বছরের শেষ চন্দ্রগ্রহণের ঐতিহাসিক সাক্ষী হতে চলেছে বিশ্ব, ভারত থেকে কখন দেখা যাবে জানুন
বছরের শেষ আংশিক চন্দ্রগ্রহণ হতে চলেছে নভেম্বরের ১৯ তারিখ। এবং এই আংশিক চন্দ্রগ্রহণের শেষের দিকের দৃশ্য দেখতে পাওয়া যাবে ভারতের অরুণাচল প্রদেশ ও অসম থেকে। বছরের দ্বিতীয় ও শেষ চন্দ্রগ্রহণ বিশেষ বলেই জানিয়েছেন বিজ্ঞানী থেকে শুরু করে জ্যোতিষীরাও।

ভারতে কখন শুরু হবে
ভারতে এই চন্দ্রগ্রহণ শুরু হবে ১৯ নভেম্বর দুপুর ১২টা ৪৮মিনিটে এবং শেষ হবে ৪টে ১৭ মিনিটে। ভারত থেকে, চন্দ্রোদয়ের ঠিক পরে, অরুণাচল প্রদেশ এবং অসমের চরম উত্তর-পূর্ব অংশ থেকে গ্রহনের আংশিক পর্বের সমাপ্তি খুব অল্প সময়ের জন্য দৃশ্যমান হবে। পরবর্তী চন্দ্রগ্রহণ হবে ৮ নভেম্বর ২০২২ সালে এবং সেটি পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ হবে বলে জানা গিয়েছে।

কীভাবে হয় চন্দ্রগ্রহণ
পূর্ণিমার দিন হয় চন্দ্রগ্রহণ। যখন পৃথিবী এসে পড়ে সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে এবং এই তিন বস্তুই একই সরলরেখায় থাকে তখন। পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ এসে প্রবেশ করে পৃথিবীর প্রচ্ছায়ায় আর আংশিক চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের কিছুটা অংশ ঢাকা পনে পৃথিবীর প্রচ্ছায়ায়।

দীর্ঘতম চন্দ্রগ্রহণ
১৯ নভেম্বর হওয়া আংশিক চন্দ্রগ্রহণ শতাব্দীর দীর্ঘতম চন্দ্রগ্রহণ হতে চলেছে। প্রায় ৬০০ বছর পর এত দীর্ঘসময় ধরে আংশিক চন্দ্রগ্রহণ হবে বলে জানা গিয়েছে। চন্দ্রগ্রহণ তখনই হয় যখন পৃথিবীর ছায়ার মধ্যে এসে পড়ে চাঁদ। এই ঘটনার ক্ষেত্রে, আংশিক চন্দ্রগ্রহণ থাকবে ৩ ঘণ্টা ২৮ মিনিট ২৪ সেকেন্ড এবং পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ থাকবে ৬ ঘণ্টা ১ মিনিট, যা ৫৮০ বছর এই চন্দ্রগ্রহণকে দীর্ঘতম আংশিক চন্দ্রগ্রহণে পরিণত করেছে।

রক্তিম বর্ণ ধারণ
ব্রহ্মাণ্ড নিয়ে যাঁরা গবেষণা করেন তাঁরা চাঁদের একটি পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পেরেছেন, তাঁরা জানিয়েছেন চন্দ্রগ্রহণের সময় এই চাঁদ রক্তিম বর্ণ ধারণ করবে। এটাই বছরের শেষ চন্দ্রগ্রহণ। নাসার মতে এই দৃশ্যটি দেখা যাবে ১৯ নভেম্বর ইস্টার্ন সময় অনুযায়ী ভোর ২টো ১৯ মিনিটে (ভারতীয় সময় দুপুর ১২টা ৪৯ মিনিট)।

