এবার বিজয়া একাদশীতে বিশেষ যোগ ঘুরিয়ে দেবে ভাগ্যের চাকা
বিজয়া একাদশী
ফাল্গুন কৃষ্ণপক্ষের একাদশীকে বিজয়া একাদশী বলা হয়। এই একাদশীর উপবাস রাখলে কর্মক্ষেত্রে ব্যপক সাফল্য পাওয়া যায়। এই বছর অর্থাৎ ২০২২ সালের বিজয়া একাদশী পড়েছে ২৭ ফেব্রুয়ারি রবিবার। ধর্মীয় পুরাণ ও শাস্ত্র অনুসারে, এই বিশেষ দিনে ভগবান বিষ্ণুর পূজা করা হয়। এবং মনে করা হয় এই দিনে ভগবান বিষ্ণুর পূজা করলে সকল ইচ্ছা পূরণ হয়। এর সঙ্গে জীবনে আসা ভয়ানক বিপদের হাত থেকেও রেহাই পাওয়া যায়। জেনে নেওয়া যাক এই বছর অর্থাৎ ২০২২-এর বিজয়া একাদশীর শুভ সময় কী, এবং কীভাবে ভগবান বিষ্ণুর পুজো করলে করা যাবে মনের সব ইচ্ছা পূরণ।

বিজয়া একাদশীর শুভ মুহূর্ত
পঞ্চাং অনুসারে, ফাল্গুন কৃষ্ণপক্ষের একাদশী তিথি শুরু হবে ২৬ ফেব্রুয়ারি, সকাল ১০টা ৩৯ মিনিটে। যা ২৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা ১২ মিনিট পর্যন্ত থাকবে। সেই অনুসারে প্রভাতী কালের কথা মাথায় রেখে বিজয়া একাদশীর উপবাস পালিত হবে ২৭ ফেব্রুয়ারি।

বিজয়া একাদশীতে শুভ যোগ
এবার বিজয়া একাদশীতে সর্বার্থসিদ্ধি যোগ তৈরি হচ্ছে। একাদশীর দিন সকাল ৮.৪৯টা থেকে এই যোগ শুরু হবে, যা পরের দিন সকাল ৬.৪৮টা পর্যন্ত চলবে। এটি একটি ধর্মীয় বিশ্বাস যে সর্বার্থসিদ্ধি যোগে উপবাস করলে কর্মে সিদ্ধি লাভ হয়। এছাড়াও এই দিনে ত্রিপুষ্কর যোগও তৈরি হচ্ছে। ত্রিপুষ্কর যোগ চলবে সকাল ২৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮.৫০ টা থেকে পরের দিন ভোর ৫.৪২টা পর্যন্ত। এইবার বিজয়া একাদশীর 'অভিজিৎ মুহুর্ত' অর্থাৎ সবথেকে শুভক্ষণ পড়েছে ২৭ তারিখ দুপুর ১২.১১টা থেকে ১২.৫৭টা পর্যন্ত।

কলশ প্রতিষ্ঠা
বিজয়া একাদশীর দিন কলশ প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। এর জন্য একটি কলশের উপর ভগবান শ্রী হরির মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে তার পর ভগবানের পূজা করতে হবে। পুজোর সময় কপালে শ্বেত চন্দন বা গোপী চন্দন লাগিয়ে পূজা করলে তা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। এতে শ্রী বিষ্ণু খুবই প্রসন্ন হন। ভগবানকে পঞ্চামৃত, ফুল ও সাদা ফুল নিবেদন করে যথাসাধ্য উপাচারে পুজ করতে হবে। সব শেষে বিষ্ণু মন্ত্র জপ করতে হবে।

সন্ধ্যারতি ও পুজো
বিজয়া একাদশীর দিন সন্ধ্যায় ভগবান বিষ্ণুর আরতি করা খুব শুভ। পরের দিন সকালে ওই প্রতিষ্ঠিত কলশটি এবং সঙ্গে ফল ও খাদ্যশস্য কোনও দরিদ্র ব্যক্তিকে দান করে দিতে হবে। বিজয়া একাদশীর উপবাসে ভাত বা ভারী কোনও খাবার খাওয়া উচিত নয়। এইদিন রাতের পূজারও বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। বিজয়া একাদশী অত্যন্ত পবিত্র একটি দিন। তাই এই বিশেষ দিনে কারও উপর রাগ করা উচিত নয়। এই দিন কম কথা কম বলা এবং নিজের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা খুব প্রয়োজন।
(এই সকল তথ্য পুরাণ ও প্রচলিত তথ্যের উপর নির্ভরশীল)












Click it and Unblock the Notifications