হিন্দু শাস্ত্রে বসন্ত পঞ্চমীর দিন কেন কামদেবের পুজো করার পরম্পরা রয়েছে জানেন কি?
হিন্দু শাস্ত্রে বসন্ত পঞ্চমীর দিন কেন কামদেবের পুজো করার পরম্পরা রয়েছে জানেন কি?
মাঘ মাসের শুক্ল পক্ষের সময় বসন্ত পঞ্চমী পালন করা হয়। মা সরস্বতী দেবীর আরাধনায় মেতে ওঠে গোটা দেশ। এ বছর বসন্ত পঞ্চমী পালন করা হবে ৫ ফেব্রুয়ারি, শনিবার। এদিন জ্ঞানের দেবী মা সরস্বতীর পুজো করা হয়। বিশ্বাস করা হয় যে বসন্ত পঞ্চমীর দিন দেবী সরস্বতী প্রকট হয়েছিলেন, এজন্য এইদিনে বিশেষ রূপে তাঁর পুজো করা হয়। এছাড়াও বসন্ত পঞ্চমীর দিন কামদেবেরও পুজো করা হয়ে থাকে। কামদেব হলেন প্রেম ও ভালোবসার দেবতা। কিন্তু জানেন কি কেন এদিন কামদেবের পুজো করা হয়? যদি না জেনে থাকেন তাহলে জেনে নিন।

কামদেবকে কেন বিশেষ স্থান দেওয়া হয়
হিন্দু ধর্ম মতে, বসন্ত পঞ্চমীর দিন কামদেবের পুজো করার পরম্পরা রয়েছে। শাস্ত্রে বলা হয়েছে কামদেবকে প্রেমের অধিপতি বলা হয়। বিশ্বাস করা হয় যে যদি এটা না করা হয় তবে সৃষ্টির উন্নতি থেমে যাবে। এর সঙ্গে জীবদের মধ্যে প্রেমের ভাবনা শেষ হয়ে যাবে। এর জন্য কামদেবকে বিশেষ স্থা দেওয়া হয়েছে।

বসন্ত পঞ্চমীর দিন কেন করা হয় কামদেবের পুজো
শাস্ত্র মতে, বসন্ত ঋতু কামদেবের সঙ্গে সম্পর্কিত। বসন্তের আগমনে আবহাওয়া হয়ে ওঠে মনোরম। প্রকৃতিতে এক অন্যরকম সৌন্দর্য দেখা যায়। মানুষের পাশাপাশি অন্যান্য প্রাণীকেও সুখী মনে হয়। সেই সঙ্গে রয়েছে আনন্দের পরিবেশ। তাই প্রেমের দিক থেকেও এই ঋতু অনুকূল। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুসারে, কামদেব দেবী লক্ষ্মী এবং ভগবান বিষ্ণুর পুত্র। দেবী রতির সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। দেবী রতি আকর্ষণ এবং প্রেমের দেবী। তবে কিছু গল্পে কামদেবকে ব্রহ্মার পুত্র বলেও বর্ণনা করা হয়েছে।

ভগবান শিব কামদেবকে বরদান দিয়েছিলেন
পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে কামদেব একবার ভগবান শিবের তপস্যা ভঙ্গ করেছিলেন। যার কারণে শিবের মন চঞ্চল হয়ে ওঠে। ভগবান শিব যখন সত্য জানতে পারলেন, তখন তিনি ক্রোধে কামদেবকে গ্রাস করলেন। এ কথা জানতে পেরে কামদেবের স্ত্রী রতি শোক করতে লাগলেন। কথিত আছে যে রতির অনুরোধে, ভগবান শিব কামদেবকে আত্মারূপে প্রকৃতিতে বসবাসের বর দিয়েছিলেন।

মনের মানুষকে পেতে জপ করুন এই মন্ত্র
কামদেবকে সন্তুষ্ট করার একমাত্র উপায় তাঁর পুজো নয়, বরং উপযুক্ত উপচার সহ কামদেব মন্ত্র জপ করলেও বাঞ্ছিত মানুষকে লাভ করা সম্ভব। কিন্তু কীভাবে কার্যকর হয় সেই মন্ত্র? প্রকৃত অর্থে কামদেব মন্ত্র হল এক ধরনের বশীকরণ মন্ত্র। অর্বাচীন কালের তন্ত্রাচারে এই মন্ত্রের প্রয়োগ রয়েছে বলে শোনা যায়। বলা হয়, কাম্য নারী বা পুরুষকে আকর্ষণ, পুরনো প্রেমকে ফিরে পাওয়া, কিংবা প্রেমের বাধা দূরীকরণের মতো কার্যসিদ্ধি সম্ভব এই মন্ত্রের সাহায্যে। ঠিক কী করতে হয় এই মন্ত্রের সুফল ভোগ করতে হলে? বলা হচ্ছে, কোনও এক শুক্রবারে শুরু করতে হয় এই মন্ত্রের জপ। প্রথমে ফুল ও ধুপ-ধুনো সহ পুজো সারতে হয় কামদেবের। তারপর প্রজ্জ্বলিত করতে হয় বিশুদ্ধ ঘি-এর দীপ। তারপর একটি কাগজে নিজের ভালবাসার মানুষের নাম লিখে শুরু করতে হয় মন্ত্রোচ্চারণ। মন্ত্রটি এরকম: 'ওম কামদেবায় কামবশম করায় অমুকস্য (প্রার্থিত ব্যক্তির নাম সহযোগে) হৃদয়ম স্তম্ভয়' ইত্যাদি। এই মন্ত্র উচ্চারণ করতে হয় ১০৮ বার। এমনটা টানা তিন সপ্তাহ রোজ করতে পারলেই নাকি কাঙ্খিত মানুষ ধরা দেবে মন্ত্রজপকারীর কাছে।












Click it and Unblock the Notifications