চারটে প্রধান ধাপে হবে গ্রহণ
মার্কিন মহাকাশ সংস্থা বলেছে যে গ্রহনটি চারটি প্রধান ধাপে ঘটবে - ইস্টার্ন সময় ভোর ১টা ০২ মিনিটে এ চাঁদ পেনাম্ব্রা বা চাঁদের ছায়ার হালকা অংশে প্রবেশ করবে। এই পর্যায়টি সাধারণত বিশেষ সরঞ্জাম ছাড়া চিহ্নিত করা কঠিন কারণ অন্ধকার খুবই সামান্য থাকবে। এরপর ইস্টার্ন সময় ভোর ২টো ১৮ মিনিটে চাঁদ প্রচ্ছায়ার দিকে এগোবে বা ছায়ার গাঢ় অংশের দিকে যাবে। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে চাঁদ ওই গভীর ছায়া অতিক্রম করবে যতক্ষণ না সেই প্রচ্ছায়া ভোর ৫টা ৪৭ মিনিটে শেষ না হচ্ছে। ইস্টার্ন সময় ভোর ৬টা ০৩ মিনিটে এই গ্রহণ শেষ হবে।

অধিকাংশ গ্রহণ কোন সময় ঘটবে
অধিকাংশ গ্রহণ ঘটবে ইস্টার্ন সময় ভোর ৪টে ০৩ মিনিটে, সেই সময় চাঁদের ৯৭ শতাংশ অংশ পৃথিবীর গভীর ছায়ায় ঢাকা পড়ে যাবে এবং চাঁদকে সেই সময় গভীর রক্তিম বর্ণ ধারণ করতে দেখা যাবে।

কোথায় কোথায় দেখা যাবে
নভেম্বরের পূর্ণিমাকে রীতিগতভাবে বিভার মুন নামেও ডাকা হয়, কারণ এই সময় বিভাররা শীতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং এদিন চাঁদের রঙ পুরো লাল হয়ে যাবে। খণ্ডগ্রাস চন্দ্রগ্রহণটি শুক্রবার দেখা যাবে চিন, জাপান, উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, হংকং, মঙ্গোলিয়া, ম্যাকাও-সহ গোটা পূর্ব এশিয়ায়। অস্ট্রেলিয়া, উত্তর ইউরোপে। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায়। প্রশান্ত মহাসাগর ও লাগোয়া দেশগুলিতেও।

চাঁদের আকার হবে ছোট
পূর্ণিমার চাঁদের আকারের চেয়ে কিছুটা ছোট হবে শুক্রবারের চাঁদ। পৃথিবীর ছায়ায় সেই চাঁদের ৯৭.৪ শতাংশই ঢাকা পড়ে যাবে। ফলে, আক্ষরিক অর্থে খণ্ডগ্রাস হলেও শুক্রবারের চন্দ্রগ্রহণ অনেকটা যেন পূর্ণগ্রাসই।

প্রত্যেক অমাবস্যা, পূর্ণিমায় হয় না গ্রহণ
প্রতি মাসেই অমাবস্যার চাঁদ পৃথিবী আর সূর্যের মধ্যে থাকে। ফলে, চাঁদের এক পিঠে যখন সূর্যের আলো পড়ে তখন পৃথিবীর দিকে থাকা চাঁদের অন্য পিঠে সেই আলো পৌঁছায় না। তাই পৃথিবী থেকে দেখা যায় না অমাবস্যার চাঁদ। প্রদক্ষিণ করে সেই চাঁদ পৃথিবীর অন্য দিকে গেলে তা পূর্ণিমার চাঁদ হয়ে ওঠে। পৃথিবীর সেই দিকে তখন সূর্যের আলো পৌঁছায় না। চাঁদ সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে দিতে পারলে হয় পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। না পারলে হয় আংশিক সূর্যগ্রহণ বা সূর্যের বলয়গ্রাস। কিন্তু চাঁদ তার কক্ষপথে একটু ঝুঁকে থাকে বলে অমাবস্যার চাঁদ সব সময়েই সূর্যের মুখ পুরোপুরি বা আংশিক ভাবে ঢেকে দিতে পারে না। তাই অমাবস্যায় সাধারণত আমরা চাঁদ দেখতে পাই না।












Click it and Unblock the Notifications