জেল যাওয়ার ভয়ে উড়েছে রাতের ঘুম? আপনার জন্মছকে দুর্বল নয় তো এই তিন গ্রহ, জানুন উপায়
অপরাধ করেই হোক বা বিনা অপরাধে জেলে যেতে কেউই চায় না। আর এই কারণেই জেলের নাম শুনলেই লোকের আতঙ্ক বেড়ে যায়। জেল যাওয়ার পরিস্থিতি জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে তখনই হয় যখন শনি, মঙ্গল ও রাহু দুর্বল অবস্থায় থাকে। জন্মছকে এই তিন গ্রহের উপস্থিতি ও এদের শুভ দৃষ্টির ওপর বিশেষ মাহাত্ম্য দেওয়া হয়ে থাকে। বিশ্বাস করা হয় যে যখনই এই গ্রহ অশুভ হয় তখন ব্যক্তির জেল যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। জ্যোতিষ শাস্ত্রে এটি বন্ধন যোগ নামেও পরিচিত।

শনি গ্রহ
জ্যোতিষ শাস্ত্রে শনিকে ক্রুর গ্রহ বলে মানা হয়। শনির গতি সবচেয়ে ধীর। এক রাশি থেকে দ্বিতীয় রাশিতে গোচর করতে শনির প্রায় দেড়বছর সময় লাগে। পৌরাণিক কাহিনীতে, শনি সব গ্রহদের মধ্যে দণ্ডাধিকারী গ্রহ নামে পরিচিত ছিল। জ্যোতিষ শাস্ত্রে শনিকে ন্যায়ের দেবতা বা বিচারকও বলা হয়েছে। আর এই কারণে শনির সাড়ে সাতি ও শনির ধাইয়া থেকে লোক ভয় পায়। যখন কারোর রাশিতে শনির সাড়ে সাতি ও ধাইয়া শুরু হয় তার সমস্যা বাড়তে শুরু করে দেয়।

মঙ্গল গ্রহ
মঙ্গল গ্রহকে উগ্র গ্রহ বলা হয়। রক্ত, রণভূমি, সাহস ও যুদ্ধের কারক হিসাবে মঙ্গল বিবেচিত হন। যাদের জন্মছকে মঙ্গল গ্রহ শুভ অবস্থায় থাকে তারা সাহসী হয়। এরা সেনা বা পুলিশ আধিকারিকও হয়। অন্যদিকে যখন মঙ্গল গ্রহ অশুভ হয় তখন সেই ব্যক্তি অপরাধী হয়ে যায়। তার রাগ বেড়ে যায়। ব্যক্তির ধ্বংসাত্মক গতিবিধির ওপর ঝোঁক বাড়ে। মঙ্গল অশুভ হলে ব্যক্তি ভুল কাজের জন্য জেলে যেতে পারে।

রাহু
জ্যোতিষ শাস্ত্রে রাহুকে পাপ গ্রহ বলে বিবেচনা করা হয়। রাহুর মহিমা বোঝা খুবই মুশকিল। এটি শুভ এবং অশুভ উভয় ফল দান করে। এই গ্রহ ফকিরকে রাজা ও রাজাকে ফকির বানিয়ে দিতে পারে। এই কারণে রাহুকে মায়াবি গ্রহ বলা হয়ে থাকে। এই গ্রহ অশুভ হলে ব্যক্তিকে খারাপ কাজে ফাঁসিয়ে দেয়। প্রতারিত করার স্বভাব চলে আসে আসে। যে কারণে এরা জেলেও যায়। তবে এই গ্রহদের শান্ত করার উপায়ও রয়েছে।

হনুমানজির পুজো
জেল যাওয়ার আতঙ্ক যদি আপনাকে গ্রাস করে তাহলে হনুমানজির পুজো করুন। মঙ্গলবার দিন হনুমানজির পুজো ও উপবাস করলে এই পরিস্থিতি থেকে স্বস্তি পাবেন। হনুমানজিকে এই বন্ধন থেকে মুক্ত করার জেবতা বলা হয়েছে। এইজন্য হনুমানজির পুজো অবশ্যই করা উচিত। এরকম করলে মঙ্গল গ্রহের অশুভতা দূরে থাকবে।

শনিদেবের পুজো
শনিবারের দিন শনিদেবকে উৎসর্গ করা হয়। এই দিনে শনি মন্দিরে শনিদেবের পুজো করা উচিত। এর সাথে শনি সংক্রান্ত জিনিসপত্র যেমন কালো বিউলির ডাল, কালো ছাতা, কালো কম্বল, গরীবদের সেবা করা সহ ইত্যাদি দান করলে শনিদেব প্রসন্ন হয়।

শিবের পুজো
শ্রাবণ মাস চলছে। এই মাস শিবের খুব প্রিয় মাস। ভগবান শিবকে হর হর মহাদেব বলে। অর্থাৎ যিনি সব কষ্ট নিজের মধ্যে নিয়ে নেন। ভগবান শিবের পুজো করলে রাহুর অশুভতা দূর হয়ে যাবে। যাদের জেল যাওয়ার ভয় রয়েছে তারা শিবের পুজো বিধি অনুযায়ী করলে এই ভয় থেকে রেহাই পাবেন।
(এই সকল তথ্য সম্পূর্ণ জ্যোতিষ শাস্ত্রের উপর নির্ভরশীল)












Click it and Unblock the Notifications