Surya Grahan: কেন হয় সূর্যগ্রহণ? কে এই রাহু-কেতু?
মানুষের জীবনে নবগ্রহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। এর মধ্যে দুটি পাপ গ্রহ রয়েছে। তার নাম রাহু এবং কেতু। এই দুটো গ্রহ সবচেয়ে অশুভ ফল বয়ে আনে বলে জ্যোতিষ শাস্ত্রে বলা হয়। কিন্তু আপনি কি জানেন এই রাহু-কেতু আদতে কারা?
সমুদ্র মন্থনের সময় স্বরভানু নামে এক রাক্ষস অমৃত পান করতে চেয়ে দেবতাদের ভিড়ে লুকিয়ে ছিল। এ কথা জানতে পেরে সূর্য ও চন্দ্র গিয়ে শ্রীবিষ্ণুর কাছে এই খবরটি দিয়ে দেন। এমনটা জানতে পেরেই শ্রী হরি সুদর্শন চক্র বের করে ওই রাক্ষস স্বরভানুর শিরচ্ছেদ করেন সুদর্শন চক্র দিয়ে। তারপর থেকেই সেই রাক্ষসের মাথার অংশ রাহু এবং ধড়ের অংশ কেতু নামে পরিচিত হয়।

স্কন্দ পুরাণের অবন্তী খণ্ড অনুযায়ী, সূর্য ও চন্দ্রকে গ্রহণের ফাঁদে ফেলা এই দুই ছায়া গ্রহ হল রাহু এবং কেতু। পুরান মতে রাহুর অধিদেবতা কাল এবং প্রতি অধিদেবতা সর্প। অন্যদিকে কেতুর অধিদেবতা চিত্রগুপ্ত ও প্রতি অধিদেবতা ব্রহ্মা।
জ্যোতিষে রাহু ও কেতুকে রহস্যবাদী গ্রহ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। যদি এরা জন্ম কুণ্ডলীতে সঠিক জায়গায় অবস্থান না করে তাহলে সেই ব্যক্তির অপার কষ্ট হতে পারে। আর যদি এরা কারও ওপর প্রসন্ন হয়, তাহলে তাকে মাটি থেকে আকাশে পৌঁছে দিতে পারে। জন্ম কুণ্ডলীতে এদের শুভ স্থানে থাকাকেই রাজযোগ বলে।

রাহু-কেতু হল ছায়া গ্রহ। স্বাস্থ্য মতে রাহুকে সাপের মাথা এবং কেতুকে সাপের লেজ বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এই দুই গ্রহের মিলনে ভয়ঙ্কর যোগ তৈরি হয়। এদের ফলেই পিতৃদোষ, কালসর্প দোষ, গুরুচণ্ডাল যোগ, গ্রহণ যোগ ইত্যাদি তৈরি হয়।

শাস্ত্র মতে কুণ্ডলীতে যদি রাহু-কেতুর অবস্থান খারাপ থাকে, তাহলে ৪২ বছর বয়স পর্যন্ত সেই ব্যক্তির সমস্যা চলতে থাকে। রাহু-কেতুর প্রভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভোলানাথ শিব, গণপতি এবং মা সরস্বতীর পুজোর বিধান রয়েছে।
রাহু এবং কেতু এতটাই প্রভাবশালী যে সূর্য এবং চাঁদের গ্রহণ এদের কারণেই হয়। রাহু-কেতু সূর্য এবং চাঁদকে গ্রাস করে আর তখনই সূর্যগ্রহণ অথবা চন্দ্রগ্রহণ হয়।












Click it and Unblock the Notifications