সুখ সমৃদ্ধিকে প্রভাবিত করে ডোরবেল বা মোবাইলের রিংটোনের শব্দও, জেনে নিন কী বলছে বাস্তু শাস্ত্র
সুখ সমৃদ্ধিকে প্রভাবিত করে ডোরবেল বা মোবাইলের রিংটোনের শব্দও, জেনে নিন কী বলছে বাস্তু শাস্ত্র
জ্যোতিষ শাস্ত্র এমন একটি শাস্ত্র যা নভোমন্ডলে বিভিন্ন জ্যোতিষ্ক বা গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান বিবেচনা করে মানুষের ভাগ্য নিরূপণ করে। ঠিক তেমনই এর অপর একটি দিক হল বাস্তু শাস্ত্রও। কোনও বাড়ির দিক, বস্তু, আকার বর্ণ ইত্যাদি বিশ্লেষণ করে সেই বাড়িতে বসবাসকারী মানুষের জীবনধারণ সম্পর্কে বিশ্লেষণ করা হয়। এই বাস্তু শাস্ত্র ভারতের সভ্যতার গৌরব। বাড়ির দিক ও নানা জিনিসের মাধ্যমে সেই স্থানের ভাগ্যফল যাচাই করার নামই হল বাস্তু শাস্ত্র। আর বাস্তু মতে বাড়ি তো বটেই, সঙ্গে সঙ্গে বাড়িতে বসবাসকারী মানুষদের ব্যবহার করা নানা জিনিসের প্রভাবও গৃহের সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধিকে প্রভাবিত করে থাকে। তারই মধ্যে অন্যতম হল ডোরবেল ও মোবাইলের রিংটোন। জেনে নেওয়া যাক বাস্তু মতে এইগুলির শব্দ কেমন হওয়া উচিত।

মোবাইলের রিংটোন
এখন প্রতিটি মানুষের কাছে বেঁচে থাকার অন্যতম মূল রসদই হল তার মোবাইল ফোন। মোবাইল ছাড়া এক মুহূর্ত কাটেনা এখন কারওই। পৃথিবীটা এখন ছোট হতে হতে হাতের মুঠোতে থাকা একটি ফোনেই সীমাবদ্ধ হয়ে গিয়েছে। সেক্ষেত্রে নানা মানুষ নিজের পছন্দ মত নানা রকমের রিংটোন সেট করে থাকেন। যেমন সেটি হতে পারে কোনও গানের অংশ। আবার হতে পারে কোনও নির্দিষ্ট বাজনার আওয়াজ বা আবার ফোনের টিং টিং আওয়াজ। কিন্তু জানেনকি? এই সকল আওয়াজও কোনও না কোনও ভাবে আপনার জীবনের বিভিন্ন বিষয়কে প্রভাবিত করে থাকে। অনেক সময় দেখা যায় বহু ব্যক্তি খুব চড়া কোনও আওয়াজ বা বন্য পশুর ডাক কিংবা খুব কঠোর কোনও শব্দ রিংটোন হিসেবে সেট করেছেন। কিন্তু বাস্তু মতে এই সকল আওয়াজ নিত্যদিনের জীবনের জন্য মোটেই ভালো নয়। মনে করা হয় এই সকল ঘরে নেতিবাচক শক্তির প্রবাহ বাড়িয়ে দেয়। এতে পরিবারের সদস্যদের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয় এবং তাতে বাড়িতে ঝগড়া অশান্তি বৃদ্ধি পায়।

ডোরবেলের শব্দ
বাইরে থেকে যখন কেউ বাড়িতে আসেন তখন বন্ধ দরজা খোলার জন্য কলিং বেল বা ডোরবেল বাজিয়ে থাকেন। দেখা গিয়েছে ডোরবেলের ক্ষেত্রেও নানা বাড়িতে নানা রকম শব্দের কলিং বেল সেট করা থাকে। কিন্তু সেক্ষেত্রেও নিদান দিয়েছে বাস্তু শাস্ত্র। কারণ অনেক সময় ডোরবেলে পাখির শব্দ বা খুব উচ্চস্বরে বাজনার শব্দ রাখা হয়। যা মোটেই ভালো নয় বাড়ির জন্য। বাস্তু মতে ডোরবেলের এই সকল আওয়াজ প্রতিনিয়ত বাড়িতে হতেই থাকে ফলে পরিবারের মানুষদের স্বাস্থ্য এবং বাড়ির আর্থিক উন্নতির উপরে তার নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে থাকে, যা মোটেই ভালো ফল দেয়না। তাই ডোরবেল সেট করার আগেও এই বিষয়গুলি মাথায় রাখা উচিত।

অ্যালার্ম-এর আওয়াজ
অনেকেই আছেন যাঁরা ঘড়ি বা তাতে অ্যালার্ম-এর জন্য কোনও না কোনও শব্দ দিয়ে রাখেন। বাস্তু শাস্ত্র বলে অ্যালার্ম সকালের শুরুতেই সকলে সেই শব্দ শুনে ঘুম থেকে ওঠেন। তাই এই শব্দ কখনওই খুব চড়া বা শুনতে খারাপ লাগে এমন কিছু সেট করে রাখতে নেই। কারণ তাতে সারা দিনের জীবনচর্চা প্রভাবিত হয়। বরং হালকা কোনও শব্দ বা বাজনা কিংবা ঘড়ির চিরাচরিত পেন্ডুলামের শব্দ রাখা যেতে পারে, তা শুভ ফল দেয় ও সকালে মনকে শান্ত রাখে।

শব্দ-কল্প-দ্রুম!
জ্যোতিষ শাস্ত্র কিংবা বাস্তু শস্ত্র মতে শব্দের প্রভাব যে কোনও ক্ষেত্রেই সরাসরি গিয়ে পড়ে জীবজাতির জীবনে। যখন মন্দিরে সকলে শাঁখ বা ঘণ্টা বাজান সেখানে যেমন তার মহত্ব থাকে কিংবা সুর করে মন্ত্র উচ্চারণের ফলে ভগবান তুষ্ট হন, ঠিক তেমনই বাড়িতে ডোরবেল বা মোবাইলের রিংটোনের শব্দও প্রভাবিত করে জীবনকে। তাই এসব ক্ষেত্রে কখনও ঠাকুর দেবতার গান বা মন্ত্র রাখতে নেই। কারণ সময়ে অসময়ে সেগুলি বাজতে থাকলে হিতের থেকে বিপরীত হয় বেশি। এছাড়া কোনও চড়া শব্দও রাখা উচিৎ নয়। বরং বাস্তু মতে শুনতে মিষ্টি লাগে এমন কোনও বাজনা বা গান কিংবা কবিতা আবৃতির অংশ এক্ষেত্রে সেট করা শুভ ফল দান করে বলেই মনে করা হয়।
(এই সকল তথ্য সম্পূর্ণ জ্যোতিষ ও বাস্তু শাস্ত্রের উপর নির্ভরশীল)












Click it and Unblock the Notifications