তৃণমূলের প্রথম একাদশে ঠাঁই হল না এখনও, সাইডলাইনের বাইরে ‘বড়’ পদেই আপ্লুত বাবুল
তৃণমূলের প্রথম একাদশে ঠাঁই হল না এখনও, সাইডলাইনের ‘বড়’ পদেই আপ্লুত বাবুল
বরাবর প্রথম একাদশে থাকতে চেয়েছেন রাজনীতির অঙ্গনে। বিজেপিও ছিলেন। প্রথম একাদশ থেকে বাদ পড়তেই তিনি যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলে। কিন্তু এখনও তৃণমূলের প্রথম একাদশের খেলোয়াড় হয়ে উঠতে পারেননি তিনি। এখনও সাইডলাইনে বসে থাকতে হচ্ছে। তবে সাইডলাইনে হলেও পর পর দুটি বড় বদ পেয়ে আপ্লুত বিজেপি ছেড়ে আসা বাবুল সুপ্রিয়।

জল্পনা ছিল বাবুল মন্ত্রী হতে পারেন!
সম্প্রতি উপনির্বাচনে জিতে বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। রাজনৈতিক মহল মনে করেছিল, এরপর তাঁকে মন্ত্রিসভায় সুযোগ দেওয়া হতে পারে। তাহলে বাবুল সুপ্রিয়র বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে আসার সার্থক হবে এবং তিনি প্রথম একাদশের খেলোয়াড় হয়ে উঠতে পারবেন তৃণমূলে। কিন্তু সেই সুযোগ এখনও আসেনি বাবুলের জন্য।

তাহলে বিজেপি ছেড়ে হলটা কী!
সম্প্রতি তাঁকে জাতীয় মুখপাত্র করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। জল্পনা ছিল মন্ত্রী হবেন, হলেন জাতীয় মুখপাত্র। বিধায়ক হওয়ার পর, ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় স্তরে এই পদ পেয়ে তিনি আপ্লুত। বাবুল সুপ্রিয় খুশির বার্তা দিলেও রাজনৈতিক মহলে কিন্তু প্রশ্ন উঠে পড়েছে, প্রথম একাদশেই যদি সুযোগ না মিলবে বিজেপি ছেড়ে হলটা কী!

বিধায়ক হওয়ার পর জাতীয় মুখপাত্র
রবিবার বাবুল সুপ্রিয় নিজে টুইট করে তাঁকে জাতীয় মুখপাত্রের পদ দেওয়ার জন্য তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, জাতীয় স্তরের এই পদ পেয়ে তিন আপ্লুত। বিধায়ক করার পর তাঁকে জাতীয় মুখপাত্র করা হয়েছে, বাবুল এরপর নিজের সেরাটা দেবেন বলে জানিয়েছেন।

প্রথম নির্বাচনে জিতেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী
সঙ্গীত ছিল তাঁর প্রথম পরিচয়। সেখান থেকে রাজনীতিতে এসেছেন। ২০১৪ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়েই তিনি আসানসোলের সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। আসানসোলে প্রচারে এসে নরেন্দ্র মোদী বলে গিয়েছিলেন আপনারা বাবুলকে জিতিয়ে দিল্লিতে পাঠান। আমি বাবুলকে মন্ত্রী করব। কথা রেখেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। বাবুল প্রথম নির্বাচনে জিতেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়েছিলেন। তবে তিনি রাষ্ট্রমন্ত্রীর মর্যাদা পেয়েছিলেন, পূর্ণমন্ত্রিত্ব পাননি তিনি।

বাবুলকে কেন্দ্রীয়মন্ত্রীর পদ থেকে সরাতেই জল্পনা
এরপর ২০১৯-এর নির্বাচনেও বিরাট ব্যবধানে আসানসোল থেকে বিজেপির টিকিটে জয় পেয়েছিলেন বাবুল। তৃণমূলের জনপ্রিয় মুখ মুনমুন সেনকে হারিয়ে সাংসদ হওয়ার পর ফের জুটেছিল কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর পদ। কিন্তু মাঝপথে সেই পথে বাধা নেমে আসে। বাবুল সুপ্রিয়কে সরিয়ে দেওয়া হয় কেন্দ্রীয়মন্ত্রীর পদ থেকে। তখন থেকেই জল্পনার সূত্রপাত।

দ্বাদশ খেলোয়াড় হয়েও তিনি থাকতে চান না
বাবুল সুপ্রিয় প্রথমে রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার কথা ঘোষণা করে দেন। তার অদ্যাবধি পরে তিনি তৃণমূলে নাম লেখান। অভিষেকের হাত ধরে তিনি য়োগ দেন তৃণমূল কংগ্রেসে। তখনই জানান, তিনি প্রথম একাদশের খেলোয়াড়। সাইডলাইনে বসে থাকতে তিনি জানেন না। দ্বাদশ খেলোয়াড় হয়েও তিনি থাকতে চান না। তাই বিজেপি ছেড়েছেন।

এখনও থাকতে হয়েছে প্রথম একাদশের বাইরেই
তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন বাংলার জন্য কিছু করার সুযোগ পেয়ে। এরপর তিন বিধায়ক হয়েছেন। তারপর হলেন তৃণমূলের জাতীয় মুখপাত্র। আপাতত এই দুই পদ নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে তৃণমূলে যোগ দিয়েও তিনি প্রথম একাদশে ঠাঁই পেলেন কোথায়। এখনও তাঁকে থাকতে হয়েছে প্রথম একাদশের বাইরেই।












Click it and Unblock the Notifications