ধর্মীয় ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে সূর্যগ্রহণ কী, গ্রহণের নেতিবাচক শক্তি এড়াতে কী করবেন, জানুন
জ্যোতিষশাস্ত্রে প্রত্যেকটি গ্রহণের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তা সূর্যগ্রহণ হোক কিংবা চন্দ্রগ্রহণ। বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ ২০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ঘটবে। মেষ রাশি ও অশ্বিনী নক্ষত্রে এই গ্রহণ ঘটবে। ১৯ বছর পর মেষ রাশিতে দেখা যাবে এই সূর্যগ্রহণ। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে গেলে, সূর্যগ্রহণকে অশুভ বলেই মনে করা হয়।

পৌরাণিক মতে কী বলা আছে
বিজ্ঞানীদের মতে, সূর্যগ্রহণের গুরু কিন্তু বিজ্ঞানীদের কাছেও রয়েছে। কারণ এই গ্রহণের সময় তারা অনেক কিছু পেয়ে যান। তাই বিজ্ঞানের ব্যবহারের জন্য গ্রহণকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। পৌরাণিক ও বৈজ্ঞানিক বিশ্বাস সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণ উভয়ই একে অপরের সঙ্গে যুক্ত তাই গ্রহণের ব্যাখ্যা ধর্ম এবং বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। জানুন ধর্মীয় এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে সূর্যগ্রহণ কী।

বিজ্ঞানীদের মত কী
বিজ্ঞানীদের মতে, যখন চাঁদ পৃথিবী এবং সূর্যের মাঝখানে আসে, সূর্যের আলো সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে অবরুদ্ধ করে। এবার সূর্যগ্রহণ হবে মেষ রাশিতে। এই সূর্যগ্রহণ খুব বিশেষ হতে চলেছে। কারণ ১৯ বছর পর মেষ রাশিতে সূর্যগ্রহণ হতে চলেছে। এছাড়াও, এই সূর্যগ্রহণটি হাইব্রিড হবে কারণ এটি তিনটি আকারে দেখা যাবে। পৃথিবী সূর্যের চারিধারে ঘুরতে সময় নেয় ৩৬৫ দিন অর্থাৎ এক বছর চাঁদ সূর্যের চারিধারা করতে সময় নেই ২৭ দিন প্রদক্ষিণ করার সময়, সূর্য পৃথিবীর মাঝখানে সে সূর্যের আলোকে বাধা দেয় একেই বলা হয় সূর্য গ্রহণ।

রাহু ও কেতু কে
সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণের আবার পৌরাণিক ব্যাখ্যাও রয়েছে। সূর্য এবার চন্দ্রগ্রহণের সঙ্গে সমুদ্র মন্থন বিশেষভাবে সম্পর্কিত। এটি হয়তো অনেকেই জানেন না। কথিত রয়েছে, সমুদ্র মন্থন থেকে নির্গত অমৃত পান করার জন্য দেবতা ও অসুরদের মধ্যে অশান্তি বাঁধে। তারপর ভগবান বিষ্ণু মোহিনীর রূপ ধারণ করে প্রথমে দেবতাদের অমৃত পান করান। কিন্তু একজন অসুরও দেবতাদের লাইনে বসে অমৃত পান করে নেন। আর তাতেই বাঁধে বিপত্তি। কিন্তু সূর্য ও চন্দ্র তাকে চিনতে পেরে দেবতা বিষ্ণুকে এ কথা জানান।
ভগবান বিষ্ণু তার সুদর্শন চক্র দিয়ে সেই অসুরের শিরচ্ছেদ করেছিলেন। কিন্তু অমৃত পান করবার কারণে তার মৃত্যু হয়নি। অসুরের মাথার অংশের রাহু এবং ধড়ের অংশকে কেতু বলা হয়। এই ঘটনার পর সূর্য ও চন্দ্র, রাহু, কেতুর মধ্যে শত্রুতা পূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু সূর্য চন্দ্রকে গ্রাস যখন করে তখনই তাকে গ্রহণ বলা হয়।

গ্রহণের নেটিবাচক প্রভাব দূর করতে কী করবেন
- বলা হয়, গর্ভবতী মহিলারা গ্রহণের সময় ধারালো জিনিস যেন কোন কিছু ব্যবহার না করেন, আবার ধারালো বস্তুর ব্যবহার কোনোও জিনিস কোন শিশুর কাছে না রাখা হয়।
- বলা হয়, তুলসী পাতা, ক্রুশ এই গ্রহণকালে খাদ্য ও জলে দেওয়া উচিত। এ কারণে খাদ্য ও জলের উপর গ্রহণের কোনোও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
- যদি আপনি গ্রহণের নেতিবাচক শক্তি এড়িয়ে চলতে চান তাহলে গ্রহণের সময় ঘর থেকে বাইরে বেরোবেন না। বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলাদের সময় বাড়ির বাইরে বেরোনো একদমই ঠিক নয়।
- বেশি করে দেবতাদের মন্ত্র জপ করা উচিত, গ্রহণকালে দেবদেবীদের মন্ত্র জপ করা কিন্তু খুব ভালো
- সূর্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর তারপর স্নান করুন। এটিকে কিন্তু সঠিক বলে মনে করা হয়।
- সূর্যগ্রহণের সময় পূজা, যোগ্য, আরতি করা একদমই উচিত না। এগুলি খুব খারাপ।
- গ্রহণের হওয়ার আগে খাবার এবং জলে তুলসী পাতা দিলে গ্রহণের নেতিবাচক প্রভাব দূর হয়।












Click it and Unblock the Notifications