সাতটি শস্য দিয়ে করুন শনিদেবের উপাসনা, নিমেষে কাটবে সব খারাপ প্রভাব
সাতটি শস্য দিয়ে করুন শনিদেবের উপাসনা, নিমেষে কাটবে সব খারাপ প্রভাব
জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুযায়ী সকল গ্রহ সব রাশির জাতক জাতিকাদের জীবনে অনেকটাই প্রভাব ফেলে বলে মনে করেন অনেকেই। এরই সঙ্গে গ্রহ নক্ষত্রের ক্রমাগত অবস্থান পরিবর্তন মানুষের জীবনে সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্য দুটোই বয়ে নিয়ে আসে। প্রতি গ্রহ নক্ষত্র নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর নিজের জায়গা পরিবর্তন করে। সেই মতই নিজের স্থান পরিবর্তন করেন শনিদেবও। এবং তাঁর অবস্থানের বদলে জাতক জাতিকাদের জীবনে আসে মহাদশা, অন্তর্দশা, সাড়ে সাতী, ঢাইয়া ইত্যাদি অবস্থা। যা সাধারণ মানুষের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে।

ধনু রাশিতে সাড়ে সাতী
এই মুহূর্তে ধনুরাশির জীবনে শুরু হতে চলেছে শনির সাড়ে সাতী। আগামী ১২ জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জানুয়ারী মাস পর্যন্ত ধনু রাশির জাতক জাতিকাদের জীবনে থাকবে শনিদেবের এই সাড়ে সাতীর প্রভাব। জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুযায়ী, ধনু রাশির জাতক জাতিকারা দীর্ঘকাল এই সাড়ে সাতীর শিকার হবেন।

সাড়ে সাতীর প্রকোপ
প্রসঙ্গত, চলতি বছর অর্থাৎ ২০২২ সালেই আড়াই বছর পর নিজের স্থান বদলেছিলেন শনিদেব। কিন্তু ৪৫ দিন পর ফের শনি আরও একবার ১৪১ দিনের জন্য বক্রি হতে চলেছেন। এর সঙ্গে ১২ জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জানুয়ারী পর্যন্ত ধনু রাশির জাতক জাতিকাদের জীবনে থাকবে সাড়ে সাতীর প্রভাব। এরফলে ধনুরাশির জাতক জাতিকাদের জীবনে শনির প্রকোপ শুরু হতে চলেছে। জ্যোতিষ মতে, ধনু রাশির উপর শনিদেবের এই প্রভাব থাকবে। ধনু রাশির পাশাপাশি মকর, কুম্ভ রাশির জাতক জাতিকাদের জীবনেও শনির সাড়ে সাতীর হালকা প্রভাব থাকতে চলেছে আগামী কয়েক মাস। সেই সঙ্গে ধনু রাশির ক্ষেত্রে এই রাশির ব্যক্তিরা বেশ দীর্ঘ সময় ধরেই সাড়ে সাতীর প্রকোপে থাকবেন তাঁরা।

শনির প্রভাব কাটানোর উপায়
জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুযায়ী, শনদেবের সকল খারাপ প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়ার অনেক উপায় রয়েছে। সাতটি শস্য নিবেদন করলে শনির প্রকোপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এই সাতটি ধান শস্যকে শাস্ত্রে বলে সপ্তধান্য। এগুলি হল যথাক্রমে, যব, গম, চাল, তিল, ভুট্টা, মুগ এবং মাসকলাই। এই কটি জিনিস নিবেদন করলে শনিদেব খুব খুশি হন। যাঁরা সাড়ে সাতীর প্রকোপে ভুগছেন তাঁরা এই শস্য নিবেদন করে এই প্রকোপ থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

সপ্তধান্যর গুরুত্ব
এই শস্যগুলিকে শনিদেব খুব পছন্দ করেন তার কারণ একদা শনিদেব চিন্তিত মনে ভ্রমণ করছিলেন। তখন দেবর্ষি নারদ তাঁকে চিন্তার কারণ জিজ্ঞাসা করেন। তখন শনিদেব বললেন, কর্মের ফল অনুসারে তাঁকে মহান সপ্ত ঋষির প্রতি ন্যায়বিচার করতে হবে। নারদ তখন উপদেশ দেন যে সিদ্ধন্ত নেওয়ার আগে শনিদেবের উচিত সাত ঋষির পরীক্ষা নেওয়া। শনিদেব নারদের উপদেশ মেনে ব্রাহ্মণের ছদ্মবেশ ধারণ করেন এবং সপ্ত ঋষিদের কাছে পৌঁছান এবং সাত ঋষির সামনে শনিদেব নিজেরই নিন্দে শুরু করেন। কিন্তু অভিজ্ঞ সাত ঋষি বলেন, শনিদেব কর্ম অনুসারে সকলকে ফল দেন, আর সেটাই ন্যায়। এই কথা শুনে শনিদেব খুশি হয়ে নিজের রূপে ফিরে আসেন এবং সপ্তর্ষির কাছ থেকে এই সাতটি শস্যের দান গ্রহণ করেন। এবং আশীর্বাদ দেন যে কেউ যদি এই সপ্তধান্য দিয়ে তাঁর উপাসনা করেন তাহলে তিনি কখনও খারাপ প্রভাব ফেলবেন না।
(এই সকল তথ্য সম্পূর্ণ জ্যোতিষ শাস্ত্রের উপর নির্ভরশীল)












Click it and Unblock the Notifications