বাংলায় কি মিলবে ‘একনাথ শিন্ডে’র খোঁজ! বিশ বাঁও জলে বিজেপির ‘মহারাষ্ট্র মডেল’
বিজেপি প্রায়শই দাবি করছে বাংলায় ২০২৪-এর মধ্যেই হবে বিধানসভায় নির্বাচন। আবার একাংশের দাবি মহারাষ্ট্র মডেল প্রয়োগ করে বাংলার সরকারকে ফেলার চক্রান্ত চলছে। কিন্তু মহারাষ্ট্র মডেল প্রয়োগ করতে গেলে তো লাগবে একজন একনাথ শিন্ডে।
বিজেপি প্রায়শই দাবি করছে বাংলায় ২০২৪-এর মধ্যেই হবে বিধানসভায় নির্বাচন। আবার একাংশের দাবি মহারাষ্ট্র মডেল প্রয়োগ করে বাংলার সরকারকে ফেলার চক্রান্ত চলছে। কিন্তু মহারাষ্ট্র মডেল প্রয়োগ করতে গেলে তো লাগবে একজন একনাথ শিন্ডে। কে নেবেন তাঁর ভূমিকা? সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন হয়ে গিয়েছে!

বাংলায় তৃণমূলের সরকার ফেলার স্বপ্নে মশগুল বিজেপি
এবার বাংলায় বিপুল আসন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে তৃণমূল। বিজেপির সব আশার প্রদীপ নিভিয়ে দিয়ে তিনবারের মধ্যে সেরা জয় তুলে নিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। তৃণমূল ২১৩ আর বিজেপি ৭৭ এই ছিল ভোট পরবর্তী অঙ্কের হিসাব। আর বর্তমানে বিজেপিতে ভাঙন ধরে এবং উপনির্বাচনে জিতে তৃণমূল পৌঁছে গিয়েছে কার্যত ২২১-এ। আর বিজেপি নেমে গিয়েছে ৬৯! তারপরও বাংলায় তৃণমূলের সরকার ফেলার স্বপ্নে মশগুল বিজেপি।

তৃণমূল সাঁড়াশি চাপে পড়েছে দুর্নীতির দায়ে
আসলে রাজ্যের সরকার তৃতীয় মেয়াদের এক বছর অতিক্রান্ত করতে না করতেই সাঁড়াশি চাপে পড়েছে। দুর্নীতির দায়ে একের পর এক নেতা সিবিআই আর ইডির স্ক্যানারে উঠে আসছেন। 'তৃণমূল নম্বর টু'কে পর্যন্ত জেলে যেতে হয়েছে। বর্তমানে অনুব্ত মণ্ডলকে নিয়ে শুরু হয়েছে টানাপোড়েন। তিনি একটার পর একটা তলব এড়িয়ে যাচ্ছেন, সিবিআই দফতরে হাজিরা দিচ্ছেন না।

সরকার টিকিয়ে রাখার চ্যালেঞ্জ তৃণমূলের কাছে
এই অবস্থায় তৃণমূল সরকার ফেলার বার্তা বারবার শোনা যাচ্ছে বিজেপি নেতাদের কথায়। স্বভাবতই একটা যুক্তিই মাথায় আসে, আরও কেন্দ্রীয় এজেন্সির চাপ বাড়বে। আরও অনেক নেতাকে জেরার জন্য তলব করা হবে। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের ১৯ জন নেতা ইডির তালিকায় রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এই অবস্থায় তৃণমূলের সরকার টিকিয়ে রাখা চ্যালেঞ্জের হবে বলাই যায়।

তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীদের ঠাইঁ হবে জেলে, আশায় বিজেপি
বিজেপি তো বলতে শুরু করেছে যে তৃণমূলের অধিকাংশ নেতা-মন্ত্রীর ঠাইঁ হবে জেলে। সরকারটা তো এমনিই পড়ে যাবে। বিজেপিকে আর নতুন করে ফেলতে হবে না। যদিও বিজেপির এই দাবি আজকে নতুন নয়। তৃণমূল সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদেও প্রায়ই এমন দাবি করে এসেছে তৃণমূল। এখনও সেই দাবি করছে। বিজেপির এই দাবি তুড়ি মেরে উড়িয়েও দেওয়া যায়। কারণ, এর আগে সারদা-নারদ-রোজভ্যালি মতো দুর্নীতিতেও জাল বেশি দূর ছড়াতে পারেনি।

বাংলায় মহারাষ্ট্র মডেল প্রয়োগের দাবি জোরদার
এই অবস্থায় উঠে পড়েছে বাংলায় মহারাষ্ট মডেলের প্রয়োগ। মহারাষ্ট্রে সরকার উল্টোনোর পরই বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছিল তাদের টার্গেটে রয়েছে অনেকে রাজ্য। তার মধ্যে রয়েছে বাংলাও। এর মধ্যে আবার ঝাড়খণ্ডে সরকার ফেলতে কংগ্রেস বিধায়কদের টাকা দেওয়া হয়েছিল এমন অভিযোগও সামনে এসেছে। আর সবথেকে ফলাও করে বলা হচ্ছে বাংলায় মহারাষ্ট্র মডেল প্রয়োগের কথা।

একনাথ শিন্ডেকে বাংলায় খুঁজে পাওয়া মুশকিল!
সম্প্রতি বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এই মর্মে বলেছেন, মহরাষ্ট্র মডেল প্রয়োগ তখনই সম্ভব, যদি রাজ্যে কোনও একনাথ শিন্ডেকে পাওয়া যায়। কিন্তু কে হবেন একনাথ শিন্ডে? একনাথ শিন্ডেকে বাংলায় খুঁজে পাওয়া মুশকিল! কেননা, তৃণমূলকে ভাঙার চেষ্টা এর আগেও হয়েছিল। শুভেন্দু অধিকারী প্রায় শতাধিক নেতা-বিধায়ককে নিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। তারপর আরও অনেককে ভাঙিয়ে আনা হয়েছিল। তারপরও বিপুল জয় হাসিল করে হাসতে হাসতে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। এখন একজন একনাথ শিন্ডে খুঁজে পাওয়াও বিজেপির পক্ষে কষ্টকর।












Click it and Unblock the Notifications