মহাপ্রভু জগন্নাথদেবের আসল পরিচয় সম্পর্কে আপনার কি জানা আছে?
আসছে রথযাত্রা! আর রথযাত্রা মানেই আমাদের মনে পড়ে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রার কথা। তারপর মাথাই আসে পুরীর কথা। কথিত আছে, ভগবান জগন্নাথ দেবের পুজো নিষ্ঠা ভাবে করলে জীবনে অনেক দূর পর্যন্ত এগোনো যায়। সকল কাজে সফলতা অর্জন করা যায়। তবে কে এই জগন্নাথদেব, জানেন?
জগন্নাথদেবের অর্থ তিনি জগতের নাথ। হিন্দুদের মধ্যে অনেক দেবদেবীর প্রচলন রয়েছে। তার মধ্যে প্রধান হলেন ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর। সকলেই কিন্তু বিষ্ণু, মহেশ্বরকে জগন্নাথের নাথ বলেই জানেন। আর সেই কারণেই কিন্তু সকলের মনে প্রশ্ন জাগে জগন্নাথদেব আসলে কে?

অনেকের মুখে শোনা যায়, জগন্নাথদেব নাকি ভৈরব বা শিব। জগন্নাথ মন্দির চত্বরে দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে রয়েছে দেবী বিমলার মন্দির। এখানে দেবী সতীর নাকি নাভি পড়েছিল বলে মনে করেন সকল ভক্তরা। আর সেই পীঠের দেবীর নামই বিমলা। এখানে মহাপ্রভুকে নিবেদন করা উচ্ছিষ্টই বিমলা দেবীকে দেওয়া হয়। তারপরই ভোগ পায় মহাপ্রসাদের মর্যাদা। বিমলা মন্দিরে আশ্বিন মাসে ১৫ দিন ধরে দুর্গাপুজো হয়। মহিষাসুরমর্দিনী রূপে পুজো করা হয় দেবী সতীকে।
পুরীতে ভগবান জগন্নাথকে, ভাই বলরাম এবং বোন সুভদ্রার সঙ্গে পুজো করা হয়। উড়িষ্যা ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ঝাড়খন্ড, মনিপুর, ত্রিপুরায় জগন্নাথ দেবের প্রচলন রয়েছে। ভারতের চারধামের মধ্যে পুরী কিন্তু অত্যন্ত পবিত্র একটি স্থান।
প্রতিবছর আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে এই জগন্নাথদেবের পূজা হয় যা কিন্তু রথযাত্রা নামে পরিচিত। সেই সঙ্গে ভগবান জগন্নাথদেব, ভাই বলরাম এবং সুভদ্রারও বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়। গুন্ডিচা মন্দিরে মহাপ্রভুর যাওয়াকেই রথযাত্রা বলা হয়। সাত দিন পরে তিনি আবার ফেরত আসেন। তাঁর ফিরতি যাত্রাকেই উল্টো রথ বলা হয়। যা চলতি বছর পড়েছে ১৬ জুলাই।
লোকমুখে শোনা যায়, প্রতিবছর ভাদ্র মাসে বিষ্ণুর বামন অবতারে মহাপ্রভু জগন্নাথ দেবের পূজার আয়োজন করেন সকলে। জগন্নাথদেবকে দারুব্রহ্ম রূপে নৃসিংহ স্ত্রোত্র পাঠ করে দেবতার বিশেষ পুজো করা হয়। শ্রীচৈতন্যদেব আবার জগন্নাথের মধ্যে শ্রীকৃষ্ণকে খুঁজে পেয়েছিলেন। তবে অনেকেই ভগবান জগন্নাথদেবকে বিষ্ণুরই একটি রূপ বলেই মনে করেন।তাই মহাপ্রভু আসলে কে, তা নিয়ে রয়েছে নানান মতবাদ।












Click it and Unblock the Notifications