পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রথযাত্রা ঘিরে অজানা নানান ঘটনা একনজরে
পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রথযাত্রা ঘিরে অজানা নানান ঘটনা একনজরে
পুরীর জগন্নাথ ধামের রথযাত্রা ঘিরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের নজর থাকে। গত ২ বছরে করোনা পরিস্থিতির জেরে সেখানে মহা ধুমধাম সহকারে রথযাত্রা বের হয়নি ঠিকই। তবে এই রথযাত্রা ঘিরে বহু অজানা ঘটনা আজও ভক্তদের কৌতূহলকে জাগ্রত করে। জানা যাক পুরীর রথযাত্রার অজানা কিছু কাহিনি।

পুরীর তিন দেবদেবীর তিনটি রথের নাম
পুরীর রথযাত্রায় যে তিনটি রথ বের হয়, তার প্রতিটির আলাদা আলাদা নাম রয়েছে। জগন্নাথ যে রথে চড়েন, সেই রথের নাম নন্দীঘোষ রথ। বলভদ্র যে রথে চড়েন, তার নাম তালধ্বজ রথ। সুভদ্রা যে রথে চড়েন , তার নাম দেবদলনা রথ।

রথের কাঠ সম্পর্কে কী জানা যায়?
পুরীর পরম্পরা মেনে এই বিশেষ রথের নির্মাণের জন্য প্রয়োজন বিশেষ ধরনের কাঠ। সেই বিশেষ কাঠে নির্মিত হয় জগন্নাথ দেবের বিশেষ রথ। ফাসি, ভাউনরা, আসানা এই তিন ধরনে কাঠের প্রয়োজন হয় রথ নির্মাণে। কথিত রয়েছে রথের নির্মাণে ১,১০০ বড় কাঠের প্রয়োজন হয়। যা ১২ ধরনের কাঠ থেকে আসে। তা থেকে ৮ ফুটের বিশেষ ৮৬৫ টি গুঁড়ি বেছে নেওয়া হয়।

পুরীর রথযাত্রার কাঠ পরে কী করা হয়?
পুরীর জগন্নাথ মন্দিরকে এই বিশাল পরিমাণ কাঠ ওড়িশা সরকার বিনামূল্যে দেয় বলে জানা যায়। পরবর্তীকালে রথ পর্ব সমাপ্ত হলে, এই রথের কাঠ মন্দিরের পাকশালায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কাঠের চুলায় পর পর হাঁড়ি বসিয়ে রান্না করা হয় পুরীর মন্দিরের প্রসাদ। যে প্রসাদ কোনও দিনও অভূক্ত রাখেনি কাউকে। কোনও দিনও শেষও হয়নি।

২০৮ কেজির সোনা পরানো হয়!
জানা যায়, রথযাত্রার আগে জগন্নাথদেব, বলভদ্র ও শুভদ্রাকে ২০৮ কেজির সোনা পরানো হয়। প্রতি ১০ থেকে ১৯ বছর পর পুরীর মন্দিরে মূর্তিগুলিকে নতুন রূপে নিখুঁতভাবে তৈরি করা হয়। তারপর পালিত হয় নবকলেবর। এরপরই রথযাত্রার আগে প্রতি বছর ২০৮ কেজি সোনার গয়নায় সাজানো হয় জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রাকে।

বিশেষ পাকশালা
পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে রয়েছে এক বিশেষ রন্ধনশালা। সেখানে আগুনের আঁচের উপর পর পর হাঁড়ি বসিয়ে রান্না করা হয়। প্রতিটি হাঁড়ির খাবারই সম্পূর্ণ সেদ্ধ হয়। কথিত রয়েছে, এই পাকশালায় যা রান্না হয়,তা কোনও দিনওই পড়ে থাকে না। প্রতিটি মানুষ এখানে এসে খেতে পারেন।












Click it and Unblock the Notifications