

স্থান পরিবর্তনে অন্য গন্ধ রাজনৈতিক মহলে
তবে বিজেপি যাই বলুক না কেন, রাজনৈতিক মহলের একাংশ এই স্থান পরিবর্তনে অন্য গন্ধ পাচ্ছে। কারণ দিলীপ ঘোষ এবং শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি একে অপরের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। তার ফলে এখনই শুভেন্দু অধিকারীর পক্ষে দিলীপ ঘোষের বাড়িতে যাওয়া অস্বস্তিকর। সেই কারণেই স্থান বদল হল বলে রাজনৈতিক মহলের মত।

সম্পর্কের শৈত্য দূর হবে কি!
সম্প্রতি শুভেন্দু অধিকারী ও সুকান্ত মজুমদারকে দিল্লিতে তলব করা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তারপর বঙ্গ বিজেপির সাংগঠনিক বৈঠকে উপস্থিত হবেন তাঁরা। সেই বৈঠকে আবার উপস্থিত থাকবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। তবে দিলীপ ঘোষ ও শুভেন্দু এই বৈঠকে মুখোমুখি হন কি না, তাঁদের মধ্যে সম্পর্কের শৈত্য দূর হয় কি না, তা বলবে ভবিষ্যৎ।

পরস্পরবিরোধী কথা দিলীপ ও শুভেন্দুর
সম্প্রতি শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলকে চাপে ফেলতে তাঁর ডিসেম্বর ধামাকার তত্ত্ব খাঁড়া করেছিলেন। তৃণমূলকে ডেডলাইন দিয়েছিলেন তিনি। তা নিয়েই পরস্পরবিরোধী কথা বলেন দিলীপ ঘোষ ও শুভেন্দু অধিকারী। দিল্লিতে দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন আজকের দিনটি ইতিহাসে কোনও বিশেষ কারণ গুরুত্বপূর্ণ হতেই পারে, কিন্তু রাজনীতির দিক থেকে কোনও গুরুত্ব আছে বলে মনে করি না।

নলেন গুড় আর মর্নিং ওয়াকেই বিপত্তি
তার আগে শুভেন্দুর ডিসেম্বর-সাসপেন্স নিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, আমি জানি ডিসেম্বরে গুড় হয়, নলেন গুড় হয়। যারা এসব বলছেন, তারাই এর উত্তর দিতে পারবেন। এরপর শুভেন্দু অধিকারী হাজরার মঞ্চ থেকে দিলীপ ঘোষকে একহাত নেন। বলেন, "আমি মর্নিংওয়াকে বেরিয়ে বাইট দিই না। আমি কোনও গিমিক করার জন্য স্টেটমেন্ট করি না।তার পাল্টা দিলীপ ঘোষ বলেন, আমি মর্নিংওয়াকে গিয়ে বেরিয়ে আবোলতাবোল মন্তব্য করি না। আর মর্নিংওয়াকে বেরোতে গেলে দম থাকা চাই।












Click it and Unblock the Notifications