সূর্যগ্রহণের সময় কী খাবেন আর কী খাবেন না, কী করবেন না, একনজরে জেনে নিন

সূর্যগ্রহণের সময় চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে সূর্যের আলো কিছুটা বা সম্পূর্ণভাবে আড়াল করে পৃথিবীতে তার ছায়া ফেলে। এই বিরলতম জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা কেবলমাত্র নির্দিষ্ট অঞ্চলে ও শুধুমাত্র অমাবস্যার সময় দেখা যায়। চলতি বছরের ২১ সেপ্টেম্বর আংশিক সূর্যগ্রহণ ঘটবে। আর এটিই চলতি বছরের শেষ সূর্যগ্রহণ। আংশিক সূর্যগ্রহণ যেহেতু তাই পূর্ণগ্রহণের মতো পুরো সূর্য আড়াল হবে না, সূর্যের কেবল একটি অংশ ঢেকে দেবে চাঁদ। ফলস্বরুপ আকাশে অর্ধচন্দ্রাকৃতির সূর্যের এক মনোরম দৃশ্য দেখা যাবে।

সময়, অঞ্চল ও স্থায়িত্ব

গ্রহণ শুরু: ভারতীয় সময় অনুযায়ী রাত ১০:৫৯, ২১ সেপ্টেম্বর।

সর্বোচ্চ পর্যায়: ভারতীয় সময় অনুযায়ী রাত ১:১১, ২২ সেপ্টেম্বর।

সমাপ্তি: ভারতীয় সময় অনুযায়ী ভোর ৩:২৩, ২২ সেপ্টেম্বর।

সর্বমোট গ্রহণের স্থায়িত্বকাল চার ঘণ্টারও বেশি সময়। এই গ্রহণ দৃশ্যমান হবে প্রধানত দক্ষিণ গোলার্ধে নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার কিছু অংশ জুড়ে, দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগর ও অ্যান্টার্কটিকায়।তবে রাতের সময় ঘটবে বলে ভারতে এই গ্রহণ দেখা যাবে না বললেই চলে।

সূর্যগ্রহণের সময় কোন খাবার খাওয়া যেতে পারে

গ্রহণের সময়ে সাধারণত হালকা, সহজপাচ্য ও আধ্যাত্মিকভাবে ইতিবাচক খাবার খাওয়া একদম ভালো। যেমন

সতেজ ফল: কলা, আপেল, ডালিম ইত্যাদি, এগুলি সাধারণত সুরক্ষিত থাকে।

বাদাম ও শুকনো ফল: কাজু, কাঠবাদাম, আখরোট, কিশমিশ, যা মানবদেহে শক্তি সরবরাহ করে ও অতি সহজেই পাচন হয়।

নারকেল বা ডাবের জল : ইলেকট্রোলাইট ও প্রাকৃতিক এনজাইমসমৃদ্ধ পানীয় হল নারকেল বা ডাবের জল,যা শরীরকে সতেজ রাখতে সহায়তা করে।

হলুদ দুধ: এতে রোগ প্রতিরোধ সহ নানা গুণাগুণ রয়েছে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা সহ শরীর ও মনকে শান্ত করে।

তুলসীপাতা যুক্ত জল: বিশ্বাস মতে এটি জলকে বিশুদ্ধ করে ও নেতিবাচক শক্তি থেকে রক্ষা করে।

সূর্যগ্রহণে যেসব খাবার ও অভ্যাস এড়িয়ে চলা উচিত

গ্রহণের সময়ে আধ্যাত্মিক ও শারীরিক বিশুদ্ধতা বজায় রাখতে কিছু খাবার ও অভ্যাস ত্যাগ করা।

রান্না করা ও বাসি খাবার: গ্রহণের আগে বা গ্রহণ চলাকালীন সময়ে রান্না করা খাবার খাওয়া উচিত নয়,এরফলে নেতিবাচক শক্তি শোষণ করে বলে বিশ্বাস করা হয়।

আমিষ খাবার: মাংস ও ডিম খাওয়া গ্রহণের সময় এড়িয়ে চলাই ভালো।

দুধজাতীয় খাবার: দুধ, দই, পনির ইত্যাদি এ সময়ে খাওয়া থেকে সাধারণত বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ভারী ও তৈলাক্ত খাবার: এসময়ে ভাজা,ফাস্ট ফুড,ও অতিরিক্ত তেল মশলাযুক্ত খাবার হজমে কষ্ট হয়।

ক্যাফেইনযুক্ত ও উদ্দীপক পানীয়: চা,কফির পরিবর্তে আদা, হলুদ বা মৌরির চা খাওয়াই শ্রেয়।

কেন গ্রহণকালে রান্না করা খাবার ত্যাগ করা উচিত?

বিশ্বাস করা হয় যে সূর্যগ্রহণের সময় রান্না করলে খাবারের শক্তি ও বিশুদ্ধতা নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়াও খাবারের পুষ্টিগুণ ও আধ্যাত্মিক প্রভাবও বদলে যেতে পারে। তাই গ্রহণ শুরুর আগে রান্না করে রাখা খাবার ও গ্রহণ শেষে সতেজ খাবার খাওয়াই সবচেয়ে ভালো।

অতিরিক্ত নির্দেশাবলী

উপোস: অনেকেই সূর্যগ্রহণের সময়কালে উপোস পালন করেন, যা আধ্যাত্মিক শুদ্ধ ও আত্ম অনুসন্ধানের পক্ষে সহায়ক।

সতেজ খাবার প্রস্তুতি: গ্রহণ শেষকালে রান্নাঘরে নতুন খাবার তৈরি করা হয়। বাসি খাবার না খেয়ে গরম ভাত, রুটি,তরি তরকারি ও ডাল রান্না করার রেওয়াজ প্রচলিত।

ব্যক্তিগত পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা: গ্রহণের আগে ও পরে স্নান করা উচিত। অনেকে আবার স্নানের সময়ে স্নানের জলে কয়েক ফোঁটা গঙ্গাজল মিশিয়ে স্নান সারেন, যা পবিত্রতার প্রতীক বলেও বিশ্বাস রয়েছে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+